ডাস্টবিনের দখলে সড়ক

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০১:২৩, জুন ১২, ২০১৯

সড়ক দখল করেই দিনের বেলায় ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও সরানোর কাজ করছে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা। এতে বাধ্য হয়েই ময়লার দুর্গন্ধ সহ্য করেই অস্বস্তিতে চলাচল করছেন পথচারীরা।

অথচ ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) এনে প্রসেসিং করার নির্দেশনা রয়েছে পরিচ্ছন্নকর্মীদের। কিন্তু সেটি না করে সড়কের ওপরই ময়লা প্রসেসিং করা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ এলাকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, শ্যামলীর আশপাশ এলাকার ময়লা-আবর্জনা এনে মূল সড়কের ওপরে রাখা হচ্ছে। সড়কের পাশেই শ্যামলী খেলার মাঠ ফলে ময়লার দুর্গন্ধে কিশোর-কিশোরীরা স্বস্তিতে খেলাধুলা করতে পারছে না। শ্যামলীর বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ গেটের মূল সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ করে রাখা হয়।

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশের সড়কেও একই অবস্থা। এসব ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন সকাল ১০টায় সরানোর নির্দেশনা থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের লোকজন তার তোয়াক্কা করে না। মিরপুর ২ নম্বর ৬০ ফিটের মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে যেতেই রাস্তার বামপাশে মূল সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়।

সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ভ্যানে করে বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা নিয়ে আসছে এবং রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে ফেলে যাচ্ছে। কয়েকজন টোকাই পচা ময়লার স্তূপ এদিক-ওদিক সরিয়ে ভাঙাচোরা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ইত্যাদি কুড়িয়ে কাঁধে চাপানো বস্তায় রাখছে। এভাবে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে মূল রাস্তা ও ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে।

ফলে নষ্ট হচ্ছে রাস্তার স্বাভাবিক পরিবেশ। একই অবস্থা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে। পুরান ঢাকার বাংলাদেশ খেলার মাঠের পাশেই তিন রাস্তার মোড়, ওই মোড়ে ময়লা স্তূপ করা হয়। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি এলাকায় যানজটে পড়ছেন বাসিন্দারা। এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছেন দুই সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

নিয়মনীতি না মেনেই প্রত্যেকে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করায় অসহায় হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। পথচারীদের দেখা যায়, নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করছে। কেউ কেউ হাত দিয়ে নাকমুখ চেপে ধরে চলাচল করছে।

পচা ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই এলাকাবাসী, পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়ছে। শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, ঘর থেকে বের হলেই ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে পথ চলতে হয়।

প্রতিদিন ভ্যান গাড়িতে ময়লা-আবর্জনা এনে বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউশনের পাশের রাস্তার ওপরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ময়লার দুর্গন্ধে বাসার দরজা-জানালা পর্যন্ত খোলা যায় না।

শ্যামলী বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউশনের ছাত্র রাকিব হাসান আশিক বলেন, পাশে ময়লার ডাস্টবিন থাকায় খুব অসুবিধা হচ্ছে। নামকরা একটি স্কুলের পাশে আবর্জনার ভাগাড় দেখে অবাক লাগে। সিটি কর্পোরেশন কেন এটি সরিয়ে নিচ্ছে না। ময়লার গন্ধে এখানকার পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষিত হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি— ময়লার ডাস্টবিনটি সরিয়ে নেয়া হোক।

বংশাল থাকার আব্দুল হাদি লেনের মোড়ের মাঝখানে মূল রাস্তার ওপরে ডাস্টবিন। এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী শাহজাহান মোল্লা নামক এক পথচারী বলেন, ডাস্টবিনগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটতে খুবই অসুবিধা হয়। দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে।

সিটি কর্পোরেশনের জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে আর রাস্তার ওপর দিনের পর দিন ময়লা ফেলছে। মূল সড়কের মোড়ে ময়লা স্তূপ করা হয়। ময়লার ভাগাড়ের কারণে জ্যাম বাধে। লোকজন চলাচল করতেই পারে না। পরিস্থিতি খুব সিরিয়াস, দেখেন কী অবস্থা! যখন ময়লা নিতে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি আসে, তখন রাস্তা বন্ধ হয়ে জ্যাম বেঁধে যায়।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. জাহিদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, এসটিএসে ময়লা-আবর্জনা এনে প্রসেসিংয়ের জন্য পরিচ্ছন্নকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া আছে। এরপরও পরিচ্ছন্নকর্মীরা নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় এসটিএস স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ একটু সচেতন হলেই আমরা নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে পারবো।

ডিএনসিসি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, ডিএনসিসি ইতোমধ্যে ৫১টি এসটিএস উদ্বোধন করেছে। পরিচ্ছন্নকর্মীরা নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করে এসটিএসের ভেতরে নিয়ে এসে প্রসেসিং করছে। সেখানে রাস্তার ওপর ময়লা প্রসেসিংয়ের কোনো কথা নয়। আর শ্যামলীতে ভ্যানগাড়িতে ময়লা সংগ্রহ করে রাস্তার ওপর প্রসেসিং করতে বিষয়টি নজরে আসেনি। রাস্তার ওপর যেন ময়লার ডাস্টবিন না থাকে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় আট হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব ময়লা আবর্জনা দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থানে থাকা কন্টেইনারে রাখা হয়। ফলে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীরা দুর্গন্ধের কবলে পড়তে হয়।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ২০১২ সালে এসটিএস স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। দুই সিটি কর্পোরেশনে ১২০টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও এ পর্যন্ত ৭২টি এসটিএস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।