শিরোনাম

সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা ৮ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০১:২০, জুন ১১, ২০১৯

*কমবে ভোগান্তি
*সাশ্রয় হবে সময় ও অর্থ
*দুশ্চিন্তা কমবে অভিভাবকদের
*পরীক্ষার নেতৃত্ব দেবে বাকৃবি
*শিক্ষার্থীর পছন্দের ভিত্তিতে
*পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটতে হয় ভর্তিচ্ছুদের। এতে ভোগান্তির শিকার হয় ভর্তিচ্ছুসহ অভিভাবকরা।

একই সাথে খরচ করতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এ জন্য গত এক দশক ধরে সমন্বিত বা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তিপরীক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

তবে দীর্ঘ সময়ের আলোচনা-সমালোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। আসন্ন শিক্ষাবর্ষ ২০১৯-২০ থেকে কৃষি ও কৃষিতে প্রাধান্য থাকা দেশের আট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একই দিনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমন্বিতভাবে ভর্তিপরীক্ষা নেবে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দৌরাত্ম্য কমবে।

এক দশকের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এ বছর থেকে যে আটটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষা নেবে সেগুলো হলো- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমধারার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা চালুর কাজটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে দেখভাল করছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এই ভর্তি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরের বছরগুলোতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বে থাকবে। ভর্তি ইচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী কোন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দেবে, তাও তাদের পছন্দের ভিত্তিতে ঠিক করা হবে। বর্তমানে দেশে স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ৪৯টি। এর মধ্যে ৪৫টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা হয়। এখন শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতা দুটোই বেড়েছে।

একজন শিক্ষার্থী ১০ থেকে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেন। ভর্তির সময় এলেই দেখা যায় একেকজন অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

এতে ছাত্রীরাই বেশি সমস্যায় পড়েন। এই ভোগান্তি কমাতে ২০০৮ সাল থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে এলেও সফল হয়নি। অভিযোগ আছে, আবেদন ফরম, খাতা ও পরিদর্শন ফি বাবদ যত টাকা খরচ হয়, তার কয়েকগুণ বেশি টাকা ভর্তি ইচ্ছুকদের কাছ থেকে আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভর্তিপরীক্ষার আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা রেখে তা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এই নিয়ম মেনে তা করে না বলে অভিযোগ আছে।

স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্বাতন্ত্র ধরে রাখার কথা বলে সমন্বিত ভর্তিতে রাজি হয় না। যেহেতু আলাদা আইনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে, তাই সরকার জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়েও দিতে পারে না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা বিবেচনা করে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উপাচার্যদের সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা চালুর পরামর্শ দেন।

এরপর এই পদ্ধতিতে ভর্তিপরীক্ষা নেয়ার তৎপরতা ইতিবাচক পথে এগোতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সমপ্রতি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হয় ইউজিসি। সেখানেই আটটি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিতভাবে ভর্তিপরীক্ষা নিতে রাজি হয়।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু এখনো রাজি হয়নি, তাই তারা আটটি বিশ্ববিদ্যালয় আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকেই গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তিপরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, পর্যায়ক্রমে একই ধারার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একেকটি গুচ্ছে এনে একটি ভর্তিপরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো।

যেমন এরপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একেকটি গুচ্ছ করে ভর্তিপরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইউজিসির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই সমন্বিতভাবে ভর্তিপরীক্ষা হওয়া উচিত।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর ধাপে ধাপে প্রযুক্তিসহ অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় এই পদ্ধতিতে ভর্তিপরীক্ষা নেবে বলে তিনি আশা করেন।

এদিকে, গত ৬ মে এক পত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তিপরীক্ষা নেয়া ও ভর্তি পদ্ধতির নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে ইউজিসিকে তাগিদ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ইউজিসির সুপারিশ পেলেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত