শিরোনাম

চট্টগ্রাম এখন পরিচ্ছন্ন নগরী

প্রিন্ট সংস্করণ॥এএইচএম কাউছার, চট্টগ্রাম  |  ০৩:১৩, মে ২৭, ২০১৯

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী মোড়। এই মোড়েই আগে ছিল ডাস্টবিন। ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো সব সময়। দুর্গন্ধে এই মোড় দিয়ে যাতায়াত করা ছিল কঠিন। সেই মোড়ে এখন কোনো দুর্গন্ধ নেই। ডাস্টবিনও নেই। ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ও নেই।

ওই মোড়ে এখন নান্দনিকতার ছোঁয়া। সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের কারণে বদলে গেছে এই চট্টেশ্বরী মোড়ের চেহারা। জহুর-মান্নান চত্বর নামকরণে এই মোড়ে এখন শোভা পাচ্ছে নান্দনিক স্থাপনা। শুধু এই চট্টেশ্বরী মোড়ই নয়, এভাবে নগরীর প্রতিটি মোড়ই সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে।

এদিকে গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি প্রকল্পের বদৌলতে চট্টগ্রাম এখন পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন এক হাজার ৯০০ পরিচ্ছন্নকর্মী রাতেই নগরীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকে। এছাড়াও ডোর টু ডোর ওয়েস্ট কালেকশনের মাধ্যমে বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনাও নিয়ে যাচ্ছে
পরিচ্ছন্নকর্মীরা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) এমন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পাল্টে দিয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এই চট্টগ্রামের চেহারা। অথচ, বছর পাঁচেক আগেও চট্টগ্রাম নগরী ছিল একটি অপরিচ্ছন্ন নগরী। এই নগরীর বিভিন্ন মোড় ও রাস্তার পাশে ছিল ডাস্টবিন। সেই ডাস্টবিন ভর্তি হয়ে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো রাস্তা পর্যন্ত।

দুপুর গড়িয়ে গেলেও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে আসতো না পরিচ্ছন্নকর্মীরা। এ কারণে চরম দুর্গন্ধে ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা ছিল দুরূহ ব্যাপার। এছাড়াও নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বড় বড় বিল বোর্ডের কারণে ঢেকে ছিল।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন ২০১৫ সালে চসিক মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করার পর গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি মেগা প্রকল্প হাতে নেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামকে সৌন্দর্য বর্ধন ও সবুজায়নসহ পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

প্রথমেই তিনি নগরীর যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বড় বড় বিল বোর্ড উচ্ছেদ শুরু করেন। বিলবোর্ড উচ্ছেদের পর নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন দৃশ্যমান হয়েছে। সেই সঙ্গে নগরজুড়ে এলইডি লাইটের কল্যাণে আলোকিত রাতের চট্টগ্রামও এখন বেশ দৃষ্টিনন্দন।

এর মধ্যে আকাশী-নীলে সাজতে যাচ্ছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কের দুপাশের স্থাপনা। সবমিলিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যের এক মডেল নগরীতে পরিণত হয়েছে এখন বন্দর নগরী চট্টগ্রাম।

গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমি যখন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাতে গিয়েছি, তখন অপরিচ্ছন্ন নগরী দেখে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি যদি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হই, তখন আমার প্রধানতম নির্বাচনি অঙ্গীকার হবে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। তাই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আমি গ্রিন সিটি কিল সিটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করি।

এই প্রকল্পের আওতায় অনেকগুলো ময়লা ফেলার গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে এবং দৈনিক ভিত্তিতে ১৯শ পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রাতের বেলাতেই নগরীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তারা।

এছাড়াও নগরীর অধিকাংশ এলাকা থেকে ডাস্টবিন তুলে নিয়েছি আমরা। ডোর টু ডোর ওয়েস্ট কালেকশনের মাধ্যমে বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনাও নিয়ে যাচ্ছে পরিচ্ছন্নকর্মীরা। ডোর টু ডোর ওয়েস্ট কালেকশনের জন্য নগরবাসীকে বিনামূল্যে নয় লাখ ময়লা ফেলার বিন দেয়া হয়েছে।

এর ফলে নগরী আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট রোড, টাইগারপাস রোড, লালখান বাজার, কাজীর দেউরী, আউটার স্টেডিয়াম, আন্দরকিল্লা, জামালখান, চট্টেশ্বরী মোড়, প্রবর্তক মোড় এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য কর্তৃক নৌকার ওপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল তৈরি করা হয়েছে।

নগরজুড়ে সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি সবুজায়নের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি প্রকল্পের আওতায় বদলে যেতে শুরু করেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। সেই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সত্যিকারের গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটিতে পরিণত করা হচ্ছে চট্টগ্রামকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত