শিরোনাম

দাওয়াতেও মন গলছে না রাজনেতাদের

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ০২:৪৬, মে ২৭, ২০১৯

রাজনৈতিক নেতাদের মন টলছে না দাওয়াতেও! বছরে একবার ইফতারকে কেন্দ্র করে সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষদের এক টেবিলে দেখা মিললেও এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দলের মতো ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানালে তারা কেউ সাড়া দেননি। অংশগ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে।

কিন্তু তার একদিন পরই ইফতারের দাওয়াত কার্ড নিয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান বিএনপি নেতারা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্য, ওইদিন তাদের নেত্রী দেশের বাইরে থাকবেন। আর সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ। অন্যরা যাবেন কি না দলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবেন।

গতকাল রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইফতারের দাওয়াত দিয়েছে বিএনপি। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ।

এসময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাওয়াতপত্র গ্রহণ করেন দলটির উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। পরে আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, বিকেল সোয়া ৪টায় আমরা আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেই।

আমাদের কাছ থেকে দাওয়াপত্র গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। আগামী ২৮ মে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। জানা গেছে, সেখানে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে কারাবিধি মোতাবেক দেয়া ইফতারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইফতার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জনপ্রতি ৩০ টাকা করে ইফতার করবেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়রুল কবির সাংবাদিকদের জানান, আগামী মঙ্গলবার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেছে বিএনপি। সেখানে অতিথি ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে কারাবিধি মোতাবেক দেয়া ইফতারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইফতার করবেন।

রাজনীতিবিদদের জন্য ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিএনপির কয়েকজন নেতা অতিথিদের জন্য যথারীতি দামি খাবারের আয়োজন করার প্রস্তাব দেন। তবে দলের নেতাদের জন্য কারাবিধি অনুযায়ী ৩০ টাকার ইফতার আয়োজনের প্রস্তাব ছিল তাদের।

যেহেতু একই টেবিলে বসে অতিথিদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ইফতার করেন, সেহেতু দুই ধরনের ইফতার আইটেম রাখা বাস্তবসম্মত নয়। সে কারণে বিএনপি নেতারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন, সবার জন্যই ৩০ টাকার ইফতার আইটেমের ব্যবস্থা করবেন তারা।

বিএনপি সূত্র বলছে, এই ৩০ টাকার ইফতারের প্যাকেজে থাকবে ছোট একটি পানির বোতল (যার দাম পড়বে ছয় টাকা), এক পিস খেজুর, এক পিস পেঁয়াজু, এক পিস বেগুনি, এক পিস ছোট জিলাপি, এক মুঠো মুড়ি এবং সামান্য কিছু ছোলা।

৩০ টাকার ইফতার আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে বরকত উল্লা ভুলু বলেন, ম্যাডাম কারাগারে ৩০ টাকার ইফতার খাচ্ছেন। সেই কারণে আমাদের সব ইফতার এখন ৩০ টাকার। আগামী ২৮ মে লেডিস ক্লাবে রাজনীতিবিদদের জন্য যে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে, সেখানেও আমরা ৩০ টাকার ইফতার খাবো। ক্যাটারিংকে সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা যোগ দিলে ভালো হতো।

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতারা শেখ হাসিনাকে বিএনপির ইফতারের আমন্ত্রণ জানাতে এলে তিনি তাদের এসব কথা বলেন। বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, গতকাল (শনিবার, ২৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রাজনীতিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন ছিল।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ইফতারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিলেও বিএনপি অংশ নেয়নি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে গণভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংলাপে শেখ হাসিনা যেসব দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, শনিবারের ইফতারেও সেইসব দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কার্ড আমরা আরামবাগে ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে দিয়ে এসেছি।

গতকাল (শনিবার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় তার বিশেষ সহকারী হিসেবে আমি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে আমন্ত্রণের বিষয়টি অবহিত করি।

তারা আমাকে জানিয়েছেন, তারা দাওয়াত পেয়েছেন, কিন্তু তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে আসতে পারবেন না। বিএনপির দাওয়াত প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বলেন, আজ আমরা আগামী ২৮ তারিখের ইফতার অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়েছি। তাদের কেন্দ্রীয় তিন নেতা এসে আমাদের দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দিয়েছেন।

বিএনপির দাওয়ার কবুল করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ২৮ তারিখ সকালেই জাপান সফরে রওনা হবেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি থাকতে পারছেন না। আর সাধারণ সম্পাদক কিছু দিন আগেই চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। আজ মাত্র দাওয়াত পেয়েছি। দলীয় হাইকমান্ডে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত