শিরোনাম

সতর্কতা অনুসরণ করছেন মন্ত্রীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০১:৩০, মে ২৬, ২০১৯

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই নানান গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো। সেটা অবশেষে সত্যি হলো মন্ত্রিসভায় প্রথম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। কিছু মন্ত্রীর দায়িত্ব কমিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার কিছু প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন এবং নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এখন মন্ত্রীরা তাদের কাজকর্ম করছেন খুব ভেবে-চিন্তে। কি না জানি হয়— এমনই শঙ্কা নিয়ে কাজ করছেন যে যার মন্ত্রণালয়ে। গত দুমাস আগে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আসছে এমন খবরে নড়েচড়ে বসেছিলো প্রশাসনের সর্বোচ্চ জায়গা সচিবালয়।

তবে চলতি মাসে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এখন বেশিরভাগই মন্ত্রির দপ্তরে চলছে কানা ঘুষা— কে না জানি আবার বিদায় হয়, কার দপ্তরে কে আসবে এমনও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

চলতি বছরে মন্ত্রিসভা গঠনের পরে নতুন সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি সবাইকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখবেন। তিনি বলেন, কে কী করছেন তা দেখার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে কঠোর নজরদারিতে রাখব।

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে প্রথমে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য জানা ও বোঝার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারপর আপনারা দায়িত্ব কমিয়ে নিতে পারবেন। নতুন মন্ত্রিসভা একশ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করলেও আগের মেয়াদের মন্ত্রিসভার তুলনায় এবার কাজের গতি অনেকটা কমে আসছিল বলে অনেকেই মনে করছিলেন।

বিশেষ করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে কাজে গতি একেবারেই কমে যাওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হয়। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে দৃশ্যত কাজের গতি ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কিছুটা দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক ও প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্য হয়ে পড়েছিল।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এমন দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় তিনি ডা. মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন বলে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া পুনর্বণ্টনকৃত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছিল।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছিল। এ কারণেই মন্ত্রণালয়গুলোর কাজকর্মে কিছুটা হলেও স্থবিরতা দেখা দেয়। এ বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টনের এমন সিদ্ধান্ত নেন বলে সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা

আমার সংবাদকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী খুব এক্সপার্ট। উনি একাই যথেষ্ট। হয়তো বা তথ্য মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আসলে এ বিষয়টা বলা খুবই কঠিন প্রাধনমন্ত্রী যাকে যেখানে যোগ্য মনে করেছেন সেখানেই দায়িত্বে পাঠিয়েছেন। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, খুব দ্রুতই বেশকিছু মন্ত্রণালয়ে রদবদল হবে। এখন প্রত্যেক মন্ত্রণালয় নিজ নিজ অবস্থানে কাজের প্রতি খুব সতর্ক আছে বলে জানান তিনি।

আগামী ১৩ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুনমুখ দেখা যাবে বলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমেই শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যেও আসছে নতুন প্রতিমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জনিয়েছে এবার নতুন মন্ত্রিসভায় কমপক্ষে আরও দুজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও সবমিলিয়ে মোট সাতজন নতুন সদস্য আসার সম্ভাবনা।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৮টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন দল। জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৯ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট পায় ৮ আসন।

তিনটি আসনে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী। এরপর ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে ৪৬ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই মন্ত্রিসভায় ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী রয়েছেন। দলের হেভিওয়েট নেতাদের প্রায় সবাইকে বাদ দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত