শিরোনাম

ঈদে বিশেষ নজরদারিতে ফেসবুক

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা  |  ০৩:১০, মে ২৫, ২০১৯

সামনে আসছে ঈদুল ফিতর। এই ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদ, ঈদগাঁ ময়দান, বিভিন্ন মার্কেট, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও চেকপোস্ট থাকবে।

এসব কাজে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে কমিউনিটি পুলিশও তৎপর থাকবে। স্থানীয় থানা পুলিশ যদি মনে করে, জনবহুল জায়গা বা মার্কেটগুলোতে তাদের কাজে খাটাতে পারে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে গত বছরের মতো এবার নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা ভাবাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও জঙ্গিবাদ। এজন্য এ বছর এই দুই ইস্যু নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারো ঈদের আগে, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিনগুলোতে রাজধানী ঢাকার প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) পুলিশের সব ইউনিট নিজেদের মতো সভা করে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর রাজউক ভবনের সামনে, মতিঝিল, শাহবাগ, হাতিরঝিল, এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি চেকপোস্টে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকার রিকশাগুলো ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।

আবার প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনেও তল্লাশির সময় যাত্রীদের মানিব্যাগ, মোবাইল, ব্যাগ ইত্যাদিও হাতিয়ে দেখেন পুলিশ সদস্যরা। আর এভাবে যাদের তল্লাশি করা হচ্ছে তাদের অধিকাংশই যুবক। এ ছাড়া বিভিন্ন কার্টন, ব্যাগসহ মালামালবাহী প্রতিটি রিকশা, ভ্যানগাড়ি, পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

তাছাড়া, নগরীর রমনা, মতিঝিল, গুলশান, উত্তরা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, আদাবর, মিরপুর, বারিধারা ও পুরান ঢাকার লালবাগ, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের টহল ছাড়াও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

ঈদের নিরাপত্তায় কমিউনিটি পুলিশের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সহেলি ফেরদৌস বলেন, ঈদ পূর্ববর্তী, ঈদের সময় ও ঈদ পরবর্তী সময়ে রাজধানীসহ সারা দেশের নিরাপত্তায় কমিউনিটি পুলিশের প্রতি তেমন কোনো নির্দেশনা নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন বা থানা পুলিশ যদি মনে করেন, ঈদের সময় নিরাপত্তার জন্য তাদের কাজে লাগাতে পারে। বিশেষ করে ঈদের মাঠ বা জনবহুল এলাকা এবং মার্কেটগুলোতে।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই বাড়তি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। ঈদের ছুটিতে অনেকে গ্রামে চলে যাবেন। এ কারণে রাজধানীতে অনেক বাসা-বাড়ি ফাঁকা থাকবে। এ সময় প্রতিটি থানা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। পাড়া-মহল্লার প্রতিটি সড়কেই পুলিশের টহল বাড়ানো হবে। এ ছুটির দিনগুলোতে অপরাধীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে পুলিশ।

অপরদিকে সড়কের নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজধানীর প্রায় সব থানার নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আবার থানার গেটেও আগত ব্যক্তির পরিচয় জেনে ভেতরে ঢোকানোর চিত্র দেখা গেছে।

আবার অনেক থানার প্রধান গেটে একাধিক কনস্টেবল আগতদের নাম-পরিচয় ও থানায় আসার উদ্দেশ্য জানতে দেখা গেছে। এরপর তাদের থানার ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়।

ঈদের নিরাপত্তাকে সামনে রেখে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডেকে নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি এই ঈদে জঙ্গি ও উগ্রপন্থিদের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতাসহ অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্ত্রিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত