শিরোনাম

সাংবিধানিক অধিকার হরণের খেলায় মত্ত!

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০৭:৩২, মে ২৪, ২০১৯

*হাইকোর্টের আদেশ মানছে না
*নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থাকার দরকার কি—প্রশ্ন হাইকোর্টের
*ভেজাল ৫২ পণ্য রেখেই বিদেশ ভ্রমণে চেয়ারম্যান

নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি দেশের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব দিয়েই নির্দিষ্ট আইন ও বিধি-প্রবিধি নির্ধারণ করে প্রায় ১৮টি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের ৪৮০টি সংস্থার সমন্বয়ে সৃষ্ট নিরাদ খাদ্য কর্তৃপক্ষই উল্টো জাতির সাংবিধানিক অধিকার হরণের খেলায় মত্ত রয়েছে।

খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে গিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা না করেই হাইকোর্টের নির্দেশে নির্দিষ্ট কয়েকটি ভেজাল পণ্যই বাজার থেকে সরাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এ কর্তৃপক্ষ।

যা নিয়ে গতকাল হাইকোর্ট এ কর্তৃপক্ষকে ব্যাংকের কেরানিগিরি করার কথা বলেন। কিন্তু এতেও কর্তৃপক্ষের কিই বা আসে যায়। হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেইতো চলমান নামকাওয়াস্তে কার্যক্রমের মধ্যেও দেশের বাইরে ভ্রমণে গিয়েছেন এ কর্তৃপক্ষের

চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক। ভেজাল পণ্য সরানো নিয়ে যেন তাদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। বছরে ১৬ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করেও এ কর্তৃপক্ষের নেই দৃশ্যমান সফলতা। দু-একটা গণবিজ্ঞপ্তি কিংবা নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতেই প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যেন আমোদ-প্রমোদ আর বিদেশ ভ্রমণেই ব্যস্ত এবং এটাই যেন এ কর্তৃপক্ষ সৃষ্টির মূল লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের উদ্বিগ্নতার সৃষ্টি হলেও নিজেদের দায়িত্ব কিংবা জাতির নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষে ১৭ জন কর্মকর্তা নিয়ে সৃষ্ট এ কর্তৃপক্ষ যেন তামাশার আরেক নাম।

জাতির সঙ্গে তামাশায় যেমন- তেমন স্বয়ং হাইকোর্টের নির্দেশনাকেও উপেক্ষ করে চলছে এ কর্তৃপক্ষ।
বাজারে বহুল প্রচলিত মানহীন ৫২ পণ্য নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষা করার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পাচ্ছে এ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা।

বাজার থেকে মানহীন ৫২ পণ্য সরানোর নির্দেশনা দিয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাইলেও হাইকোর্টে কোনো প্রতিবেদনই জমা দেয়নি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। খাদ্য নিরাপত্তার নিমিত্তে সৃষ্ট কর্তৃপক্ষ আজ জাতির জন্য ধোঁকাবাজির এক সংস্থার নাম। গতকাল এ কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

এদিকে বাজার থেকে মানহীন এসব পণ্য সরানোর নির্দেশ এবং এ সংক্রান্তে চাওয়া প্রতিবেদন জমা না দিয়েই কেন দেশের বাইরে গিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক— এমন প্রশ্নেরও কোনো উত্তর মেলেনি।

অথচ তার এ ভ্রমণকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে— মানহীন পণ্য বাজার থেকে সরানো কিংবা আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেন জাতির সঙ্গে তিনি তামাশা করছেন। গতকাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অফিস সহকারী শামীমকে ফোন করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মাহবুব কবীরের ফোন নম্বর চাইলেও তিনি দিতে পারেননি।

যে কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানের মন্তব্যও জানা যায়নি। এদিকে জানা যায়নি চেয়ারম্যান মাহফুজুল হকের বিদেশ ভ্রমণের কারণও। গতকাল আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীকে বলেন, আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না, ৫২ পণ্য নিয়ে হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন?

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, আপনাদের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অফিসে রাখার দরকার কী? আপনারা তো ব্যাংকের কেরানিগিরি করতে পারেন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এখানে থাকার দরকার কী? বাসায় গিয়ে রান্নাবান্নার কাজ করুন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ মানেনি। এখনো মানহীন পণ্য বাজারে আছে। তারা চোখের ধোঁকা দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন আদালত। আদালত আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১৭ জন জনবল নিয়েও আপনারা একটা দোকান থেকে কোনো পণ্য সরাতে পারেননি।

১৭ জনের দলবল নিয়ে অফিসের পাশের কোনো দোকান থেকে একটা প্যাকেটও সরাতে পারেননি। এসময় আদালত নিম্নমানের ৫২ পণ্য বাজার থেকে না সরানোর কারণে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব করেন। আগামী ১৬ জুন তাকে আদালতে হাজির হয়ে বাজার থেকে ৫২টি পণ্য না সরানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

এছাড়া নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা কেন অবৈধ হবে না— জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব ভোক্তা অধিকারকে বাজার থেকে নিম্নমানের সব পণ্য সরাতে বলা হয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত