শিরোনাম

নির্মাণ হচ্ছে ৬৬ ত্রাণগুদাম

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০১:২৬, মে ২৩, ২০১৯

দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দুর্যোগ সময়ে খাদ্যশস্য পাঠানো ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য সরবরাহ করতে সরকার জেলা ত্রাণগুদাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে।

এই নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি জেলায় সর্বমোট ৬৬টি ত্রাণগুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা ত্রাণ গুদামে খাদ্যশস্য, ঢেউটিন, কম্বল ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হবে।

এ ছাড়াও শুকনা খাবার রাখা হবে। এই খাবার এবং পণ্য বিভিন্ন জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অতি ক্রাইসিস মুহূর্তে দ্রুত সরবরাহ করা হবে। প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে হাওর অঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা।

ঘূর্ণিঝড় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮০টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে।

সমুদ্র উপকূলে অবস্থানের কারণে ঝড়-সাইক্লোন-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় পতিত হয় বাংলাদেশ। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া বড় ঘূর্ণিঝড়গুলো হলো- সিডর, আইলা, মহাসেন, মোরা ও সর্বশেষ আঘাত হানে ফণী। প্রত্যেকবারই এসব ঘূর্ণিঝড়ের সময় সরকার বিভিন্ন জেলায় অনেক কষ্ট করে ত্রাণসামগ্রী পাঠায়।

অনেক সময় খারাপ আবহাওয়ায় ত্রাণ পাঠাতে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতেই মূলত প্রতিটি জেলায় ত্রাণ গুদাম তৈরি করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র করা হবে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, আমরা ইজিপিতে টেন্ডার করেছি। টেন্ডার ওপেনিং হয়ে গেছে এখন মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে।

খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। আবদুর রহমান বলেন, ৬৪ জেলায় ৬৬টি ভবন হবে এর মধ্যে ঢাকায় ২টি এবং পটুয়াখালীতে ২টি ভবন করা হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ভবন তিন তলাবিশিষ্ট হবে। ২য় তলায় ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম থাকবে।

এর মাধ্যমে আমরা সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রের সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবো। নিচতলা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখানে অগ্রিম খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন মালামাল সংরক্ষণ করা হবে।

আগে আমরা ত্রাণসামগ্রী রাখার পর্যাপ্ত জায়গা পাইনি। এখন এ সমস্যা কাটিয়ে উঠবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সহজে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিন তলায় রেস্ট হাউজ করা হবে। এখানে যারা কাজ করবে দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান এ নির্বাহী প্রকৌশলী।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেই দেশের বিভিন্ন সংস্থা তৎপর হয়ে যায়। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে তখন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার তৈরি রাখতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। অনেক সময় বেশি খারাপ আবহাওয়ার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছানো যায় না। তখন দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনগণ অনেক কষ্ট করে বেঁচে থাকে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা ত্রাণ গুদাম যদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায় তাহলে সাধারণ জনগণের কষ্ট অনেকটায় লাঘব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত