শিরোনাম

পাটকল ও ধান নিয়ে অপরাজনীতি!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০১:০১, মে ২৩, ২০১৯

জনগণের কল্যাণে রাজনীতি বলা হলেও এখন রাজনীতির বলি হচ্ছেন জনগণই। জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো জনগণকে উস্কে দিয়ে অসন্তোষ বাড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন এবং ধানের ন্যায্যমূল্য ইস্যুতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে একটি মহল।

শ্রমিক আন্দোলন সহিংস এবং ধানক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের মতো স্যাবোটাজ ঘটিয়ে জনগণকে বিক্ষুব্ধ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। যা নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের টনক নড়েছে। তথ্য মতে, বেতন-ভাতার দাবিতে খুলনার পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থ দিয়ে সহিংস করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীর মাধ্যমে অর্থ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সমপ্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে এই ষড়যন্ত্রের আভাস মিলেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মধ্যকার ওই ফোনালাপ নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করেছে।

ফোনালাপে অর্থ দিয়ে আন্দোলন বেগবান করার জন্য মঞ্জুকে নির্দেশনা দেন রিজভী। এর আগে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন উস্কে দিতে বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি ফোনালাপও ফাঁস হয়েছিল।

এদিকে, ধান উৎপাদনের চেয়ে বাজার মূল্য কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সারাদেশের কৃষকরা। বিভিন্ন স্থানে ধানের ন্যায্যমূল্য পেতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এ ছাড়া একাধিক স্থানে নিজ ধানক্ষেত্রে আগুন দিয়েছেন কৃষকরা।

দাম কম হলেও নিজ ধানক্ষেত্রে আগুন দেয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছেন সবাই। প্রশ্ন উঠে- সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ইস্যুটি উস্কে দিতে স্যাবোটাজ করা হচ্ছে। এর পেছনে বিএনপির একটি অংশের হাত রয়েছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা।

সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেলক হক বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ অশান্ত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে রিজভীর ফোনালাপে বিএনপির আসল চেহারা আবারো প্রকাশ হলো। প্রমাণ হলো- বিএনপি দেশের মঙ্গল চায় না, জনগণের কোনো কল্যাণ চায় না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণকে হাতিয়ার বানানোর অপরাজনীতি করছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, বিগত সময়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার পতনের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নিরাপদ সড়ক দাবিতে আন্দোলনের সময়ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারকে মারমুখী অবস্থানে আনতে আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেয়ার তৎপরতা দেখা গেছে।

এখন পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন ও ধানক্ষেত্রে আগুন দিয়ে তবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা করছে। তবে সরকারের সহনীয় মনোভাব এবং কড়া নজরদারির কারণে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, এবারো হবে না।

কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে। এ ছাড়া গতকাল বুধবার কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার।

আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ বহাল রেখে রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সকল পণ্যের উপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে।

ফলে, চাল আমদানির ক্ষেত্রে এখন ৫৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। আগে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। তা বাড়িয়ে বর্তমানে ৫৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন এই সিদ্ধান্তে চাল আমদানিতে শুল্ক বাড়লো প্রায় দ্বিগুণ।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রায় তিন লাখ তিন হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এতে কৃষক উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে, প্রান্তিক কৃষক আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষককে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষায় চালের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের পর ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার মতো ঘটনায় বিস্মিত সরকার। এর পেছনের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ধানক্ষেতে আগুন দেয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে।

এখানে ঘটনাগুলো স্যাবোটাজ কি না, আর কেউ কোনোভাবে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, এরকম সংকটের উদ্ভব হতে পারে, কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন? প্রধানমন্ত্রী এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন।

এ ছাড়া দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজখবর নেবো। ফোনালাপের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গত ১২ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে তা ভাইরাল হয়। এরপরও কয়েকটি স্থানে ধানক্ষেত্রে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনাটিকে ‘স্যাবোটাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী সাধণ চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকারকে বিপদে ফেলতে ও বিব্রত করতে একটি অশুভ চক্র কৃষকদের উস্কানি দিয়ে ধানের জমিতে আগুন দিয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত