শিরোনাম

ওয়াসার এমডির কাছে সুপেয় শব্দটির ব্যাখ্যা চান এমপিরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০৮:২০, মে ১৭, ২০১৯

ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ময়লা পানি সরবরাহ, বিভিন্ন এলাকায় পানি না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

‘রাজধানীর ৯১ শতাংশ মানুষ পানি ফুটিয়ে খান’ সমপ্রতি টিআইবির এমন মন্তব্যের পর ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিন এ খান তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিন এ খান দাবি করলেও তারই স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে রাজধানীর ১০টি অঞ্চলের ৫৯টি এলাকায় ময়লা পানির তথ্য উঠে এসেছে।

এর প্রেক্ষিতে এমপিরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সুপেয় শব্দটির ব্যাখা ওয়াসার এমডির কাছে চাই। ঢাকাবাসীর সাথে কি উনি মজা করছেন? আমাদের দেশে দায়িত্বশীল পদের ব্যক্তিরা তাদের সম্মান অনুযায়ী কথা বলেন না। তাদের সম্মান তারা নিজেরাই নষ্ট করছেন। দায়িত্বশীল পদের লোকদের বাচনভঙ্গিও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

অনুমতি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিন এ খানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি।এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্য এমপিরা।

এবিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এমডির অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সুদত্তর দিতে পারেননি। পরে কমিটির পক্ষ থেকে পরবতী বৈঠকে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

কমিটি সূত্র জানায়, ঢাকা ওয়াসার পানির মান ও চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াসার এমডিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে কমিটির সভাপতি মো, আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠক শুরু হলেও তিনি উপস্থিত হননি।

অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে উপস্থিত সচিবের কাছে কমিটির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমডিকে পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়। ওভার টেলিফোনেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে তিনি জানেন না।তাকে যথাযথভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য বার্তা দিলেও তিনি কেন আসেননি তার প্রকৃত কারণ তিনিই বলতে পারবেন।

সূত্র আরও জানায়, সচিবের বক্তব্যের পর কমিটির সভাপতি আবদুস শহীদ, কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপসসহ উপস্থিত কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুপস্থিতির কারণ তার আগেই জানানো ছিলো বলে তারা মন্তব্য করেন। কমিটির পক্ষ থেকে অনুপস্থিতির কারণ জানানোর পাশাপাশি পরবর্তী বৈঠকে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য বলেন।

এছাড়া বৈঠকে জনবহুলপূর্ণ ঢাকাবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহ করার জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মতো ঢাকা উত্তর ওয়াসা ও ঢাকা দক্ষিণ ওয়াসা করার সুপারিশ করা হয়। রাজধানীতে পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ ওয়াসার সরবরাহ করা পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।

‘রাজধানীর ৯১ শতাংশ মানুষ পানি ফুটিয়ে খান’ সমপ্রতি টিআইবির এমন মন্তব্যের পর ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিন এ খান তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। তার এমন মন্তব্যের পর থেকে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তোলপাড় শুরু হয়। নানা তীর্যক মন্তব্য করে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দল বেঁধে ওয়াসা ভবনে এসে এমপিকে শরবত খাওয়ানোর মতো অভিনব প্রতিবাদও করেছেন গ্রাহকরা। এসব ঘটনার পর সংসদীয় কমিটি ওয়াসার এমডিকে কমিটির বৈঠকে তলব করে। কিন্তু বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব আসলেও এমডি আসেননি।এমনকি না আসার কারণ জানিয়ে তিনি কোনো চিঠিও দেননি।

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বেশকিছু প্রকল্পের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি। কমিটি বৈঠকে আলোচনা শেষে এবিষয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে আগামীতে নতুন কোনো প্রকল্প নেয়ার আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়।

এদিকে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন গৃহীত প্রকল্পের বিষয় আগামী দুমাসের মধ্যে মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রদানের জন্য কমিটি সুপারিশ করে। এছাড়া ঢাকার বাইরের সিটি কর্পোরেশনের কোনো কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ব্যাখ্যাসহ আগামী বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত