শিরোনাম

৪৩ বছরে ৪৯৬ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রিন্ট সংস্করণ॥নাজমুল আহসান রাজু  |  ০২:১৭, মে ১৬, ২০১৯

গত চার দশকে ৪৯৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে দেশের কারাগারগুলোতে। সামরিক শাসনামলে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৭ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ৩২০ জনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে আরেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৬ সালে ২২ জনের।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এগিয়ে আছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (বর্তমানে পরিত্যক্ত)। এ কারাগারে সর্বোচ্চ ১৭৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার। ১২৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এখানে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর হয়েছে ৮৭ জনের মৃত্যুদণ্ড।

দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। বিচারক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ দণ্ড কার্যকর করতে হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল ও রিভিউ করার সুযোগ থাকে সংক্ষুব্ধ পক্ষের। আপিলের পর আসামি রিভিঊ করার পর তা হলে কারাবিধি অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হলো হাইকোর্টের সমপর্যায়ের আদালত। সেখানে রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে আপিল ও রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে আসামিদের। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ছয় আসামির প্রত্যেকে রিভিউ করেছিলেন। তাদের রিভিউ খারিজ হওয়ার পরই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায় গত চার দশকের ১৯৭৬ সালে তিনজন, ’৭৭ সালে ৩২০ জন, ’৭৮ সালে চারজন, ’৭৯ সালে একজন, ’৮০ সালে আটজন, ’৮১ সালে ১০ জন, ’৮২ ও ’৮৩ সালে ছয়জন করে, ’৮৫ সালে ১৩ জন, ’৮৬ সালে ২২ জন, ’৮৭ ও ’৮৮ সালে একজন করে, ’৯২ সালে পাঁচজন, ’৯৩, ’৯৪ ও ’৯৭ ও ২০০১ সালে দুইজন করে, ২০০২ ও ২০০৩ সালে তিনজন, ২০০৪ সালে ১৩ জন, ২০০৫ সালে পাঁচজন, ২০০৬ সালে তিনজন, ২০০৭ সালে সাতজন, ২০০৮ সালে আটজন, ২০০৯ সালে চারজন, ২০১০ সালে ৯ জন, ২০১১ সালে পাঁচজন, ২০১২ সালে একজন, ২০১৩ সালে দুইজন, ২০১৫ সালে চারজন, ২০১৬ সালে ১৭ জন, ২০১৭ সালে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সর্বশেষ একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে চলতি বছরের ২ মার্চ।

সূত্র আরো জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৭৭, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ১২৯, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৮৭, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২৭, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে চার, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে চার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আট, গাজীপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে আট, বগুড়া জেলা কারাগারে ১৬, ফরিদুপর জেলা কারাগারে দুই, খুলনা জেলা কারাগারে চার ও পাবনা জেলা কারাগারে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে গত চার দশকে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাঁচ যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

বর্তমানে পরিত্যক্ত এ কারাগার স্থান্তান্তর করা হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর আবদুল কাদের মোল্লার, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের, ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুহাজিদ ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর, ২০১৬ সালের ১১ মে মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ওইদিন রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার দণ্ড কার্যকর করা হয় মীর কাশেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগারে প্রথম কোনো যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।

সৌদি দুতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে গত মার্চ ২। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ওইদিন রাত ১০টা ১ মিনিটে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটে শাজনীন তাসনিম রহমান হত্যা মামলায় গৃহকর্মী শহীদুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে। হত্যাকাণ্ডের শিকার শাজনীন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মেয়ে। একই বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ আসামি শহীদুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে হয়েছিল।

চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর। ওইদিন রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। দণ্ড কার্যকর হওয়া দুই আসামি আবদুল মকিম ও ঝড়ুর নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন।

তারা দুইজনই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। একই বছরের ১১ এপ্রিল ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজন নিহত হওয়ার মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান ও তার দুই সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওইদিন রাত ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মুফতি হান্নান ও হুজি-বির সদস্য শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আরেক হুজি সদস্য দেলোয়ার হোসেন রিপনের মৃত্যুদণ্ড একই সময়ে কার্যকর হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর ঝালকাঠির দুই বিচারককে হত্যার দায়ে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় খুলনা জেলা কারাগারে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ আসাদুল ইসলাম ওরফে আরিফের রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন।

একই বছরের ১৩ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দারাগাওয়ের নাইনকা রবিদাস হত্যা মামলায় আসামি মাকু রবিদাসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। এ ছাড়া ১২ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইর অটো রিকশা চালক রেজাউল করিম ওরফে আজিজ হত্যা মামলায় দুই আসামি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত