শিরোনাম

নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিভক্ত ছাত্রলীগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৩৯, মে ১৫, ২০১৯

নব গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে দেশের সবচে বড় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কমিটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা।

অন্যদিকে, কমিটি বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ সাবেক কমিটির একটি বড় অংশ। গত সোমবার বিকাল থেকে উভয় গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় কয়েক দফা দুগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন ও রাতেও ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করেছে।

তথ্য মতে, দীর্ঘ এক বছরের মাথায় গত সোমবার ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নব ঘোষিত কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদলের কর্মী, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী, হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিসহ বিতর্কিতদের স্থান দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে শুধু স্থান নয়, গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। মূলত তারা সবাই বর্তমান সভাপতি-সম্পাদকের অনুসার হওয়ার কারণে এই নবঘোষিত কমিটিতে স্থান পেয়েছে বলে ছাত্রলীগের একটি অংশ দাবি করছে।

এদিকে ওইসব বিতর্কিত নেতারা ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ার কারণে দায়িত্বশীল ও যোগ্যতাভিত্তিক পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতারা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখার দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের অনেক নেতা কাঙ্ক্ষিত পদ বঞ্চিত হন। অপেক্ষাকৃত জুনিয়র ও অচেনা মুখ আনা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

এসব অভিযোগে সোমবার বিকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বিক্ষোভ করেন কাঙ্ক্ষিত পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীর। গতকাল মঙ্গলবারও বঞ্চিতরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

শুধু ওই সকল নেতারাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের দায়িত্ব প্রাপ্ত ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশ নেন। মঙ্গলবার সারাদিন বিক্ষুব্ধরা বর্তমান কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। বিতর্কিত কমিটি, মানি না মানব না’, ‘আমার পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবনাসহ ইত্যাদি স্লোগানে তারা মধুর ক্যানটিন মুখরিত করে তোলেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। তা না করা হলে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই হুমকি দেন নবঘোষিত ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিদায়ী সোহাগ-জাকির কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু বলেন, বিগত দিনগুলোতে যারা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক মূল্যায়ন না করে ছাত্রলীগে নিস্ক্রিয়, সাবেক চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে আজীবন ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃতসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে।

এমন ব্যক্তিদের পদায়ন ছাত্রলীগের একজন নিবেদিতপ্রাণকর্মী হিসেবে আমাদের ব্যথিত করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে আরও খোঁজ-খবর নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।

দাবি মানা না হলে অনশন, বিক্ষোভ ও একযোগে গণপদত্যাগ করা হবে বলে হুমকি দেন নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিপু ইসলাম তন্বী। ছাত্রলীগের শামসুন্নাহার হল শাখার সভাপতি তন্বী ডাকসুরও সদস্য।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সেক্রেটারি আল-আমিন রহমান, রোকেয়া হল ছাত্রলীগ সভাপতি বিএম লিপি।

কুয়েত-মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সেক্রেটারি শ্রাবনী শায়লা, সেক্রেটারি জিয়াসমিন শান্তা, সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সেক্রেটারি সারজিয়া শারমিন শম্পা , জসীম উদ্দিন হল ছাত্রলীগের সেক্রেটারি শাহেদ খান, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ সেক্রেটারি আরিফ হোসেনসহ আরও পদবঞ্চিত অনেকেই।

এর আগে সোমবার বিকালে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যান্টিন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন অর্ধশত নেতাকর্মী। যাদের কেউ পদ পাননি, কেউবা কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ। ওই সংবাদ সম্মেলন শুরুর পরপরই সেখানে হামলা চালিয়ে তা ফ্লপ করে দেয় ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ। হামলার নেতৃত্ব দেন নবঘোষিত কমিটির কয়েক জন নেতা।

এসময় উভয়র পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত কয়েকজন নেত্রীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ক্ষামতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে এমন ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়। নিজ সংগঠনের এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রলীগ।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— নতুন কমিটির সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন সাহাদাত এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন। তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নবঘোষিত কমিটির সহসভাপতি ও তদন্ত কমিটির দায়িত্ব পাওয়া আল নাহিয়ান খান জয় আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের দায়িত্ব দেওয়ার পর আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করি একটি সুষ্ঠু প্রতিবেদ তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিবো।

এদিকে, গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত পদবঞ্চিতরা। রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোমবার সংবাদ সম্মেলনের সময় যারা হামলা করেছে তাদের দিয়েই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা এই কমিটি মানি না। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নিদের্শেই এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্রলীগের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে গত সোমবার পদবঞ্চিত নেতাদের সাথে নবগঠিত নেতাদের সংঘর্ষের পর আহত হন শ্রাবনী দিশাসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী। গতকাল আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে পড়েন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বান। নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাপতি-সম্পাদকের কঠোর সমালোচনা করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘ এক বছর পর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনার পারদ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ঘোষিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অনুসারীরা পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এমন পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ মিছিলকে বড় করে দেখছে না আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগের মারামারি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি খুবই সামান্য একটি ঘটনা।

নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। গতকাল ধানমণিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনার মাধ্যমে ওই সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন হানিফ।

যাদের ঘিরে বিতর্ক : ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট ওই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। রয়েছেন মাদকসেবী, ঠিকাদারী ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্কিয় ও অছাত্ররাও। এর মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, আরেফিন সিদ্দিকী সুজন, আতিকুর রহমান খান, বরকত হোসেন হাওলাদার ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিনুল হক চৌধুরীকে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটির ২ নম্বর সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, সহসভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ ও সোহেল রানার বয়স ৩০ বছরের বেশি। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের সদস্য পদই থাকার কথা নয়। মাদারীপুরের বাসিন্দা তানভীর ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ৫ নম্বর সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিকী সুজনকে এক সময় ইয়াবা সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

৬ নম্বর সহসভাপতি আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও ইয়াবা সেবন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মল চত্বরে পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ৭ নম্বর সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন বরকত হোসেন হাওলাদার। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

২০ নম্বর সহসভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান হিমেল প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারি ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) পড়াশোনা শেষ করে ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হন। আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসানের পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গোপালগঞ্জে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষারের বিরুদ্ধে পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে। ছাত্রলীগের ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া প্রদীপ চৌধুরী ২০১৪-১৫ সেশনে পরীক্ষায় নকলের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন।

দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব সাবেক চাকরিজীবী এবং তার বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিনুল হক চৌধুরী কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের আপন ছোট ভাই। তিনি ছাত্রলীগে নিষ্কিয় বলে জানা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত