শিরোনাম

অন্ধকারে ঢাকা রিজেন্সির ১২০ প্রবাসী বিনিয়োগকারী

তারেকের পকেটে আয়ের বড় অংশ!
প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০১:০৬, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

*প্রবাসীদের ৪৮ কোটি টাকা বেহাত হওয়ার উপক্রম
*১৪ বছরে লভ্যাংশ পেয়েছেন ৪ বারের মতো
*পারিবারিক বোর্ডে চলছে ব্যবসা
*পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ বিনিয়োগের সুরক্ষা চেয়ে ৩ মামলা

প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। দেশে বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা। ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে বিনিয়োগ করে অন্ধকারে রয়েছে লন্ডন প্রবাসী ১২০ বাংলাদেশি। তাদের বিনিয়োগের ৪৮ কোটি টাকা বেহাত হবার উপক্রম হয়েছে। প্রবাসীদের মুনাফাসহ সব ধরনের সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যত প্রতিষ্ঠানটিকে জিম্মি করেছেন ৩ উদ্যোক্তা পরিচালক।

পারিবারিক বোর্ড বানিয়ে অন্তত ১২ বছর ধরে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছেন তারা। আর লভ্যাংশের একটি বড় অংশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পলাতক তারেক রহমানের পকেটে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন এমন একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

তারা জানান, নতুন স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডে বিনিয়োগ করে একটি চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ওই প্রবাসীরা। বিনিয়োগের পর তাদের কোনো খবর রাখে না উদ্যোক্তারা। পরিচালনা বোর্ডে সদস্য তো দূরে থাক, এজিএমে আমন্ত্রণ করা হয় না। ১৪ বছরে মাত্র ৪ বার নামেমাত্র লভ্যাংশ দেওয়া হলেও, তা কি পরিমাণ আয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে এখনো জানতে পারেনি।

তথ্য মতে, গত ২০০৫ সালে উদ্যোক্তা আরিফ মোতাহার, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও কবির রেজার সঙ্গে ঢাকা রিজেন্সি লিমিটেড নামে কোম্পানি গঠনে চুক্তিবদ্ধ হয় দীর্ঘ সময় ধরে লন্ডনে বসবাসরত প্রবাসীরা। পরে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড নামকরণ করা হয়। ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পে উদ্যোক্তারা ৫২ কোটি টাকা এবং প্রবাসীরা শেয়ার হোল্ডার হিসেবে ৪৮ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চুক্তি অনুসায়ী— প্রতিটি শেয়ার ২৫ হাজার পাউন্ড বা ২৯ লাখ টাকা করে প্রদান করেন প্রবাসীরা।

কোম্পানির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই ৩ উদ্যোক্তা গ্রুপ ‘এ’ এবং প্রবাসী শেয়ারধারীদের গ্রুপ ‘বি’ ধরা হয় এবং উভয় গ্রুপের সমন্বয়ে পরিচালনা বোর্ড গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়। একাধিক বিনিয়োগকারী জানান, কোম্পানি গঠনের নিয়ম কাগজেই রয়ে গেছে। বিনিয়োগের অর্থ প্রদানের পর আর কোনো খবরই রাখেননি উদ্যোক্তারা। শেয়ারের ১০ টাকা মূল্য হিসেবে প্রতিটি বিনিয়োগকারী ২ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার পাওয়ার কথা, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার।

বিগত ১২ বছর ধরে পরিচালনা বোর্ডে রাখা হয়নি কোনো প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বরং তাদের ন্যায্য শেয়ার ওই ৩ পরিচালকের স্ত্রী ও একজনের মায়ের নামে শেয়ার দেখিয়ে ৭ জনের পারিবারিক বোর্ড বানানো হয়েছে। ওই ৩ জনের মধ্যেই ঘুরে ফিরে তারা চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালক থাকছেন। প্রথম কয়েক বছরে এসব বিষয়ে আপত্তি তুললেও কোনো সুরাহা হয়নি।

বরং বিভিন্ন সময়ে শেয়ারধারীদের হয়রানি করা হয়েছে, শেয়ারধারী জেলও খেটেছেন। চাপের মুখে কয়েকজন শেয়ারধারীকে পরিচালক হিসেবে ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হলেও কার্যত কখনোই বোর্ডে রাখা হয়নি, তারা কোনো সভায়ও যোগ দিতে পারেননি।

তারা আরও জানান, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার শুরুর আগে পরিচালক বানানোসহ বছরে মুনাফার লোভ দেখানো হলেও হোটেলটি চালুর পর ন্যায্য শেয়ার দেওয়া হয়নি। এখন তাদের মূল টাকা ওঠানোই দায় হয়ে পড়েছে।

২০১৫ ও ২০১৬ সালে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৬০ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড। আইপিও আবেদনে কোম্পানি ডিভিডেন্ট ফান্ডে ৮৪ কোটি টাকা রয়েছে উল্লেখ করা হয়। উত্তোলিত অর্থ কোম্পানি কক্সবাজারে একটি অত্যাধুনিক মানের হোটেল নির্মাণে ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের সংস্কারে ও ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যয় করার কথা বলা হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অবলম্বন করে আইপিওতে বাজারে আসতে কোম্পানিটি ‘রোড শো’ সম্পন্নও করে।

কিন্তু ওই সময়ে শেয়ার নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আইপিও বন্ধে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেন কাজী ফয়সাল আহমেদ, কাজী কায়সার আহমেদ এবং কাজী জুবেল আহমেদ নামে ৩ বিনিয়োগকারী।

ওই চিঠিতে তারা বলেন, কোম্পানির পরিচালক আরিফ মোতাহার, কবির রেজা ও মোসলেহ আহমেদ নামের তিন উদ্যোক্তা হোটেল প্রতিষ্ঠাকালে বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তখন তাদের পরিচালক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের প্রথমে পরিচালক করা হয় এবং বিজনেস কার্ডও করে দেয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কৌশলে পর্ষদ থেকে বের করে দেয়া হয়। তারা উদ্যোক্তাদের অনিয়ম ও প্রতারণার শিকার হয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বিএসইসি তদন্ত শেষে আইপিও আবেদনটি বাতিল করে।

ঢাকা রিজেন্সি হোটেল সূত্র মতে, বর্তমানে হোটেলটির চেয়ারম্যান হলেন- উদ্যোক্তা পরিচালক মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান দিলকুশা বেগম (তিনি আরিফ মোতাহারের মা এবং কিছু দিন আগে মারা যান), ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির রেজা, পরিচালক নাজমা আরিফ (আরিফ মোতাহারের স্ত্রী), রোকেয়া খাতুন (কবির রেজার স্ত্রী), জেবুন নেসা (মুসলেহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী), আরিফ মোতাহার। তিনি এর আগে চেয়ারম্যান ও এমডি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাবস্থায় অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জেল খেটেছেন আরিফ মোতাহার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিনিয়োগকারী জানান, কোম্পানি গঠনের পর আমাদের দুয়েক বার এজিএমে ডাকা হয়েছিল, এরপর আর ডাকা হয়নি। কবে কখন এজিএম হয়, আমরা জানতে পারি না। লাভ-লোকসান কিছুই জানি না। বার্ষিক প্রতিবেদন আমরা কখনো পাইনি। শেয়ার চুরি করে পারিবারিক সদস্যদের নামে নিয়ে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বোর্ড পারিবারিক বোর্ডে পরিণত করা হয়েছে।

শেয়ারধারীর পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই ৭ জনের স্বাক্ষরে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক হতে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা লোন নেওয়া হয়েছে বলে জানান এ বিনিয়োগকারী। শতভাগ কোম্পানি উপর ৪৬ শতাংশ শেয়ারধারীর স্বাক্ষর ছাড়া লোন হয় কীভাবে প্রশ্ন করেন তিনি।

আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, ২০১৪ সালে মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, আরিফ মোতাহার জেলে থাকাকালে পূর্বের অনিয়মের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে শেয়ারধারীদের সব ন্যায্য সুুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আগের মতোই আচরণ শুরু করে। পরে প্রবাসীদের তুমুল চাপে ৫ বছর পর বার্ষিক প্রতিবেদন ছাড়াই সর্বশেষ ২০১৮ সালে কিছু লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কিছুই পাইনি। অথচ আইপিও আবেদনে বলা হয়েছে- কোম্পানির কাছে ৮৪ কোটি টাকা ডিভিডেন্ট রয়েছে, তাহলে সে অর্থ আমরা কেন পাচ্ছি না।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারে কোম্পানি নামে জমি কেনার কথা বলা হলেও গোপনে আরিফ মোতাহার, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও কবির রেজার নামে কেনা নেয়া হয়েছে। ওই জমি দেখিয়ে আইডিএলসি থেকে ৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে ওই জমির মালিকানা কোম্পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও গত ৫ বছর ধরে কালক্ষেপণ করছে। আমরা আমাদের মালিকানা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নেন ৩ উদ্যোক্তা পরিচালক। কোম্পানি গঠনে প্রবাসীদের কাছ থেকে নেওয়া ৪৮ কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণপত্র থাকলেও ওই ৩ জনের ৫২ কোটি টাকার কোনো প্রমাণ নেই। শেয়ারধারীরা ওই ৫২ কোটি টাকা কোম্পানি কীভাবে ঢুকানো হয়েছে এবং কোথায় ব্যয় হয়েছে- বারবার জানতে চাইলেও তারা তা প্রদর্শন করতে পারেনি। ২০০৫ সালে ৫২ কোটি টাকা দূরে থাক ৩ কোটি দেয়ার কোনো সামর্থ্য তাদের ছিল না বলে দাবি করেন একাধিক প্রবাসী বিনিয়োগকারী।

এছাড়া ২০১৪ মজিদ খান নামে এক বিনিয়োগকারী দেশে এসে প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয় এবং তার নামের শেয়ার হস্তান্তরের সমঝোতায় মুক্তি পান তিনি। মুক্তি পেয়েই তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এরপর তিনি আর দেশে আসেননি।

সূত্র জানায়, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের দেখভালের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পলাতক তারেক রহমান সরাসরি জড়িত। আরিফ মোতাহার, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও কবির রেজা ৩ জনই তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তারা সিলেটে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীরও ঘনিষ্ঠজন এবং সিলেট বিএনপির প্রভাবশালী দাতা সদস্য। ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের আয়ের একটি বড় অংশ আরিফুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে সরাসির তারেক রহমানকে দেওয়া হয়।

ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের অনিয়মের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, দুদক, বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরই অবহিত রয়েছে। গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কিন্তু ভুক্তভোগীরা প্রবাসী হওয়ার কারণে বিদেশে অবস্থান করায় ওই ৩ জনের সঙ্গে পেরে উঠছেন না। দেশের সবকিছু ম্যানেজ করে তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

এদিকে, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডে মালিকানার ন্যায্য অধিকার পেতে নানা অনিয়মের অভিযোগে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে পৃথক ২টি মামলা করেছেন এম মোহিদ আলী মিঠু নামে এক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। তিনি যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড আ.লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং কমিউনিটি নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত। আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন ২৭ জন বিনিয়োগকারী।

মামলা ৩টি হাইকোর্টের কোম্পানি আদালতে বিচারাধীন। মামলায় হোটেলটিতে অনিয়ম বন্ধে নিরপক্ষে পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ বিনিয়োগের সুরক্ষা চেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে মামলা নং- ৮১, ৮২/২০১৮। এ মামলা স্ট্যাটাস কো বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলা নং- ৪৩, ১৪৯/২০১৮। এ মামলা ইনজেকশন জারি করেছেন আদালত। অপর মামলাটি হলো- ২৩৩, ২৩৫/২০১৪।

এম. মোহিদ আলী মিঠু বলেন, ওই ৩ প্রতারকের কারণে শতাধিক প্রবাসী আজ অন্ধকারে রয়েছি। সরকার প্রবাসীদের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক হলেও বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করে তারা প্রবাসীর অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত রয়েছে। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি, ন্যায়বিচার পাবো ইনশাল্লাহ।

এ বিনিয়োগকারী জানান, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ১০০ কোটি টাকার কোম্পানি হলেও বর্তমানে সবকিছু মিলিয়ে ১ হাজার কোটি টাকার বাজারমূল্য রয়েছে। যা পুরোটাই ওই ৩ জন ভোগ-দখল করছে। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ বা সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন- ঢাকা রিজেন্সির অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে তারা ব্যক্তিগত শেয়ার কিনেছেন। আরিফ মোতাহার জনতা ব্যাংকের নাম ভাঙিয়ে নিয়েছেন আরও ২ কোটি টাকা। তার মাতা এবং ভাইস চেয়ারম্যান দিলকুশা বেগমের নামে নেয়া হয়েছে আরও ২ কোটি টাকা। এ অর্থ কেন নেয়া হয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে পারেনি। এসব অনিয়ম হলে পরিচালনা বোর্ডের বাকি সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়।

পরে বিষয়টি কোম্পানি ল’ ফার্মকে অবহিত করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির রেজা। পরে এসব অনিয়মের আপত্তি জানিয়ে অর্থ ফিরিয়ে দিতে কোম্পানির ল’ ইয়ার প্রতিষ্ঠান ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এন্ড অ্যাসোসিয়েটস চিঠি দিয়েছে। এরপর একাধিকবার তারা অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো দেয়নি।

এম. মোহিদ আলী মিঠু জানান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভুয়া ফিনান্সিয়াল রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়। সরকারি দপ্তরে দেওয়া ফিনান্সিয়াল রিপোর্টের সঙ্গে যার কোনো মিল থাকে না। এজন্য মহামান্য আদালতের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ অডিট রিপোর্ট করার আবেদন করেছি।

এছাড়া বিনিয়োগকৃত অর্থের সুরক্ষা চেয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে সরকারকে চিঠি দিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওই চিঠির অভিযোগ তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদক ও পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করে। যা গত ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়।

জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব মিজানুর রহমান সকল অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীসহ সব বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি এজিএমে ডাকা হয় এবং প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা সকলেই ২ শতাংশ শেয়ারধারী।

শেয়ারহোল্ডারদের কম শেয়ার দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেয়ারধারীদের হিস্যা অনুযায়ী নায্য শেয়ার দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। বিএসইসি তদন্ত করে অনিয়ম পায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির রেজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত