শিরোনাম
আমার সংবাদকে জাহাঙ্গীর কবির নানক

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আ.লীগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম  |  ০০:৩৫, এপ্রিল ২১, ২০১৯

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, গত ১০ বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আগামীতে দলকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় তা তিনি ভালো জানেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন, তার পক্ষেই দলের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তার নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। গতকাল ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘দৈনিক আমার সংবাদ’-এর সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যে সব নেতাকর্মী নৌকার বিরোধিতা করেছে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, যে সকল নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে; তারা সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে। অথচ সেই সকল নেতারা বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা করে। এটা আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক। এর জন্য ওই নেতাদের সাজা ভোগ করতে হবে।কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে আমরা উদযাপন করব। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে মুজিববর্ষ শুরু করে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মাধ্যমে শেষ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করার জন্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীই প্রস্তুত আছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রস্তুত থাকবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে কিছু ভিন্নপন্থি নেতা নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কোনো পদক্ষে নেবে কি না, জানতে চাইলে দলটির এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেক নেতা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগে আসার চেষ্টা করছে। ওই সকল নেতাকে আমরা প্রতিহত করব। এমনকি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখা পর্যন্ত এদের চিহ্নিত করা হবে; যাতে তারা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করতে না পারে। এবার হাইব্রিড মার্কা নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করে আওয়ামী লীগকে হাইব্রিডমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কোনো হাইব্রিড নেতার স্থান হবে না। আগামী জাতীয় সম্মেলনের আগেই ওই সকল নেতাকে চিহ্নিত করা হবে। নেত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সব নেতাকর্মীই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। দলকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। বলয় ভারী করতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে প্রবেশ করাচ্ছেন, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ শুরু করেছি। এর সাথে কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এলাকায় বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্য হলেও ঢাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতি করে; ছাত্রলীগের এমন নেতা কমিটিতে আসতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপি পরিবারের সদস্য হয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেবে, এটা হতে পারে না। ছাত্রলীগ করতে হলে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হতে হবে। এ জন্য ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করি, এ ধরনের কোনো নেতা ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবে না। অধিকাংশ উপজেলাতে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কার্যালয় নেই। ভাড়া করা বা নেতার বাসায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ওই উপজেলাতে নিজস্ব কার্যালয় করতে আওয়ামী লীগের কোনো উদ্যোগ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। দীর্ঘদিন ধরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে দেশের উন্নয়ন করছে। সেই দলে নিজস্ব কার্যালয় না থাকা বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামীতে ওই সকল উপজেলায় নিজস্ব কার্যালয় করা হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত