শিরোনাম

এগিয়ে চলছে মধুপুর, ময়মনসিংহ ও আশুগঞ্জ সাইলোর কাজ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আলমগীর হুসাইন  |  ০১:০০, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে চাল-গম সংরক্ষণে এখন অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সংরক্ষণের উপযোগী করে এসব সাইলো নির্মাণ না করায় চাল-গম গুমোট পরিবেশে নষ্ট বা দুর্গন্ধময় হয়ে তা আর ব্যবহার উপযোগী থাকে না। তখন এই চাল-গম কম দামেও কেউ কিনতে চান না। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সরকার আধুনিক খাদ্য সংরক্ষাণাগার তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। এর আওতায় সরকার চালের জন্য ৬টি ও গামের জন্য ২টি সাইলো নির্মাণ করবে। তিন প্যাকেজে এই ৮টি সাইলো নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রথম প্যাকেজের আওতায় মধুপুর, ময়মনসিংহ ও আশুগঞ্জে ৩টি সাইলো নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে সরকারি গুদাম ও সাইলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ মেট্রিক টন। ২০২০ সালের মধ্যে ২৭ লাখ ৪৫ হাজার এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। দেশে প্রতি বছর মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন গম উৎপন্ন হয়। এসব খাদ্যশস্য মজুতের জন্য আধুনিক এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিমল ভুঁইয়া আমার সংবাদকে জানান, প্যাকেজ ড-৩-এর আওতায় মধুপুর, ময়মনসিংহ ও আশুগঞ্জে আধুনিক সাইলোর কাজ এগিয়ে চলছে। পাইলিং শেষে এখন স্ট্রাকচার নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৫টির কাজ দ্রুতই শুরু হবে। এর মধ্যে প্যাকেজ ড-১-এর কাজের টেন্ডার আগামী ৩ মাসের মধ্যেই হবে। আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্প সূত্রে জানাগেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩টি প্যাকেজে ৮টি সাইলো নির্মাণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্যাকেজে ড-১-এর আওতায় চট্টগ্রাম ও খুলনার মহেশ্বরপাশায় ১টি করে ২টি গমের সাইলো। প্যাকেজ ড-২-এর আওতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে ১টি করে ৩টি রাইস সাইলো নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে প্যাকেজ ড-৩-এর আওতায় ময়মনসিংহ, মধুপুর ও আশুগঞ্জে ১টি করে ৩টি রাইস সাইলো নির্মাণকাজ চলছে।

ময়মনসিংহ সাইলো
ময়মনসিংহ সিএসডির অভ্যন্তরে প্যাকেজ ড-৩-এর আওতায় ৪৯,৬৫০ মে.টন ধারণ ক্ষমতার মূল রাইচ সাইলোর নির্মাণকাজ চলছে। এ সাইলোতে যা যা থাকছে— মেইন গেট ও সাব-গেট, ২২ বর্গমিটার গার্ড হাউস, ট্রাক স্কেল, স্যামপ্লিং হাউস ও যন্ত্রপাতি স্থাপন, ল্যাবরেটরি বিল্ডিং ও টেস্টিং যন্ত্রপাতি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ভবন। এছাড়াও থাকছে ১৭টি ট্রাক পার্কিং, ৪১৬ বর্গমিটার বাল্ক ট্রাক রিসিভিং, ১১২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল রুম, ৫০ বর্গমিটার বাকেট এলিভেটর টাওয়ার, প্রতিটি ৩,২০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতার ১৫টি স্টিল সাইলো বিন।

মধুপুর সাইলো
প্যাকেজ ড-৩-এর আওতায় ৪৮,৩২০ মে.টন ধারণ ক্ষমতার রাইস সাইলোর কাজ এগিয়ে চলছে। এখানে যা থাকছে— মেইন গেট ও সাব-গেট, গার্ড হাউস, ট্রাক স্কেল, স্যামপ্লিং হাউস ও যন্ত্রপাতি স্থাপন, ল্যাবরেটরি বিল্ডিং ও টেস্টিং যন্ত্রপাতি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ভবন। এছাড়াও থাকছে ১৬টি ট্রাক পার্কিং, ৪১৬ বর্গমিটার বাল্ক ট্রাক রিসিভিং, ১১২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল রুম, ৫০ বর্গমিটার বাকেট এলিভেটর টাওয়ার, প্রতিটি ৩,০০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতার ১৬টি স্টিল সাইলো বিন।

আশুগঞ্জ সাইলো
মেঘনা নদীর তীরে আশুগঞ্জ সাইলোর কাজ এগিয়ে চলছে। প্যাকেজ ড-৩-এর আওতায় ১,০৮,০০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতার রাইস সাইলোতে যা যা থাকছে— মেইন গেট ও সাব-গেট, গার্ড হাউস, ট্রাক স্কেল, স্যামপ্লিং হাউস ও যন্ত্রপাতি স্থাপন, ল্যাবরেটরি বিল্ডিং ও টেস্টিং যন্ত্রপাতি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ভবন। এছাড়াও থাকছে ২৫টি ট্রাক পার্কিং, বাল্ক ট্রাক রিসিভিং পিট, ১০০ বর্গমিটারের ফরটিফাইড রাইচ কার্নেল রিসিভিং ও ৫ মিটার ব্যাস বাফার বিন, সাইলো কন্ট্রোল রুম, বাকেট এলিভেটর, প্রতিটি ৩,৫০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতার ৩০টি স্টিল সাইলো বিন।সরকার বন্যা ও সাইক্লোনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্টিল সাইলো নির্মাণে আধুনিক খাদ্য মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলার এ প্রকল্প নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৫ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮টি সাইলো কমপ্লেক্সের উন্নয়ন করা হবে। ২৪০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের এ প্রকল্পে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) ২১০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেসিলিয়েন্স ফান্ড মঞ্জুরি ২৫ মিলিয়ন ডলার, বেনিফিসিয়ারি কন্ট্রিবিউশন ৫ মিলিয়ন ডলার এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া হবে। এসব প্রকল্পে এলাকার কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত