শিরোনাম

জল-সবুজে ঢাকা প্রকল্প ভেসে যাচ্ছে জলে

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০০:৫৯, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

*মাঠ-পার্কের কাজে ধীরগতি
*সিটির উন্নয়নকাজে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
*এক প্রকল্পে মেয়াদ বাড়লো ৩ বার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নেয়া ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কাজের ধীরগতির কারণে তৃতীয় ধাপে মেয়াদ বাড়নো হয়েছে। এতে প্রকল্পের আওতায় সেবাগুলো বাসিন্দাদের দীর্ঘ হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে মাঠ-পার্কে ফেলে রাখা অর্ধেক জলে ভেসে যাচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ প্রকল্পে পুরান ঢাকার সামসাবাদ খেলার মাঠের নান্দনিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে। শুধু সামসাবাদ খেলার মাঠটিই নয়, প্রকল্পের অধীনে ৩১ মাঠের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা থাকলেও ২টি মাঠ স্থগিত এবং ১টি মাঠ বাতিল করা হয়েছে। বাকি ২৮টি মাঠের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধীরগতিতে চলায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।সরেজমিন দেখা যায়, পুরান ঢাকার বাংলাদেশ মাঠের মাটি তুলে অন্যত্র ফেলা হয়। পরে বালু দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে প্রায় ১ বছর ধরে। কাজের ধীরগতির কারণে ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এছাড়া মাঠটির এক কোণায় ওয়াসা পাম্প এবং দোকানপাট বসানো হয়েছে। আর সামসাবাদ মাঠের চারদিকে নাড়কেল গাছের সারি, লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা বাউন্ডারি, স্থানীয়দের হাঁটার জন্য ব্যবস্থা ছিল। সেই সৌন্দর্য নষ্ট করে দীর্ঘদিন যাবৎ বালু ফেলে রাখা হয়েছে। ডিএসসিসির পার্কগুলোর কাজের অগ্রগতি রিপোর্টে দেখানো যায়, বশির উদ্দিন পার্ক ১০%, গজমহল পার্ক ৫%, বক্শী বাজার পার্ক ৫%, হাজারীবাগ পার্ক ০%, সিক্কাটুলী পার্কে ৯৫%, রসুলবাগ শিশুপার্কে ৯২%, নবাবগঞ্জ পার্কে ৭০%, গুলিস্তান পার্ক (শহীদ মতিউর) ৬৭%, সিরাজ উদ্দৌলা পার্ক ৬৫%, বংশাল ত্রিকোনাকার পার্ক ৬০%, মেয়র সাঈদ খোকন পার্ক ৬০%, ওসমানী উদ্যান ৪৫%, মতিঝিল পার্ক ৩৩%, মালিটোলা পার্ক ২৫%, জগন্নাথ শাহ রোড পার্ক ও পান্থকুঞ্জ কাজ স্থগিত। এছাড়া মাঠগুলোর কাজের অগ্রগতি দেখানো হয়েছে, সামসাবাদ খেলার মাঠ ৬%, শহীদনগর মিনি স্টেডিয়াম ২%, শহীদ আব্দুল আলীম মাঠ ৯৫%, জোড়পুকুর মাঠ ৭৩%, বাসাবো মাঠ ৫৭%, দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ ৩৫%, বাংলাদেশ মাঠ ২০%, বালুরঘাট খেলার মাঠ ১০% ও আমলিগোলা খেলার মাঠের কাজ বাতিল করা হয়েছে। এসব কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) তানভির আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, মাঠ কিংবা পার্কের উন্নয়নকাজ এটি কোনো একটি প্রকল্প নয়। ‘জল সবুজের ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় মাঠ-পার্কের উন্নয়নের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো শেষ করা যাচ্ছে না। তাই প্রকল্পটির সময় বাড়ছে। ইতোমধ্যে জল সবুজের ঢাকা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় বাড়লেও খরচ বাড়ছে না। তবে প্রকল্পে নতুন কিছু যোগ হওয়ায় খরচ বাড়ছে। ডিএসসিসির এলাকায় গ্রিন ও ক্লিন ঢাকার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের শেষ দিকে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। নগরবাসীর সুস্থ বিনোদনের জন্য রাজধানীর অনেকটা পরিত্যক্ত ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠকে জল-সবুজে ঢেকে নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই প্রকল্পটির।২০১৮-১৯ অথর্বছরেও এ প্রকল্প নিয়ে কাজ চলবে। জল সবুজে ঢাকা প্রকল্প বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘নগরীর পার্ক এবং খেলার মাঠগুলো বেদখল হয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর এ পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের বিনোদনের জন্য ‘জল-সবুজে ঢাকা’ শীষর্ক প্রকল্প গ্রহণ করি।’ মেয়রের এ বক্তব্যের প্রসঙ্গে ডিএসসিসির এক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, মেয়রের সদিচ্ছা থাকলেও তার আশপাশে যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন তারা নিজেদের সুবিধার্থে প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াচ্ছেন না। বাংলাদেশ মাঠে প্রতিদিন হাঁটেন ফয়জুল হক। জল-সবুজ ঢাকা প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে শুনছি নগরবাসীর সুস্থ বিনোদনের জন্য রাজধানীর পার্ক ও খেলার মাঠকে জল-সবুজে ঢেকে নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনা হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা কিন্তু এসব কাজের কোনো অগ্রগতিই তো চোখে পড়ে না। প্রসঙ্গত, জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পটি ২০১৬ সালের শেষদিকে হাতে নেয় ডিএসসিসি। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফের ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতেও কাজ হয়নি। সর্বশেষ তৃতীয়বারের মতো ২০১৯ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ ফের বাড়ছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত