শিরোনাম
প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ

মন্ত্রীর আশ্বাসে স্থগিত পূর্বঘোষিত আন্দোলন

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৩৮, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

সর্বশেষ ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে সরকার। সে সময় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয় ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তারপর থেকেই জাতীয়করণের একদফা দাবিতে অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত দাবি আদায় হয়নি। তাই দাবি আদায়ের জন্য চলতি মাসের ৩ তারিখে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের দিন ছিলো। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের আশ্বাসে পূর্ব ঘোষিত সে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন শিক্ষকরা। কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন ও মহাসচিব মো. কামাল হোসেন। তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়ের আশ্বাসে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল তার সাথে সাক্ষাৎ করবে। আশ্বাস অনুযায়ী দাবি আদায় না হলে কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। জানা যায়, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পূর্বে ২০১২ সালের ২৭ মে ৪ হাজার ১৫৯টি বঞ্চিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আবেদন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলো বঞ্চিতই থেকে যায়। আর বাদ পড়া এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে দফায় দফায় রাজপথে নেমে আন্দোলন করে। জানিয়েছেন নিজেদের অসহায়পর কথা। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কিছুই মেলেনি। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন গতকাল আমার সংবাদকে বলেন, আমরা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বেশ কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। দাবি আদায় তো দূরে থাক, বিভিন্ন সময় পুলিশি নির্যাতনও সয়েছি। তবে আগামীকালের (আজ মঙ্গলবার) যে কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করেছিলাম, তা না করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারের চিন্তা রয়েছে। মূলত তার আশ্বাসেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, গত বৃহস্পতিবারে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে। জাতীয়করণের ব্যাপারে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করছেন। তাই আপাতত আর কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। তিনি এখন ঢাকার বাইরে। ঢাকায় আসলেই আমরা তার সাথে দেখা করবো। তবে দাবি আদায় না হলে ফের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মো. জাকির হোসেনের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এদিকে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, জাতীয়করণের একদফা দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন তারা। ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন ধর্মঘট পালন করেন তারা। সে সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক সচিব বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। পরে একই দাবিতে ওই বছরের ৩০ জুন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের সাথে যোগযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আলোচনা প্রস্তাব বা সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়নি। এতে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। তারা মনে করছেন, সরকার বঞ্চিত এসব প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ না করলে শিক্ষকদের জীবন আরও হুমকির মুখে পড়বে। জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে কর্মসূচিগুলো পালিত হয়। আর পূর্বের আন্দোলনগুলোতে শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিলো। জাতীয়করণে থেকে বঞ্চিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আন্দোলন করতে করতে আমরা এখন ক্লান্ত। আবার দেয়ালে পিঠও ঠেকে গেছে। তাই চোখে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখছি না। এ অবস্থায় আশ্বাসই আমাদের একমাত্র পাথেয়। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। রাফিউল আলম নামের একজন শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশো মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে প্রথম পর্যায়ে ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। পরে ৪ হাজার ১৬০টিসহ ৩৬ হাজার ১৬০টি বেরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বঞ্চিত হয়ে যাই আমরা। আর জাতীয়করণ না হওয়ার কারণে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত