শিরোনাম

শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল

আতঙ্কে অন্য কর্মকর্তারা
প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৫৬, মার্চ ২৬, ২০১৯

*১৮ জন ওএসডি
*২৬ জনের পদায়ন
*আরও রদবদল হতে পারে

দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকা ১৮ জনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এবং ২৬ জনকে নতুন পদে পদায়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। পাশাপাশি আরও কিছু পদে রদবদল করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষা প্রশাসনে এটিই উল্লেখযোগ্য রদবদল। গত রোববার রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব আবু কায়সার খান স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে রদবদলের বিষয়টি জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডসহ কয়েকটি দপ্তর ও বড় সরকারি কলেজেও নতুন মুখ আসতে পারে।এদিকে বড় ধরনের এই রদবদলের কারণে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বদলি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সামনে আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সংক্রান্ত একটি তালিকাও তৈরির কাজ চলছে। নতুন নির্দেশনায় দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সচিব (সদ্য প্রফেসর হওয়া) মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক এবং একই অধিদপ্তরের সরকারি কলেজ শাখার উপ-পরিচালক পদে সংযুক্ত থাকা প্রফেসর প্রবীর কুমার ভট্টাচার্যকে প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক করা হয়েছে। ওএসডি থাকা প্রফেসর মো. আমির হোসেনকে শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমঅ্যান্ডই উইং, সেসিপ) করা হয়েছে।মুন্সিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম খানকে শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ফিনান্স আন্ড প্রকিউরম্যান্ট) ও টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুজ্জামান মিয়াকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নির্বাচিত বেসরকারি কলেজগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছে।শরীয়তপুর সরকারি কলেজর অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনোয়ার হোসেনকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক (সেসিপ); সরকারি তিতুমীর কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. রুহুল মমিনকে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রসাশন); নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ শাহ মো. আমির আলীকে একই অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (কলেজ-১) ও চট্টগ্রামের সরকারি কর্মাস কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরীকে একই দপ্তরের উপ-পরিচালক (একিউএইউ) করা হয়েছে।নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের সহকারি অধ্যাপক মীর রাহাত মাসুমকে একই দপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-৪); মাউশি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-৪) মো. জাকির হোসেনকে এই দপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং ওএসডি থাকা অসীম কুমার বর্মনকে একই দপ্তরের সহকারী পরিচালক-২ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) করা হয়েছে।আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলার সহকারী অধ্যাপক কাওসার আহমেদকে মাউশি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক) করা হয়েছে।নাটোরের গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনার সহযোগী অধ্যাপক আকতারুজ্জামান ভূঁইয়াকে উপ-পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা); বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানকে সহকারী পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) এবং সরকারি পিসি কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক রিজওয়ানুর রহমানকে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) করা হয়েছে। এ ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওএসডিতে থাকা সহকারী অধ্যাপক খান আব্দুল্লাহ আল আসাদকে কুমিল্লার গৌরীপুর মুন্সি ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তপন কুমার সরকারকে ঢাকা বোর্ডের সচিব; মাদরাসা বোর্ডের পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল বাসারকে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং চাঁদপুরর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামকে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করা হয়েছে।কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের একাডেমিক উপসচিব (প্রেষণে) নূর মোহাম্মদকে একই বোর্ডের সচিব (প্রেষণে); নরসিংদী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন দেবনাথকে শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (সিলেট, খুলনা, বরিশাল বিভাগীয় শহরে ৭টি মাধমিক বিদ্যালয় নির্মাণ) করা হয়েছে।দুয়ারিপাড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের রেজিস্ট্রার ও দীর্ঘদিন একই বোর্ডের উপ-রেজিস্টার (কমন সার্ভিস) পদে থাকা মো. কামাল উদ্দিনকে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করা হয়েছে।জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন) ড. রিয়াদ চৌধুরীকে কন্ট্রোলার অব পাবলিকেশন্স; সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহকারী অধ্যাপক তৈয়ব হোসেন সরকারকে উপ-রেজিস্ট্রার (কমন সার্ভিস) এবং ওএসডিতে থাকা স্বরূপকাঠী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াউল আহসানকে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) করা হয়েছে।এদিকে পৃথক এক আদেশের মাধ্যমে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করা হয়েছে ১৮ জন কর্মকর্তাকে। তারা হলেন-মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রফেসার ড. মো. আবদুল মালেক, পরিচালক (এমঅ্যান্ডই উইং, সেসিপ ) প্রফেসর ড. মো সেলিম মিয়া, পরিচালক (ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরম্যান্ট) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক (তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নির্বাচিত বেসরকারি কলেজগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প) প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন চৌধুরী, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী, উপ-পরিচালক (একিউএইউ) মো. খুরশিদ আলম, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. জাকির হোসেন, সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. আকম খলিলুর রহমান, সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক) সবুজ আলম, সহকারী পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) সাইফুল ইসলাম, গবেষণা কর্মকর্তা (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) কামরুন নাহার, প্রকল্প পরিচালক (সিলেট, খুলনা, বরিশাল বিভাগীয় শহরে ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ) প্রফেসর শাহ আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের সেসিপ পরিচালক (প্রেষণে) প্রফেসর মো. ইউসুফ।মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবব রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম মোর্শেদ বিপুল, কন্ট্রোলার অব পাবলিকেশন্স শিব্বির আহমেদ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মোহম্মদ ছরওয়ার আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) তারেক বিন আজির।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত