শিরোনাম

মার্কেটের সামনের দোকান নিয়ে দ্বন্দ্বে ডিএসসিসি

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০০:৫১, মার্চ ২১, ২০১৯

রাজধানীর ব্যস্ততম নগরী গুলিস্তান। এ এলাকা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) হকার উচ্ছেদ করলেও ডিএসসিসির মালিকানাধীন ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটের সামনে বসেই ব্যবসা করছেন দোকানিরা। এতে পুরো মার্কেটের ভেতরের দোকানের ব্যবসা মন্দা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে মার্কেটের ভেতরের দোকানিরা গুদাম দিচ্ছেন। মার্কেটের সামনে দোকান সরানো কিংবা রাজস্ব আদায় নিয়ে ডিএসসিসি সমন্বয়হীনতায় ভুগছে। যা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ও সম্পত্তি বিভাগ দ্বিমুখী অবস্থানে আছে। এই সুযোগে অসাধু লোকজন সুবিধা নিচ্ছে।সরেজমিন দেখা যায়, নগর ভবনের দক্ষিণে ও ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস ডিপোর পশ্চিমে মার্কেটটির অবস্থান। এ মার্কেটের সামনে ৩ শধিক দোকান স্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে। এসব দোকানে কাপড়, জুতাসহ খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দোকানের ভাড়া পাচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন। এমনকি দোকানের ভাড়া আদায়, বরাদ্দ কিংবা উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রেও ডিএসসিসির কোনো ক্ষমতা নেই বললেই চলে। জানা যায়, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় ৪শ থাকলেও পরে কয়েকশ হয়ে যায়। এতে দোকান বরাদ্দ নিয়ে ডিএসসিসি ও ব্যবসায়ীদের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এই টানাপড়েন থেকেই ফুলবাড়িয়া মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীরা দোকান বসান। এতে একদিকে যেমন মার্কেটের ভেতরের দোকানগুলোর বেচা-কেনা কম হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ফুলবাড়িয়া সিটি মার্কেটের সামনে ব্যবসা করেন জাহাঙ্গীর কবির। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মার্কেটের সামনে দোকান বসানো নিয়ে মার্কেট সমিতি ও ডিএসসিসির মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কিছুদিন সিটি কর্পোরেশন দোকানগুলোর ভাড়া তুলেছে। তবে, ইদানিং দোকানগুলো থেকে সিটি কর্পোরেশন ভাড়া না নিলেও দোকানিরা ভাড়া দিচ্ছেন। আর যারা ভাড়া নিচ্ছেন তারা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, দোকান মালিক সমিতি দোকানের মালিক নয় জেনেও তিনি ৩ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েমাসিক ৯ হাজার টাকা ভাড়ায় দোকানটি নিয়েছেন। এভাবেই শত শত দোকান বসানো হয়েছে। এখন সিটি কর্পোরেশন ইচ্ছা করলেও তুলে দিতে পারবে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট সমিতির এক সদস্য বলেন, রাজনৈতিক বরাদ্দ বা দলীয় কর্মীদের সন্তুষ্ট করতেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগেও ডিএসসিসি এসব দোকান থেকে রাজস্ব আদায় শুরু করত। এখন সিটি কর্পোরেশনকে ভাড়া দেয়া বন্ধ রাখা হলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ডিএসসিসির রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অসৎ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দোকানের অগ্রিম ও ভাড়া বাবদ টাকা ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে। তবে মার্কেটের সামনে অবৈধ দোকান থাকায় বাধ্য হয়ে দোকান মালিকরা মার্কেটের ভেতের দোকানগুলো গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন।ডিএসসিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মার্কেটগুলোর সভাপতি সেজে দেলোয়ার হোসেন দেলু নামে এক ব্যক্তি এর ভাড়া আদায় করছেন। তার পেছনে কর্পোরেশনের শক্তিশালী একটি চক্র কাজ করছে। দেলু মার্কেটটির পুরো গলি, টয়লেট, লিফট, ছাদসহ করিডোরের সব স্থানে দোকান বসিয়ে দিয়েছেন। দোকানগুলো থেকে সিটি কর্পোরেশন কয়েক মাস ভাড়া নিলেও, হঠাৎ কেন ভাড়া নেয়া বন্ধ করল? এখন ভাড়ার টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে? এসব নিয়ে স্বয়ং সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে দ্বন্দ্ব আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সমাধান আসছে না।এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার আমার সংবাদকে বলেন, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সামনের দোকানগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ জটিলতা সমাধানের ক্ষমতা রাজস্ব বিভাগের নেই। এটি সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ দেখভাল করে।ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আসাদুজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করলে মিডিয়া লেখে না। আসলে মিডিয়া কোন দিকে? মিডিয়ার শুধু কাজেই হচ্ছে- সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব কি? পুলিশ টাকা খায়। সিটি কর্পোরেশন কিছু করে না। হকার নিয়ে মিডিয়া ধারাবাহিকভাবে সুনির্দিষ্ট করে লেখুক তাহলে বুঝবো সাহস কত বড়? রিপোর্ট কই’?ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সামনে দোকান বসানোর ব্যাপারে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটির কি উচ্ছেদ করবো? এটি সম্পত্তি বিভাগ জানে না। এসব দোকানের চেয়ে বড় বড় সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলেন। এই কয়টা দোকান নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। এখন দোকানগুলো রাজস্ব বিভাগের কাজ’।ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট কমিটির অর্থ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ আমার সংবাদকে বলেন, মার্কেটের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য দোকান বসানোর অনুমোদন দেয় সিটি কর্পোরেশন। দোকানগুলো থেকে রশিদের মাধ্যমে নিয়মিত সিটি কর্পোরেশন ভাড়া নিতো। এখন ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে মার্কেট সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিলুর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতি এব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন না। আর তিনি অধিকাংশ সময়ে ব্যস্ত থাকেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র সাঈদ খোকনের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত