শিরোনাম

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বিক্ষোভ-অনশনের হুঁশিয়ারি

বেতন গ্রেড সুরাহার দাবি
প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ১১:৩৪, মার্চ ২০, ২০১৯

দেশে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেই শিক্ষকরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করেছেন। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের সাথে কেনই বা এই বৈষম্য তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তারা দাবি করে বলছেন সরকারের অন্যান্য বিভাগে পদ ও স্কেলে বেতন বৈষম্য না থাকলেও যুগ যুগ ধরে প্রাথমিকে বৈষম্য রয়েই গেছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন, পদোন্নতিতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে বারবার ধরনা দিতে হয় বড় কর্তাদের কাছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই দশম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১তম গ্রেড। ফলে প্রধান শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছে। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। ফলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। কোনোভাবেই সেটি মেনে নিতে রাজি নন সহকারী শিক্ষকরা। তারা প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতন চান। এ নিয়ে একাধিকবার আন্দোলনও করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। বর্তমানে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক বেতন পান ১২তম গ্রেডে (১১,৩০০ টাকা বেতন স্কেল) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১তম গ্রেডে (১২,৫০০ টাকা বেতন স্কেল)। অপরদিকে প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষক ১৫তম গ্রেডে (৯,৭০০ টাকা বেতন স্কেল) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে (১০,২০০ টাকা বেতন স্কেল) বেতন পান। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডসহ পদমর্যাদা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এর প্রেক্ষিতে সারাদেশে মানববন্ধন করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তারা প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড ১১তম দাবি করে আসছেন। বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সরকারের নানা কল্যাণমুখী ও যুগোপযোগী উদ্যোগের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল। তবে বেতন হয়ত বাড়ছে, কিন্তু আমাদের বেতন গ্রেডে বৈষম্য রয়েই গেল। এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। চলতি মাস থেকেই বিষয়টির সুরাহা দাবি করেছেন তারা।এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. আনিছুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব মহোদয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। একটা বৈঠক করার চেষ্টা করবো। আমরা জানতে চাইবো আসলে আমাদের জন্য সিদ্ধান্তটা কি। সবসময় মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় আমাদের জন্য ১১তম গ্রেড করা হবে। তবে এর কোনো ডকুমেন্টস নাই। এই জন্য আমরা তাদের সাথে বসতে চাচ্ছি। যদি সিদ্ধান্ত না পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে আমরা ৬৪ জেলায় ১১তম গ্রেডের জন্য মানববন্ধন করেছি। আমরা আশা করছি, সরকার এ ব্যাপারে সুষ্ঠু দিক বিবেচনা করবেন।দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচির। মানববন্ধনকালে শিক্ষকরা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের পরই তাদের বেতন রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, বিষয়টি আত্মসম্মানেরও। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে, প্রধান শিক্ষকের পর সহকারী শিক্ষকদের বেতন হবে। কিন্তু তা না করে একধাপ পেছনে দেয়ায় আত্মসম্মানে আঘাত দেয়া হয়েছে। সংশোধন হতে যাওয়া গেজেটে ১১ গ্রেড প্রদান না করা হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তারা জানিয়েছেন। শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের এই পরিবর্তনে প্রধান শিক্ষকরা খুশি হলেও সহকারী শিক্ষকরা খুশি নন। তারা সহকারী প্রধান শিক্ষকের নতুন পদটি চান না। তারা মনে করছেন, এ পদ সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে সহকারী শিক্ষকদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি না থাকলে এক ধাপ পদোন্নতি পেলেই প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। তারা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই বেতন চান। বেতন বৈষম্য দূর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মহাজোট। দাবিগুলো হচ্ছে : ১) চলতি মাসেই সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন পুনঃনির্ধারণ। ২) নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে পুরুষ ও মহিলা- উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ। ৩) সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির ব্যবস্থা। ৪) সিএনডি/ডিপিএড ও বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণ।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত