শিরোনাম
আমার সংবাদকে রাশেদ

সংগঠনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই নূরের

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম  |  ০১:৪৯, মার্চ ২০, ২০১৯

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেছেন, সংগঠনের একক সিদ্ধান্তের কারণেই ডাকসুর নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূরকে ওই পদে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়েছিলো। তাই তিনি শপথগ্রহণ করলেও সংগঠনের নীতি-নৈতিকতা মেনে তাকে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গতকাল ‘আমার সংবাদ’-এর সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, সংগঠনের ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। তাই ওর সাথে আমাদের আগে যে সম্পর্ক ছিল এখনো আছে এবং আগামীতেও থাকবে। আমরা বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে যেভাবে সফলতা এনেছি সেই সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আগামীতেও এগিয়ে যাবো। সে শপথ গ্রহণ করলেও সংগঠনের নীতি-নৈতিকতা মেনেই চলতে হবে। সংগঠনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত ছিল কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি। তার আমন্ত্রণে না গেলে চরম অভদ্রতা হয়। সেই দিক বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে তিনি গিয়ে ছিলেন। এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিলো। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে বলে আপনারা আন্দোলন করছেন। কিন্তু নূর গণভবনে এই অনিয়ম বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এই বিষয়ে আপনারা নূরকে কোনো প্রশ্ন করেছিলেন কী না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে শুধু ডাকসু নির্বাচনের অনিয়ম নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাই তিনি ডাকসু নির্বাচনের কোনো বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেননি। তারপরও সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান যেসব সমস্যা রয়েছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। হয়তো পুরো কথাগুলো তিনি তুলে ধরতে পারেননি। তবে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছেন। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসার বহির্প্রকাশ ঘটেছে। একই প্যানেল থেকে নূর জয়লাভ করলেও আপনারা কেন হারলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভোট কারচুপির জন্য বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিলো। এবং শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়। সিনেট ভবনে ভোটের ফলাফল কারচুপি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের হারিয়েছে। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সফলতা অর্জন করেছি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছি। যে কারণে ডাকসু নির্বাচন কারচুপি হওয়ার পরও আমাদের দুটি পদে বিজয় ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণে আপনাদের সংগঠনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। বিশেষ করে বিভিন্ন হলে আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তারাও আমাদের পজেটিভ কথা বলেছে। তারা চাইছে নূর শপথ নিক। শপথ নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো নূরকে চাপ সৃষ্টি করছে কী না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত সময় আমরা সবাই আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেলহাজতে গিয়েছি। রিমান্ডের শিকার হয়েছি। শপথ গ্রহণ নেওয়া ও না নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করে লাভ হবে না। আমরা তাতে ভয় পাই না। কোনো নেতার কাছে মাথা নত করার প্রশ্নই আসে না।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত