শিরোনাম

ডিএনসিসিতে সংস্কারকাজে ধীরগতি

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০১:২১, মার্চ ১৫, ২০১৯

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মালিবাগ-রামপুরা সড়কের দুপাশের ড্রেনেজ, ফুটপাত, নর্দমা মেরামত ও উন্নয়নের নামে সংস্কারকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হচ্ছে না। এতে গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ থেকে বিমানবন্দর সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই লেগে থাকে যানজট। সড়কের দুপাশে হাজার হাজার যানবাহন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যানবাহনের চাকা এক মিনিট চলেতো ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা। এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এতে নগরবাসীর হাজার হাজার কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে। এছাড়াও সড়কের দুপাশ দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও যত্রতত্র খানাখন্দে কারণে এ সড়কটি দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বাস, প্রাইভেট কার, এমনকি রিকশায় চলতে গিয়েও নগরবাসীর রীতিমতো নাভিশ্বাস অবস্থা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মালিবাগ রেলগেট থেকে ওয়াসা রোড, আবুল হোটেল, মদিনা হোটেল হয়ে ডিআইটি রোড, শহীদ বাকী সড়ক ও অতিশদিপঙ্কর সড়কের প্রায় ৪ কি.মি. সড়কে ড্রেনেজ, ফুটপাত ও নর্দমার কাজ শুরু হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে। ১৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান এ কাজটি আগমী ৬ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চলমান এ কাজটির প্রকল্প পরিচালক ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুবুল আলম আমার সংবাদকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা পুরা কাজটি শেষ করতে পারবো না। পুরা কাজটি শেষ করতে আমাদের এক সাপ্তাহ থেকে ১৫ দিন সময় বেশি লাগতে পারে। আমরা ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই কাজটি শেষ করতে পারতাম। কিন্তু গত মাসে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে আমাদের স্বাভাবিক কাজ চালানো সম্ভব হয়নি। তাই আমরা একটু পিছিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট টাইমে কাজটি শেষ করতে না পারার কারণে যে জন ভোগান্তি হচ্ছে তা আমি নিজেও টের পাচ্ছি। কারণ আমার বসবাসও ওই এলাকাতেই। তিনি বলেন, আর অল্প কয়েকটা দিন সময় পেলেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। সেই সাথে এই সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীরাও ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন।সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী থেকে মালিবাগ-রামপুরা-বাড্ডা হয়ে কুড়িল বিশ্বরোডের সঙ্গে সড়কটি সংযুক্ত হয়েছে। এটি রাজধানীর অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক। সড়কটির দুপাশে খোঁড়াখুঁড়ি কাজ করার ফলে প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। নতুন বাজার থেকে শুরু করে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত অধিকাংশ সড়কেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া রামপুরা ব্রিজ থেকে মালিবাগ রেল-গেট মোড় পর্যন্ত সড়কটি বেহালদশা। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও টঙ্গী, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলার পরিবহন। খানাখন্দেভরা ভাঙাচোরা এ সড়কটিতে চলাচলকারী যাত্রীরা তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যদিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় অসুস্থ হচ্ছেন। এতে অনেকেই শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। রাতের বেলা সড়কটিতে আলোক-স্বল্পতা এবং বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।মালিবাগ আবুল হোটের পাশে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের এক ছাত্রের অভিভাবক মালিহা বেগম বলেন, ফ্লাইওভারের নীচের সড়কের দুপাশের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে প্রায় দুবছর আগে। এ কাজ যে কবে শেষ হবে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিন দুবার স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এ যেন এক যুদ্ধ। এ যুদ্ধ যে কবে শেষ হবে আল্লাহই ভালো জানেন। গুলিস্তান-গাজিপুর সড়কের এক বাস ড্রাইভার সায়েম মিয়া বলেন, শুধু রামপুরা মালিবাগের এ জায়গাটুকুই পার হতে সময় লেগে যায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। এই দুর্ভোগ থেকে যে কবে মুক্তি পাবো কে জানে।মালিবাগ রেলগেট থেকে রামপুরা হয়ে বিমানবন্দরের এ সড়কটির দুপাশ দিয়ে উন্নয়ন কাজ চলার কারণে সড়কটি অনেকটাই সরু হয়ে গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেগে থাকে অনবরত যানজট। যাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। তা ছাড়া সড়কের পাশে থাকা ড্রেনেজগুলোতে কাজ চলার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ছোট-বড় গর্তগুলো পানিতে কানায় কানায় ভরে যায়। পানির মধ্য দিয়েই যাত্রীদের চলাচল করতে হয়। এতে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ সড়কে উন্নয়নের জন্য কখনো ওয়াসা, কখনো সিটি কর্পোরেশন আবার কখনো বা অন্য সেবা সংস্থার কাজ চলছে। অথচ এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো প্রকার সমন্বয়। ফলে কাজের গতি খুবই কম। এ অবস্থায় আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগে কয়েক ঘণ্টা। ধুলোবালিতে যেন ওষ্ঠাগত প্রাণ। সেই সঙ্গে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়ে কয়েক গুণ।শনির আখড়া থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় চাকরির সুবাধে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় মোশাররফ হোসেন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে। তিনি বলেন, এই সড়কের যানজটের জন্য রাত দিনের কোনো বালাই নেই। অনেক সময় দেখা যায় ছুটির দিনে আরও বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। বাসের মধ্যেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। এক কিলোমিটার পথ পার হতে অনেক সময় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়। এ ভোগান্তির শেষ কোথায় কেউ জানে না। মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা প্রথমে ফ্লাইওভারের নীচের এ সড়কটির ওয়াসা রোড থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত সড়কের দুপাশের উন্নয়ন কাজ শুরু করি। পরে দেখা যায় ফ্লাইওভারের কারণে রাস্তার দুপাশের ফুটপাত ও ড্রেনেজব্যবস্থা খুব খারাপ। তখন এ কাজটাকে আরও একটু বড়ানো হয় মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত। এ পর্যন্ত আমরা ওয়াসা রোড থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত ড্রেন ও ফুটপাতের কাজ শেষ করতে পেরেছি। আর কার্পেটিংয়ের কাজও ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। আর আবুল হোটেল থেকে মালিবাগ পর্যন্ত রাস্তার এক পাশের ড্রেনের কাজও শেষ হয়েছে। অন্য অংশের ড্রেনের কাজটি এখনো আমরা ধরতে পারিনি। ফ্লাইওভারের কারণে এর নীচের অংশ এমনিতেই সংকীর্ণ তাই আমরা দুপাশে একসাথে কাজ করতে পারছি না। উত্তর সিটির এই নির্বাহী প্রকৌশলী স্বীকার করে বলেন, এই রাস্তায় যানজটের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা যদি একসাথে দুপাশে কাজ ধরি তা হলে এ সড়টি একেবারেই অচল হয়ে যাবে। তাই আমাকে এক সাইড শেষ করে অন্য সাইডে কাজ ধরতে হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত