শিরোনাম

মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০০:৪৮, মার্চ ১৪, ২০১৯

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠনের প্রায় তিনমাস অতিবাহিত হচ্ছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আগামী এপ্রিল মাসে আসছে। এবার বেশ কয়েকজন নতুন মুখ দেখা যাবে। মন্ত্রণালয়ের আকার বৃদ্ধিতে ১৪ দলের শরিকদের নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ও ডাকসু নির্বাচনের ঝামেলার কারণে এতদিন এ বিষয় নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ ছিলো না। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। কেউ কেউ অবশ্য চলতি মাসেই মন্ত্রিসভা সমপ্রসারণের আভাস দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের চতুর্থ মেয়াদে এবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফাঁকা রেখে মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে গুঞ্জন উঠেছে নতুন মন্ত্রীর। এ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে জানান, এখন তো সচিব মন্ত্রণালয়ের সকল কাজ দেখেন। তিনি জানান, খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী আসছেন। আগামী মাসে আসার সম্ভাবনা বেশি বলে জানান এ কর্মকর্তা। নতুন মুখ হিসেবে কে আসছেন এমন প্রশ্ন করলে এ কর্মকর্তা হেসে বলেন, এটা তো শুধু প্রধানমন্ত্রীই জানেন। এদিকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় নতুনদের গুঞ্জনে নাম আসছে মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি। এছাড়াও প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির নামও শোনা যাচ্ছে। এখান থেকে যে কেউ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বিষয়। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে দলে ভালো ভূমিকা রাখায় দলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম আলোচনার শীর্ষে আছেন বলে জানান। এবার নতুন মন্ত্রিসভায় কমপক্ষে আরও দুজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও সবমিলিয়ে মোট সাতজন নতুন সদস্য আসার সম্ভাবনা। এবারের মন্ত্রিসভার ৪৭ জন সদস্য সংখ্যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীসহ), ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী।গতবারের মন্ত্রিসভার হেভিওয়েটদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়া প্রায় সব হেভিওয়েট বর্ষীয়ান নেতারাই বাদ পড়েছেন। বাদপড়া তালিকার শীর্ষে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের দুই সিনিয়র সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ। বর্ষীয়ান এই দুই নেতা ১৯৯৬ সালের মন্ত্রিসভায় থাকলেও ২০০৯ সালে বাদ পড়েছিলেন। পরে অবশ্য তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। দলের সভাপতিমণ্ডলীর দুই প্রভাবশালী সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিম ১৯৯৬ সালের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভায় না থাকলেও ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। মতিয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগের তিন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের পর বর্তমান মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে এবারই ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেই শরিকরা। অথচ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট শরিক দলগুলোর নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকী বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরাও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তবে মহাজোটের শরিকরা এখনো আশা ছাড়েননি, সামনের দিনে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। শরিক দলের একাধিক নেতার ভাষ্য, মন্ত্রিপরিষদে কে বা কারা স্থান পাবেন এর সম্পূর্ণ এখতিয়ার শুধু জোটপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি যা ভালো বলে মনে করেছেন সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ একাই জিতেছে ২৫৭টি আসনে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে। এই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭টি আসন। বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ৫টি। নির্বাচনে এককভাবে ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছে জাতীয় পার্টি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত