শিরোনাম

মুছেনি মেহেদির রঙ মুছে গেল জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:৪৯, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯

পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি ভবনে গত বুধবার (২০ফেব্রুয়ারি) রাতে আগুন লাগার পর তা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কয়েকটি ভবনে আগুন লাগার পর ১৫ ঘণ্টার চেষ্টায় তা পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে মোট ৭০টি বডি ব্যাগ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানোর কথা জানানো হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ ৬৭টি লাশ পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানান। নিহতের মধ্যে ছিলেন আফরুজা সুলতানা স্মৃতি ও মাহাবুবুর রহমান রাজু।

গত ২৮ জানুয়ারি ধুমধাম করে আফরুজা সুলতানা স্মৃতি ও মাহাবুবুর রহমান রাজুর বিয়ে হয়। রাজুর আর এর ভাই নাম রানা। রাজু ও রানা দু’জনে মিলে মোবাইলফোনের ব্যবসা করতেন পুরান ঢাকার চকবাজারে। চকবাজারে আগুনে পুড়ে মারা যান তারা।

রাজুর স্ত্রী আফরোজা সুলতানা স্মৃতির বিয়ের হাতের মেহেদি এখনো শুকায়নি।স্মৃতি আজিমপুর গার্লস কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনিও ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সঙ্গে পুরান ঢাকায় থাকেন। তার গ্রামের বাড়িও নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে। বিয়ের ২৫ দিনে স্বামীকে হারালেন তিনি।

রাজুর শ্বশুর আবুল খায়ের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এটাই কী ছিল কপালে। কতো ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। একমাস না যেতেই মেয়ে আমার বিধবা হলো।

তিনি আরো বলেন, আগুনের খবর পেয়ে আমি ছুটে আসি। কিন্তু দোকানের কাছেই যেতে পারি নি। পরে শুনেছি আগুনের ভয়ে তারা দোকানের শাটার বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে আর বের হতে পারেনি।

নিহত দুইজনের ছোট ভাই খলিলুর রহমান মিরাজ বলেন, ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম। খবর পেয়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি আমাদের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি চাইলেও ওই এলাকায় ঢুকতে পারি নি। সারারাত চকবাজার এলাকায় বসে ছিলাম। সকালে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করতে পেরেছি।

রাজুর মামা শ্বশুর বরকতউল্লাহ বলেন, অল্প কয়েকদিন হলো ওদের বিয়ে হয়েছে। আর এরই মধ্যে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেল। মাইয়াডা কেমনে থাকবো- একমাত্র আল্লাহই জানে। রাজুর সঙ্গে আমার দুইদিন আগেও কথা হয়েছিল। খুব ভালো ছেলে ছিল। বিয়ের আগে থেকেই আমি ওকে চিনতাম। মূলত বিয়ের সব আয়োজন আমিই করেছিলাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত