শিরোনাম

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড : উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত, ৭০ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৭:০২, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

 

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের ১৫ ঘণ্টা পর আগুন নিভিয়ে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থলে তদারকিতে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বৃহস্পতিবার (২১ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন জানান, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। তবে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুর্ঘটনস্থলে থাকবে।

আগুনে নিহতদের অধিকাংশকেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত মানুষ; খোঁজ নেই অনেকের। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী ও চারটি শিশু রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে জানান, অগ্নিকাণ্ডে ৭০টি মরদেরহ উদ্ধার হয়েছে। আগুনের কারণ এখনও জানা যায়নি।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি জানান, আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সকাল ৭টার দিকে মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিভিন্ন ক্যামিক্যাল, বডি-স্প্রে, প্লাস্টিক দ্রব্য প্রভৃতির কারণে আগুন ছড়িয়েছে। আর সরু রাস্তার কারণে আগুন নেভানোর কাজে সমস্যা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে হাজী ওয়াহেদ মিয়ার বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আশপাশের আরও চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, রাজধানীর চকবাজার এলাকায় রাজ্জাক ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, ‘এটা তো কেমিক্যাল গোডাউন। রাসায়নিক পদার্থ ছিল। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। ওই ভবনে খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়েও পড়ে। আশপাশেও তা ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, একদিকে তো সেখানে রাসায়নিক গুদাম, তার ওপর ওই ভবনের সামনে কয়েকটি গাড়ি ছিল, যেগুলো গ্যাসে চলে। এই আগুনের কারণে গাড়িগুলো বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি গাড়ি ছিল, যার ভেতর ছিল অনেকগুলো সিলিন্ডার।

ওই সিলিন্ডার হয়তো আশপাশের বাড়িতে ও হোটেলে গ্যাস সরবরাহের জন্য ছিল। ওই গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এ কারণে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যায়। আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে। এ ছাড়া তিনটি হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর থেকে পানি দেওয়া হয় আগুন নেভানোর জন্য।

আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গোডাউনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এ ধরনের আবাসিক এলাকা, জনবহুল এলাকার মধ্যে কেমিক্যাল গোডাউন থাকা উচিত না। এখনই সময় এগুলো সরিয়ে নেওয়ার।’

এসময় সাংবাদিকেরা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখবে কি না, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলোর ক্ষেত্রে অনেকগুলো পক্ষ কাজ করে। পুলিশ তো অবশ্যই ভূমিকা রাখবে, কাজ করবে। তবে তার আগে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সরকারের যে অন্যান্য দপ্তর আছে, যারা এগুলো মনিটর করে, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরানোর। এগুলো সরানোর কাজ এখনই শুরু করা উচিত।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন
রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিভেন্স তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনে দেবে।ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, কীভাবে এই আগুন লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তিনি সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে রয়েছেন- ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স) দিলিপ ঘোষ, সহকারি পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ ও উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল হালিম।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ শোকবার্তা জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।তিনি এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।রাষ্ট্রপতি এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আরেক শোকবার্তায় এ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং নিহতদের স্বজনদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, আগুনে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত