শিরোনাম

শহীদ মিনার নেই টাঙ্গাইলের ১৮৮২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল  |  ০২:০৭, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

পৃথিবীতে একমাত্র বাঙালি জাতিরই রয়েছে মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের ইতিহাস। স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলভিত্তি ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু বাঙালির অহংকার নয় পুরো বিশ্বের অধিকার আদায়ের পথ প্রদর্শকও। ১৯৯৯ সালে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। মহান মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের বীরত্বগাথা ইতিহাস রয়েছে, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনেও রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। টাঙ্গাইলের অনেক বীর সন্তান ভাষা আন্দোলনে জাতীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক অগ্রভাবে থেকে এসব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ’৫২ তে টাঙ্গাইলেও গড়ে উঠেছিল দুর্বার আন্দোলন। এখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন বদিউজ্জামান খান (প্রয়াত), সৈয়দ আবদুল মতিন (প্রয়াত), সৈয়দ নুরুল হুদা (প্রয়াত), শামসুর রহমান খান শাহজাহান (প্রয়াত), মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল (প্রয়াত), আবু সাঈদ খান (প্রয়াত), হাতেম আলী তালুকদার (প্রয়াত), রমিনুজ্জামান রইজ (প্রয়াত), নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস (প্রয়াত). ঋষিকেশ পোদ্দার (প্রয়াত), হাবিবুর রহমান (প্রয়াত), বুলবুল খান মাহবুব ও হাসিনা হক, নাজমি আরা রুবি (প্রয়াত), আলী আকবর খান খোকা (প্রয়াত), হেকমত আলী মিয়া (প্রয়াত), রোকেয়া রহমান (প্রয়াত) প্রমুখ। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে সরকারের হুলিয়া মাথায় নিয়ে তৎকালীন রমেশ হলের সামনে (বর্তমানে সাধারণ গ্রন্থাগারের পশ্চিম পাশে) তারা টাঙ্গাইলে সর্বপ্রথম শহীদ মিনার স্থাপন করেন। ভাষা আন্দোলনে টাঙ্গাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও জেলার ২ হাজার ৫৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৮৮২টিতেই নেই শহীদ মিনার। এতে দেশপ্রেম ও বাঙালির চেতনাবোধ প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন ভাষাসৈনিকসহ অনেকেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মোট ১ হাজার ৬২৩ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ৩২৯টিতেই শহীদ মিনার নেই। এর মধ্যে ঘাটাইলের ১৭৩টির মধ্যে ১৪টিতে, সখীপুরে ১৪৭টির মধ্যে ৭৬টিতে, গোপালপুরে ১৫৯টির মধ্যে ৮টিতে, বাসাইলে ৭৯টির মধ্যে ৮টিতে, টাঙ্গাইল সদরের ১৬৪টির মধ্যে ১৭টিতে, দেলদুয়ারের ১০০টির মধ্যে ৮টিতে, মির্জাপুরে ১৭০টির মধ্যে ৪৫টিতে, কালিহাতীর ১৭০টির মধ্যে ৩০ টিতে, মধুপুরে ১১০টির মধ্যে ২৮টিতে, নাগরপুরে ১৫৬টির মধ্যে ১৫টিতে, ভূঞাপুরে ১১০টির মধ্যে ২১টিতে এবং ধনবাড়ীর ৮৫টির মধ্যে ২৪টিতে মোট ২৯৪টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্যে সরকারিভাবে বরাদ্দ থাকে না। তবুও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা জেলায় ১৬১টি বিদ্যালয়ে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র সখীপুর উপজেলায়ই ৭০টি নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম (৯৩) বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসমৃদ্ধ দেশের অন্যতম জেলা টাঙ্গাইল। জেলার এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার কেন নেই? এটা অত্যন্ত লজ্জা ও হতাশাজনক। এতে আমাদের দেশপ্রেম ও বাঙালির চেতনাবোধ প্রশ্নবিদ্ধ। আইন করে হলেও মাদ্রাসাসহ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।’টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মিনার আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাঙালির চেতনার অংশ। কোমলমতি শিশুসহ শিক্ষার্থীদের মনে মাতৃভাষার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য মাদ্রাসাসহ প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা উচিত। জেলায় এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, এর সঠিক তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। শহীদ মিনার নির্মাণে আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুপ্রাণিত করব। প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্য দেয়া হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত