শিরোনাম

পলাশে মা-বাবার কোল ফিরে পেল শিশু জরনা

তারেক পাঠান, পলাশ (নরসিংদী)  |  ২০:১০, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদী খান থানা এলাকার দানিয়া পাড়া নামক গ্রাম ছেড়ে পরিবার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়ে ছিল জসিম উদ্দিন ও মরজিনা দম্পতি। সাথে পাঁচ বছর বয়সী সন্তান জরনা বেগম। কিন্তু কে জানত! অভাব-অনটনের যন্ত্রণার মাঝে একমাত্র মেয়েকেও হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। মাস খানেক আগে লোকাল ট্রেনে চড়ে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাড়ি দেয়। ঠিক তখনই একমাত্র কন্যা সন্তান জরনাকে ট্রেনেই হারিয়ে ফেলে জসিম উদ্দিন ও মরজিনা দম্পতি।

চার দিকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান জরনা বেগমকে খোঁজে পায়নি তারা। গতকাল সোমবার রাত ছিল জসিম উদ্দিন ও মরজিনা দম্পতির আনন্দ ভরা রাত। এক মাস আগে হারিয়ে ফেলা একমাত্র সন্তান জরনা বেগমকে ফিরে পেয়ে ওই দম্পতির মাঝে আনন্দের সীমা নেই। মুহুর্তেই বলে গেছেন সকল প্রকার কষ্ট-যন্ত্রণার কথা।

জসিম উদ্দিন জানান, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে কাজের জন্য স্ত্রী মরজিনা ও একমাত্র কন্যা জরনা বেগমকে সাথে নিয়ে লোকাল ট্রেনে চড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে গ্রাম ছাড়েন তিনি। শিশু জরনা তখন ট্রেনের ভিতরেই খেলা করছিল। এক পর্যায়ে লোকাল ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে থামার পর জরনা বেগমকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জরনার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, গতকাল সোমবার রাতে প্রতিবেশি আশিক মিয়ার মুঠোফোনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জরনা বেগমের ছবি দেখতে পেয়ে বিস্তারিত জানতে পারি যে, জরনা বেগম পলাশ থানা পুলিশের হেফাজতে লাল মিয়া নামক এক জনের কাছে আছে। পরে দ্রুত পলাশ থানায় যোগাযোগ করলে থানা পুলিশের সহযোগিতায় হারিয়ে যাওয়া একমাত্র সন্তান জরনা বেগমকে ফিরে পাই।

এ বিষয়ে পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, মাস খানেক আগে মধ্য রাতে নরসিংদী রেলস্টেশনে শিশু জরনা বেগম একা বসে কান্নাঁ করছিল। নিজের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই বলতে পারছিল না সে। পরে জরনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ঘোড়াশাল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম লাল মিয়ার কাছে যতদিন জরনা বেগমের পরিবারের সন্ধান না পাওয়া যাবে, ঠিক ততদিন-ই লাল মিয়া শিশুটিকে লালন-পালন করবে এমন শর্তে দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত