চাটমোহরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে ৪০ হাজার মানুষের পারাপার

শিমুল বিশ্বাস, চাটমোহর (পাবনা)  |  ১৫:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধানকুনিয়া গ্রামে গুমানী নদীতে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার ১২টি গ্রামের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ। সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা নিজেদের তৈরি বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন হাজারও মানুষ। শুধু তাই নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়িত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকবাসী সেখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত আশার কথা কথাই শুনেছেন তারা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

ধানকুনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুপুর খাতুন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুমা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বর্ষার সময় ভরা নদী দিয়ে নৌকায় এবং শুকনো মৌসুমে বিশালাকৃতির বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে খুব ভয় লাগে। এর আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী পা পিছলে নদীতে পড়ে আহত হয়েছে।’ বিন্যাবাড়ি গ্রামের আবদুল সরদার, ধানকুনিয়া গ্রামের ফিরোজ উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকি। আবাদকৃত শস্য হাটে বাজারে সময় মতো নিতে পারি না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি না। সেতু না থাকায় নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো বানিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হলেও আমাদের দিকে কাউরো নজর নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী পাড়ে ধানকুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধানকুনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুস সাত্তার প্রি-ক্যাডেট কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, এবার উদ্দিন এবতেদায়ী মাদ্রাসা, আল মদিনাতুন উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও কমিউনিটি ক্লিনিক অবস্থিত। নদী ওপরে স্থানীয়দের তৈরি বিশালাকৃতির বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করছে শিক্ষার্থী থেকে সাধারণ মানুষ। বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার নিত্যদিন পারাপার হতে হয় সবাইকে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় খুদে শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকেন।

এদিকে ওই এলাকার বিন্যাবাড়ি, গৌরনগর, করিমপুর, বহরমপুর, চিনাভাতকুর, বনমালী, ধরমগাছা, বরদানগর, লাঙলমারা, চরনবীণসহ প্রায় বারটি গ্রামের চল্লিশ হাজার মানুষ সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। দু’একটি ছাড়া বেশির ভাগ গ্রামগুলোতে কোন যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় আবাদকৃত শস্য হাটে-বাজারে সঠিক সময়ে নিতে না পেরে বাড়িতে বসেই ফরিয়াদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয় কৃষকদের। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়া কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্বজনদের। দীর্ঘদিন দুর্ভোগের শিকার এলাকাবাসী সেখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কোন লাভ হয়নি।

নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ‘সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ পারাপার হয়। সেখানে একটি সেতু নির্মাণ করা খুব জরুরী। ১০০ মিটারের সেতু তৈরির জন্য একটি প্রকল্প দেয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান করা হবে।’