শিরোনাম

দুর্ঘটনায় ৫ যুব ও ছাত্রলীগ নেতা নিহত, গোপালগঞ্জে চলছে শোকের মাতম

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি  |  ১৩:১৯, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

 

গতকাল (১০ফেব্রুয়ারি)রোববার রাতে খুলনার রূপসা ব্রীজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ যুবলীগের ৫ নেতার পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম। সড়ক দুর্ঘটনার খবর গোপালগঞ্জে এসে পৌছালে নিহতদের পরিবার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্তব্ধ হয়ে ওঠে গোটা গোপালগঞ্জ শহর। স্বজন হারানোর আহজারী ও কান্নায় ভারী হয়ে গেছে নিহতদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা।

জানা গেছে, গতকাল বন্ধু সাদিকের সদ্য কেনা প্রাইভেটকারে খুলনায় বেড়াতে যান পাঁচ বন্ধু। রাত পৌনে ১২টার দিকে খুলনা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ফেরার পথে রূপসা ব্রীজের কাছে লবনচরা এলাকায় পৌছালে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের সাথে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পাঁচ বন্ধু।

নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ শহরের সবুজবাগের আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবু, একই এলাকার আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে ও গোপালগঞ্জ সদর যুবলীগের সহ-সভাপতি সাদিকুল আলম, থানাপাড়ার গাজী মিজানুর রহমানের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসব, গেটপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন মোল্লার ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাজু আহমেদ এবং চাঁদমারী এলাকার ওয়াহিদ গাজীর ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী। সাদিকুল ছাড়া বাকি সবাই গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লবণচরা থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ৫ নেতা প্রাইভেটকারে করে (ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-০০২৫) খুলনা থেকে গোপালগঞ্জে ফিরছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট ১৮-২৫৮৪) মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, তারা পাঁচজনই বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন। মাদকবিরোধী সংগঠনেও সক্রিয় ছিলেন তারা। রোববার তারা একটি প্রাইভেটকারে করে খুলনায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রাইভেটকারটি খুলনা মহানগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে গোপালগঞ্জ ফেরার পথে সাদিকুল চালকের আসনে ছিলেন।

“খেজুর বাগান অতিক্রম করার সময় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে’ প্রাইভেট কারের সামনে এসে পড়ে। এসময় চালক তাকে বাঁচাতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা মংলা থেকে জিরো পয়েন্টগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।” দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে বলে ওসি জানান। ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে।

এদিকে নিহত পাঁচ জনের লাশ সোমবার সকালে গোপালগঞ্জে বাড়িতে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তাদের মৃত্যুর খবরে পুরো গোপালগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

গোপালগঞ্জে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ মাহামুদ বাপ্পী বলেন, “তাজা পাঁচটি প্রাণ ঝড়েছে । এরা আমাদের স্বজন। তাই শোকে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।তাদের মৃত্যুতে এখানে ছাত্র-যুবলীগে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এ শূণ্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন,“ পাঁচ ছাত্র-যুবলীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছিলো। তাদের মধ্যে দেশ ও জাতির জন্য অনেক কিছু করার সোনালী স্বপ্ন ছিল; মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে।

“এ শোক বহন করার শক্তি আমাদের নেই। তারপরও শোক সন্তপ্ত পরিবারগুলোকে আওয়ামী লীগ ও গোপালগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাই। আমরা নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা আইন শৃংখলা সভায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সড়কে মানুষের জীবন নিরাপদ করতে সরকার, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

এদিকে, বাদ জোহর গোপালগঞ্জে শেখ ফজলুল হক মণি ষ্টেডিয়ামে স্টেডিয়ামে নামাজে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে বলে পারিবারিক ও দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত