শিরোনাম

ফেনীর বিআরডিবি কর্মীর সুইসাইড নোট উদ্ধার

ফেনী প্রতিনিধি  |  ১৮:৫৪, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

ফেনীতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) এক নারী কর্মীর চিরকুট লিখে আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ফেনী শহরের বারাহিপুর সাহেব বাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বিআরডিবির কর্মী আনোয়ারা বেগমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য ডিডি শংকর কুমার পাল ও ফুলগাজী উপজেলা এআরডিও পদাবিক কৃষ্ণ গোপাল রায় দায়ী।’

জব্দ করা চিরকুটে আনোয়ারা বেগম আরও লিখেছেন, ‘তারা দুজন চার মাস ধরে আমাকে মানসিক নির্যাতনে রাখছিল। অক্টোবর ১৮ থেকে জানুয়ারি ১৯ পর্যন্ত আমাকে ৫ মাস বেতনভাতা দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি সমিতি/দলের ম্যানেজারসহ সদস্যদের অফিসে আনি। ডিডি শংকর কুমার আমি ঋণ নিয়েছি বলে দুর্বব্যবহার, স্বীকারোক্তি ও অঙ্গীকারনামা লিখে নেয়। তারপর বাসায় এসে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার স্বামী ফেনীতে হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়ার পর ডাক্তার ঢাকায় রেফার করে। চিকিৎসা শেষে ৭ দিন পর আমি বুধবার ফেনী ফিরে আসি।’

জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পায়ালখোলা গ্রামের অবসরপ্রপ্ত সেনা সদস্য ইয়াসিন মজুমদারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। তিনি বিগত ১৯৮৭ সাল থেকে বিআরডিবিতে মাঠ সহকারী পদে চাকরি নেন। তার একমাত্র ছেলে ঢাকায় পড়ালেখার পাশপাশি একটি দৈনিকে শিক্ষানবিশ ফটোসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়ি।

ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, চিরকুট জব্দের পর নিহতের স্বজনরা আনোয়ারার মৃত্যুতে বিআরডিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত শুক্রবার মধ্যরাতে তাদের বাসায় অভিযান চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তিনি আরও জানান, গতকাল শনিবার দুপুরে ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। একই দিন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত আনোয়ারা তার ঘরের দরজা না খুললে সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে আনোয়ারার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। এ সময় পুলিশ লাশের পাশ থেকে চিরকুট জব্দ করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত