শিরোনাম

গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের মৃত্যু, ঘাতকদের ফাঁসির দাবি ভৈরববাসীর

জামাল মিয়া, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) থেকে  |  ১৪:২১, অক্টোবর ০৯, ২০১৮

বুধবার (১০ অক্টোবর) ২১ শে আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার রায় হতে যাচ্ছে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় নারকীয় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুবরণ করেন শহীদ আইভি রহমান।

এ হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান এবং আহত হয় অনেক নেতা-কর্মী। অবশেষে নানা জটিলতা কাটিয়ে ১৪ বছর পর গ্রেনেড হামলা মামলার এ রায় কে ঘিরে শহীদ আইভি রহমানের নিজ জন্মভূমি ভৈরববাসীর উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে।

এদিকে, আইভি রহমানসহ ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় যারা জড়িত ও প্রকৃত দোষী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদানের আশা প্রকাশ করেন আইভি রহমানের পুত্র ,স্থানীয় সাংসদ ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। রায় নিয়ে কেনো জজ মিয়া নাটক সাজানো হবে না বলেও তিনি জানান।

১৪ বছরেও ঘাতকদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভৈরববাসী। তাই সেদিনের সে কলঙ্কময় ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ডে জড়িত ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাসিঁর দাবি ভৈরববাসীর।

২১শে আগষ্টে গ্রেনেড হামলার প্রত্যক্ষদর্শী সানাউল্লাহ নুরী সেদিনের জঘন্যতম ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিহরিয়ে উঠেন। সেদিন হামলায় তিনি আহত না হলেও প্রিয় নেত্রী শহীদ আইভি রহমানকে বাচাঁতে ছুটে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। তিনি নিজের শরীরের রক্ত দিয়েও বাচঁতে পারেননি। প্রিয় নেত্রীর হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত ভৈরবের আকবর নগরের নাজমুল হাসান নাজিম সেই দিনের সেই বিভিষিকাময় গ্রেনেড হামলার নরক যন্ত্রণা নিয়ে ভোগছেন। তিনি জানান ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বরোচিত হামলায় নিহত আইভি রহমানের হত্যাকারীদের যেন আগামীকাল মামলার রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাসির দাবী জানান তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ,বিসিবি সভাপতি ও শহীদ আইভি রহমানের পুত্র নাজমুল হাসান পাপন জানান, দীর্ঘদিন হলেও একমাত্র শেখ হাসিনার দ্বারা সম্ভব ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিচার করা। এ বিচার নিয়ে কোন জজ মিয়া নাটক হবে না। যারা গ্রেনেড হামলায় জড়িত প্রকৃত দোষী তাদের সবোর্চ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আজীবন সংগ্রামী মহিয়সী নারীর মৃত্যু শূণ্যতা পূরণ হবে কি! কৃতিত্বময় এই নারীর নেত্রীকে হারিয়ে ভৈরববাসী আজ শোকাহত। ভৈরববাসীর আজ একটাই দাবী কবে, কখন আইভি রহমানের হত্যার বিচার হবে।

উল্লেখ্য, আইভি’র পুরো নাম জেবুননাহার আইভি। বিয়ের পর নামের সঙ্গে স্বামীর নামের শেষ অংশ যোগ হয়ে হন আইভি রহমান। ১৯৪৪ সালে ৭ জুলাই ভৈরব পৌর এলাকার চন্ডিবের গ্রামে সম্ব্রান্ত মুসলিম পরিবার কামাল সরকারের বাড়িতে তার জন্ম। ৫০ দশকে শেষের দিকে ঢাকা কলেজের স্বনাম ধন্য অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আহমেদ তার পিতা। মা হাসিনা বেগম একজন আদর্শ গৃহিনী। শিশুকাল থেকে কিশোরী বয়স পর্যন্ত এই বাড়িতে সহপাঠি ও বান্ধীদের নিয়ে খেলা-ধুলায় মেতে থাকতেন গোসলও করতেন এ পুকুরে। মাতিয়ে রাখতেন পুরো বাড়িটিকে। আইভি রহমান নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ১৯৫৮ সালে ২৭ জুন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ভৈরবের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমান এর সাথে বিয়ে হন। বিয়ের পরও তিনি পড়াশুনা চালিয়ে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৮ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত