শিরোনাম

ময়মনসিংহ মহানগর আ.লীগে মৃত ব্যক্তি! নতুন কমিটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়

প্রিন্ট সংস্করণ॥সাখাওয়াত হোসেন, ময়মনসিংহ  |  ০১:৩০, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন আফাজউদ্দিন সরকার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মারা গেছেন তিনি। কিন্তু মহানগর আ.লীগের নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সদস্য রাখা হয়েছে তাকে। মহানগর আ.লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম এবং তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন একই কমিটির দুই নাম্বার সদস্য। প্লাবন চন্দ এই কমিটির সদস্য এবং তার ছোট ভাই পার্থ প্রতিম চন্দ যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফাতেমা তুজ জোহরা রাণীকে জেলা আ.লীগের কমিটিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। আবার তার ছেলে রাফিউল আদনান প্রিয়মকে মহানগর কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। তার পরে অনেক সিনিয়র নেতাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। গত গত সোমবার ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আ.লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি অনুমোদন করেন। গতকাল বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কমিটি ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, এ কমিটির ২০ নাম্বার সদস্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী মালিক মো. শহীদুল্লাহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কমান্ডার শায়খ আব্দুর রহমানের সহোদর ভাগ্নে। শায়খ আব্দুর রহমানের মরদেহ গ্রহণ থেকে শুরু করে দাফন অবধি যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। সূত্র মতে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে মহানগর আ.লীগের প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়ার পর এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তবে বিতর্কের পরেও তাকে ঘোষিত এই কমিটিতে বহাল রাখা হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান তাজুল আলমকেও রাখা হয়েছে সহ-সভাপতি পদে। একই সূত্র জানায়, ওই সময় ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটির ৩১ নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ জমা দেয়া হয় কেন্দ্রে। কিন্তু এর বেশিরভাগই এখন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। মোস্তফা মামুনুর রায়হান অসিমের স্বজনরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহ পৌরসভার দুই বারের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঘোষিত কমিটির ৮ নাম্বার সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান প্রিন্স জিয়াউর রহমানের জাগপা দলের সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার মতো আরো অনেক অনুপ্রবেশকারী এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মহানগর আ.লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, ‘আফাজ সরকারকে মরণোত্তর সম্মান দেয়া হয়েছে। এক মাস পর পরিবর্তন করা হবে। মালিক মো. শহীদুল্লাহ ওয়ার্ড আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলো। তিনি বলেন, প্রিন্স এক সময় জাগপা করলেও ২০ বছর আগে শামসুল হুদা চৌধুরীর সঙ্গে আ.লীগে যোগদান করেছিলো। মোস্তফা মামুনুর রায়হান অসিম-লিয়াকত শিকদার কমিটির ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলো। ওয়ার্ড কমিশনার তাজুল আলমের বাবা হতে পারে স্বাধীনতা বিরোধী। তবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করেছেন তাজুল অনেক আগে থেকেই। প্রত্যেকের যোগ্যতা ও ত্যাগ থেকেই কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং কেন্দ্র অনুমোদন দিয়েছে, দাবি করেন এহতেশামুল।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত