শিরোনাম

টাঙ্গাইলে হঠাৎ সবজির দাম চড়া কাঁচা মরিচে আগুন

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল  |  ০১:৫৬, জুলাই ১২, ২০১৮

টাঙ্গাইল শহরের কাঁচাবাজারগুলোতে হঠাৎ করে নিত্য প্রয়োজনীয় শাক-সবজির দাম বেড়ে গেছে। হঠাৎ করে ৪০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এছাড়া একেক বাজারে পণ্য সামগ্রীর ভিন্ন ভিন্ন দাম লক্ষ করা গেছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচসহ সবজির বাগানে পানি জমে থাকায় বাজারে আমদানি কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে শহরের পার্ক বাজার, বটতলা বাজার, ছয়আনী বাজার, সাবালিয়া বাজার, বৈল্যা বাজার, আমিন বাজার (গোডাউন বাজার) সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ৩০-৪০ টাকা, বর্তমানে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি করলা ৪০-৪৬, পটল ৩৬-৪০, ঢেঁড়শ ৪০-৪৪, কাকরোল ৩২-৪০, বেগুন ৪০-৪৮, ঝিঙা ৪২-৪৪, শশা (দেশি) ৬০-৮০, শশা(হাইব্রিড) ৪৬-৫০, পেঁপে ৩৬-৩৮, শিবচরন(শিবা) ৪০-৪৪, লতা ৪৪-৫০, মিষ্টি কুমড়া (মাঝারি) ৬০-৭৫, চালকুমড়া (মাঝারি) ১৫-২৫, লাল শাক প্রতিকেজি ৩৬-৪০ পুঁই শাক ৪০-৪৪, লাউ শাক প্রতি আটি ২৫-৩০, গোলআলু (মাঝারি) প্রতি কেজি ২৫-৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার পার্কবাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। সেই একই মরিচ বটতলা ও সাবালিয়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৬০ টাকা। বৈল্যা বাজরের ৩২-৩৪ টাকার পটল ছয়আনী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪০টাকা। বিভিন্ন বাজারে এ রকম নানা পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দাম লক্ষ করা গেছে। পার্ক বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা শাহজাহান, আ. করিম, রশমত আলীসহ অনেকেই জানান, শহরের পার্ক বাজারে সাধারণত পাইকারি হারে পণ্য বিক্রি করা হয়। সে জন্য দাম কিছুটা কম থাকে। বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতারা পার্কবাজার থেকে শাক-সবজি কিনে শহরের বিভিন্ন বাজারে চাহিদা অনুযায়ী দাম কম-বেশি নির্ধারণ করে বিক্রি করেন। এজন্যই বিভিন্ন বাজারে শাক-সবজির দাম কিছুটা কম- বেশি হয়ে থাকে।ছয়আনী ও সাবালিয়া বাজারের নিয়মিত ক্রেতা রহিমা খানম, গৃহবধূ রোজি আক্তার, শিক্ষক আলমগীর হোসেন, ব্যবসায়ী শীতল কুমার জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ করে কয়েকগুন বেড়েছে। এতে বাজারের নির্ধারিত বাজেটে কম পড়ায় আধা কেজির স্থলে তারা আড়াইশ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছেন। অন্যান্য শাক-সবজির দামও হঠাৎ করেই প্রতি কেজিতে ৫-২০ টাকা বেড়েছে। অধিকাংশ ক্রেতা মনে করেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের মাছ-মাংসের বাজারের ন্যায় শাক-সবজি বাজারগুলোতেও মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।পার্ক বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মান্নান, জমশের আলী, হায়াত আলীসহ আরো কয়েকজন জানান, গত কয়েকদিনে থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ায় ও নিচু জমিতে বর্ষার পানি ঢুকে পড়ায় আবাদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আর কাঁচা মরিচের ক্ষেতে গাছের গোড়ায় পঁচন ধরেছে, মরিচ ধরছে না। ফলে উৎপাদন হচ্ছেনা, এজন্য যা আছে তাই বাজারে বিক্রি করে নতুন আবাদের চেষ্টা করছেন।বটতলা কাঁচা বাজারের শাক-সবজি বিক্রেতা মো. হানিফ উদ্দিন, শওকত, ফকির সহ অনেকেই জানান, টাঙ্গাইল জেলা শহরের আশ-পাশের এলাকায় প্রচুর শাক-সবজি উৎপাদন হয়। কৃষকরা উৎপাদিত শাক-সবজি পার্ক বাজারে এনে পাইকারি বিক্রি করেন। সেখান থেকে কিনে এনে শহরের ছোট ছোট বাজারগুলোতে সকাল-বিকাল বিক্রি করা হয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও নিচু জমিতে বর্ষার পানি ঢুকে পড়ায় শাক-সবজি আবাদ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে, বাজারে আমদানি কম হওয়ায় বাজার দর কিছুটা বেড়েছে। তারা মনে করেন, এই দাম বৃদ্ধিটা সাময়িক বৃষ্টি থেমে গেলে খুব তারাতারিই দাম কমে স্বাভাবিক হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত