শিরোনাম

ঝালকাঠিতে নেই কোনো পুষ্টি বিশেষজ্ঞ

সদর হাসপাতালে নার্স দিয়ে চলছে চিকিৎসা
প্রিন্ট সংস্করণ॥মো. রাজু খান, ঝালকাঠি  |  ১২:৩৬, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

ঝালকাঠি ৪ উপজেলার ৪টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক নেই। সদর হাসপাতালে পুষ্টি বিষয়ক একটি ওয়ার্ড সিভিয়ার একটি ম্যালনিউট্রিশন (স্যাম) থাকলে সেখানে চিকিৎসার জন্য নার্সই ভরসা। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপনের প্রথম দিন গত সোমবারে সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্রটাই দেখা দেখে। স্যাম ওয়ার্ডটি রয়েছে তাও আবার ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পাশে। যেখানে ২ টি শিশুর বেশি কখনোই চিকিৎসাধীন থাকে না। শিশু ওয়ার্ডে কোন শিশু অসুস্থতাজনিত কারণে ভর্তি হলে তাকে পুষ্টির অভাব মনে হলে পরীক্ষা করে ওই ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় কলেজ মোড় থেকে আসা গৃহিনী নুসরাত জাহান ও পোনাবালিয়া থেকে আসা ঝুমুর বেগমের সাথে। তারা মোঃ আবু সায়েম ও রেজাউল করীম নামের শিশু দুটির মা। ওই শিশু দুটিই চিকিৎসাধীন আছে। গৃহিনী নুসরাত জাহান জানান, বাচ্চাটা (আবু সায়েম) কোন কিছুই খাইতে চায় না। ওর বয়স ২ বছর আর ওজন সাড়ে ৭ কেজি। ৮ দিন পূর্বে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসলে তারা এখানে আমাদের ১৫ দিনের চিকিৎসাধীন থাকার পরামর্শ দেন। বাচ্চার খাবারের জন্য প্রতিদিন সকালে ৪শ গ্রামের একটি দুধের কৌটা দেয় এবং আমাদের একজনের ৩ বেলা খাবার দেয়। ঝুমুর বেগম জানান, আমার ছেলে রেজাউলের শরীরের কোন শক্তি পায় না। তাই আমার বোন এখানে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। এজন্য এখানে এসে চিকিৎসা নিচ্ছি। দায়িত্বরত নার্স কাকলি বাক্চি জানান, শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বুদ্ধির বিকাশ ও সুস্থতার জন্য পুষ্টি প্রয়োজন। শিশু মৃত্যুর প্রায় এক তৃতীয়াংশের কারণ মারাত্মক পুষ্টিহীনতা। আমাদের কয়েকজনকে পুষ্টি বিষয়ের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করলেও আমাকে পুষ্টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পুষ্টিহীনতার লক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান, পুষ্টিহীন শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঘন ঘন রোগে আক্রান্ত হওয়া। খাবারে অরুচি। শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ। শিশুর ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক রং পরিবর্তন। অমনোযোগী। সব সময় শিশুর মধ্যে ক্লান্তভাব লক্ষ্য করা। রোগ থেকে সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে। তিনি আরো জানান, আমাদের কাছে শিশু রোগী আসলে আমরা তাকে প্রাথমিকভাবে ৫৭ সেন্টিমিটার উচ্চতার পরও যদি দেখি শিশুটির ওজন ৪ কেজির কম অথবা বাহুর পরিমাপে মুয়াক ১১.৫ সেন্টিমিটারের কম তাহলে আমরা পুষ্টিহীনতা নির্ণয় করি। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পরামর্শক্রমে এখানে রোগী ভর্তি করা হয়।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম ফরহাদ জানান, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে- তাই এফ-৪০০ গ্রামের একটি দুধের কৌটা ও এফ-৭৫ নামের একটি খাদ্যোপাদান দেয়া হয়। যার মধ্যে শিশুর জন্য মাল্টিভিটামিন দেয়া আছে। ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মানিকহার রহমান জানান, পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা জরুরি। আমাদের দেশে রোগ হলে তা নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু যাতে শরীরে রোগ সৃষ্টি না হয় এ জন্য কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি হাসপাতালে একজন করে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রয়োজন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত