শিরোনাম

চট্টগ্রামে জব্বারের বলী খেলায় ১০৯তম চ্যাম্পিয়ন জীবন

এএইচএম কাউছার, চট্টগ্রাম  |  ২০:১১, এপ্রিল ২৫, ২০১৮

বন্দর নগরীর ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলার ১০৯তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের তারেকুল ইসলাম জীবন।বুধবার (২৫এপ্রিল) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি মাঠে ৪০০ বর্গফুটের ৫ ফুট উঁচু বালুর মঞ্চে শুরু হয় এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ফাইনাল খেলায় তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১৬ মিনিট খেলা শেষে চকরিয়ার জীবন বলীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন খেলার রেফারি মো. আবদুল মালেক। তবে খেলার মাঝখানে ৯মিনিটের সময় বিরতি দিয়ে আবার খেলা শুরু করে রেফারি।ফাউল করার কারণে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা থেকে ছিটকে পড়েন কুমিল্লার শাহজালাল বলী।

এর আগে, সেমিফাইনালে মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেনকে হারিয়ে কুমিল্লার শাহজালাল বলী, উখিয়ার জয়নাল বলীকে হারিয়ে চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন বলী ফাইনালে উন্নীত হন।

বলী খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন বলী বলেন, আমার অনেক দিনের আশা পূরণ হয়েছে। আমার খুব আন্দন লাগছে। আমার স্বপ্ন আগামীবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে সরকারি ভাবে যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করতো তাহলে আরো অনেক বলী এই খেলায় আগ্রহী হতো।

অপরদিকে, বলী খেলা শেষে রানাসচাপ কুমিল্লা শাহজালাল বলী আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমি চ্যাম্পিয়ন হলেও আমাকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেয়নি। কমিটি আমাকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেয়নি। আমার পিঠ বালিতে লাগতে পারেনি। কমিটি ইচ্ছা করে আমাকে হারিয়েছে।

এবার ১০৯তম আসরে চট্টগ্রাম,আনোয়ারা,বাশঁখালী,মহেশখালী,চকরিয়া,সাতকানিয়া, কক্সবাজার, রাঙামাটি, ফেনী ,কুমিল্লাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৮৬ জন বলী অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী।

খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন- সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বলীখেলার উদ্বোধন করেন সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বলীখেলার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের রিজিওনাল ডিরেক্টর সৌমেন মিত্র।

এবারের খেলায় দেশের স্বনামধন্য ৮৬ জন বলী অংশ নিচ্ছেন। প্রথম রাউন্ডে ৩৭ বলী জন বিজয়ী অজন করে। এসময় বলীদের দুর্দান্ত কৌশল উপভোগ করেন হাজারো জনতা।

মেলায় আসা আইনজীবী নুরুল ইসলাম জানান, এ মেলার জন্য তিনি পুরো বছর জুড়ে অপেক্ষা করেন। এটি এখন সংস্কৃতির একটি অংশ। তিনি অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনেছেন।

স্কুল শিক্ষক দিপিকা জানান, স্কুল থেকে ফেরার পথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো মেলা থেকে নিয়ে যান। মনে হয় ছোট বেলায় ফিরে গেছেন।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজ সামগ্রীর বিপুল সম্ভার মেলা আনা হলেও যানবাহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা থেকে মাটির পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আবদুল জানান, শ্রমিকের বেতন বেড়ে গেছে। যানবাহন ভাড়া বেশি হওয়ায় আগের মতো পোষায় না।

জব্বারের বলী খেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি জহুর লাল হাজারী জানান, এই খেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯০৯ সালে নগরের বকশির হাট এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। সেই থেকে প্রতিবছর বঙ্গাব্দের ১২ বৈশাখ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত