শিরোনাম

সুগন্ধা ও বীষখালি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে ২০ গ্রাম

প্রিন্ট সংস্করণ॥ মো. রাজু খান, ঝালকাঠি  |  ০২:২৩, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা ও বীষখালি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে বাসস্ট্যান্ড, সাইক্লোন শেল্টার, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, সড়কসহ প্রায় ২০টি গ্রাম। ইতোমধ্যে এ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজার হাজার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙন রোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ভাঙনের মাত্রা বেড়েই চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠালেও তা ফাইলবন্দি হয়ে পরে আছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ভাঙনের মুখে পরেছে কৃষ্ণকাঠি বাসস্ট্যান্ড ও কুতুব নগর মাদ্রাসাসহ এলাকার বসতবাড়ি। ইতোপূর্বে এ এলাকায় এক রাতে আকস্মিক ভাঙনে তলিয়ে গেছে বসত বাড়িসহ গাছপালা। একই ভাবে জেলা শহরের একমাত্র বাসস্ট্যান্ডটি যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হবার পথে। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া হয়নি কোন কার্যকর ব্যবস্থা। ব্লক ফেলে এ ভাঙন রোধের প্রস্তাব করা হেয়েছে বলে জানা যায়। এছারাও সুতালরি এলাকার জেলা পরিষদ ও পুলিশ লাইনের সম্মুখে সুগন্ধার ভাঙন অব্যাহত আছে। এ ভাঙন রোধের প্রস্তাব ফাইলবন্দি হয়ে পরে আছে। সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পোনাবালিয়া, দেউরি, আতাকাঠি, দিয়াকুল, মানকি, ভাওতিতাসহ কয়েকটি গ্রামের ২ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের প্রায় দেড় হাজার একর আবাদি জমি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় শতশত কৃষক বেকার হয়ে পরেছে। এলাকাবাসি জানিয়েছে ভাওতিতা গ্রামের অধিকাংশই নদীর ভিতরে। ভাঙন কবলিত কৃষকরা পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন ইউনিয়নটির ভাঙনের পরিধি বেড়েই চলছে। পশ্চিম দেউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, নদী তীরের ভেরিবাঁধটি না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারেনা। এ ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারের পিলার এখন নদীর ভিতরে। ব্লক ফেলে বীষখালি নদীর এই ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাব ফাইলবন্দি হয়ে আছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রাম বীষখালি নদীতে ভেঙেই চলছে। এই এলাকায় নদী তীরে প্রায় ২ কিলো মিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়নাধীন আছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
এছাড়া রাজাপুর উপজেলার বাদুরতলা লঞ্চ ঘাটসহ নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব আজ পর্যন্ত বাস্তবে রুপ নেয়নি। নলছিটিতে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে হদুয়া মাজার ও বন্দর রক্ষা প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে হলেও এলাকাবাসির অভিযোগ বরাদ্দ টাকার বেশির ভাগ লুটপাট হয়েছে। নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর থেকে সারদল গ্রাম পর্যন্ত সুগন্ধা নদীর তীব্র ভাঙন আরো তীব্রতর হচ্ছে। অথচ এ ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষের কোন ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। বর্তমানে এ ভাঙনের মুখে পরেছে মসজিদসহ বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত