শিরোনাম

বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত শারমিন চিকিৎসক হতে চলেছে

প্রিন্ট সংস্করণ॥ শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি  |  ০৩:২৬, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

পাঁচ বছর আগে বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত সেই শারমিন এখন চিকিৎসক হতে চলেছে। শারমিন মাগুরার শালিখা উপজেলার ভাটোয়াইল গ্রামের প্রতিবন্ধী আলাউদ্দিনের একমাত্র কন্যা। দেখতে যেমন সুন্দরী লেখা পড়াও তেমন মেধাবী সে। ২০১৩ সালে ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার পিতা এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর সাথে বিয়ে ঠিক করে। প্রথমত বিয়েতে তার কোন আপত্তি না থাকলেও বিয়ের চরম পর্যায়ে সে ঘটনাটি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিকট আকুতি জানিয়ে বিয়ে বন্ধের আহবান জানান। এসময় শিক্ষক ও সাংবাদিকবৃন্দ সাবেক শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অনিতা মল্লিকের কাছে এ খবর পৌছানোর পর পুলিশ এসে তার বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। ১৮ বছর এর নিচে বিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তার পিতা মাতা। ঘটনার পর শারমিনের পিতা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদেরকে অনেক অপমান ও অপদস্থ করেন। তবুও রক্ষা পায় শারমিন। ২০১৫ সালে সেওজগাতী আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৪.৪৪ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করে সে। এরপর ভর্তি হয় ঝিনাইদাহ শিশু কুঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে।  ২০১৭ সালের এইচএসসিতে সে ৩.৮৪ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমান সে ঢাকার সাভারের সমাজ ভিত্তিক গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজের ফিজিওথেরাপির ১ম বর্ষের ছাত্রী। তার সকল পরিস্থিতি জেনে কলেজ তাকে বৃত্তি কোঠায় ভর্তি করেছেন। শারমিন আক্তার এর কাছে তার অনভূতির কথা জানতে চাইলে সে জানায়, আমি এক প্রকার যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।  আপনারা দোয়া করবেন, যেন আমি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারি। সে প্রেসক্লাব শালিখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নওয়াব আলীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে।  আর  কাউকে যেন আমার মত সমস্যায় না পড়তে হয়। তার মা আলোমতি বেগম বলেন, আমরা না  বুঝে ভুল করতে গিয়েছিলাম। তবে এখন আমি খুবই খুশী। শুনেছি  আমাদের এলাকায় আমার মেয়েই প্রথম কোন চিকিৎসক হতে যাচ্ছে। তার বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক  অশোক বিশ্বাস বলেন, শারমিন খুবই মেধাবী। কিন্তু পরিবেশের  কারনে ফলাফল কাংক্ষিত পর্যায়ে পৌছাতে পারেনি। তবুও সে আজ ডাক্তার হতে চলেছে, জেনে  খুবই ভাল লাগছে। তার প্রধান শিক্ষক স্বপন বিশ্বাস বলেন, তার অনেক সহযোগিতায় প্রয়োজন রয়েছে। তবে ইচ্ছা থাকলে কোন একটা  উপায় হয়ে যায়। আমি তাকে আশির্বাদ করি সে ডাক্তার হয়ে সমাজের সকলস্তরের মানুষের সেবা করতে পারে। 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত