শিরোনাম

আজও ঝরবে অসময়ের বৃষ্টি

সেন্টমার্টিনে ৭০০ পর্যটক আটকা
আহমেদ ফেরদাউস খান  |  ০০:২৫, ডিসেম্বর ১০, ২০১৭

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে সারা দেশে গতকাল শনিবারের মতো আজও সারাদিনই থেমে থেমে অসময়ের বৃষ্টি ঝরবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রধানত গুঁড়ি গুঁড়ি আকারে হলেও কখনো কখনো ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। আগামীকাল সোমবার দিনের আকাশ পরিষ্কার হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ রুহুল আমিন। এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সাগর উত্তাল। এতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ৭০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে টেকনাফেও সেন্টমার্টিনের প্রায় সাড়ে ৩০০ বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গত শুক্রবার সকাল থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। রুহুল আমিন আরও জানান, এখন যে শীত অনুভূত হচ্ছে সেটি মূলত বৃষ্টির কারণে। তবে নিম্নচাপ সরে গেলে মধ্য ডিসেম্বরের পর থেকে এমনিতেই শীতের প্রকোপ একটু বাড়বে। এ দিকে মধ্য পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম এলাকায় গভীর নিম্নচাপের কারণে দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঢাকা আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এটি পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে সরে গিয়ে আরো উত্তর উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। গভীর নিম্নচাপটি গতকাল শনিবার ভোর ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার তৈরি হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে মংলা বন্দরসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। মংলায় গত শুক্রবার দিনভর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি এবং রাতে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া গতকাল শনিবার ভোর থেকে আবারো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে মাঝারি বৃষ্টিপাতও হচ্ছে। মংলাবন্দরের হারবার বিভাগের অপারেটর শাহজাহানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্দরে অবস্থানরত ১৬টি বিদেশি জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে গতকাল রাতে আটটি খাদ্যশস্যবাহী (চাল ও গম) জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তিনি আরও জানান, বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া ও হাড়বাড়িয়ায় বর্তমানে ২৪টি জাহাজ অবস্থান করছে। এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে-মাঝিমাল্লারা সুন্দরবনের দুবলারচরসহ বিভিন্ন নদী ও খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। এদিকে আটকা পড়া পর্যটকরা গত শুক্রবার কেয়ারি সিন্দাবাদ, গ্রিন লাইন ওয়ান, এলসিটি কুতুবদিয়া, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন জাহাজে করে প্রায় তিন হাজারে মতো পর্যটক সেন্টমার্টিনে যান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফিরতি জাহাজে করে দুই হাজার পর্যটক ফিরে আসেন। এরপর সমুদ্রে সতর্ক সংকেতের বিষয়টি মাইকিং করা হলে তিন শতাধিক পর্যটক ট্রলারে করে টেকনাফে ফিরে আসেন।  কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি কক্সবাজার থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ বলেন, দ্বীপে বেড়াতে আসা সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। টেকনাফে সেন্টমার্টিনের সাড়ে ৩০০ সাধারণ মানুষ আটকা পড়েছেন। সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখায় যাত্রীরা পারাপার করতে পারছে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমুদ্রস্নানসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকতে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে। সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির আহ্বায়ক সিদ্দীকুর রহমান বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে পর্যটকের চাপ একটু বেশি থাকে। আগাম বুকিং হলেও আজ জাহাজ আসতে না পারায় আমাদের প্রচুর ক্ষতি হবে। তবে যাঁরা আটকা পড়েছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, সেন্টমার্টিনের যাবতীয় খাদ্যসামগ্রী টেকনাফ থেকে সরবরাহ করা হয়। তাই আটকা পড়া পর্যটকদের যাতে খাবারের কোনো সংকট না হয়, এ জন্য ট্রলারে করে কিছু খাবার ও সবজি পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ওই ট্রলারে করে কোনা যাত্রী পরিবহন করার অনুমিত দেওয়া হচ্ছে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় ইউপি সদস্য, কোস্টগার্ড পুলিশ ও নৌবাহিনীকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত