শিরোনাম

ঠ্যাঙ্গারচরের মালিকানার দাবিতে সোচ্চার সন্দ্বীপের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম  |  ১৯:১৩, অক্টোবর ১২, ২০১৭

সন্দ্বীপের সীমানা ঘিরে জেগে ওঠা চরের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যাচ্ছে দ্বীপবাসীরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বৃহত্তম মানববন্ধনের পর এবার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকায় সমাবেশ ও ভাসানচরের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে সন্দ্বীপ জেগে উঠা ভূমি রক্ষা পরিষদ। সমাবেশে সন্দ্বীপের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলন করেন চরের দাবিতে আন্দোলনরত দ্বীপবাসীরা। এসময় সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- সন্দ্বীপ জেগে ওঠা ভূমি রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক লায়ন মিজানুর রহমান। সন্দ্বীপ মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঠ্যাঙ্গারচর (ভাসানচর) সন্দ্বীপের পাশ্ববর্তী একটি জেগে ওঠা চর হলেও নোয়াখালীর দাবি করা হচ্ছে। বনবিভাগ-সহ সরকারি একাধিক সংস্থার জরিপে সন্দ্বীপের মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে জেগে ওঠা চরটি সন্দ্বীপের আদি ইউনিয়ন ন্যায়ামস্তির অংশ। কিন্তু নানান কারণে সন্দ্বীপবাসীর দাবি না মেনে নোয়াখালী জেলার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সন্দ্বীপের আপামর জনগণ অন্যায় এই দাবি কোনো ভাবে মেনে নিচ্ছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশের অন্যতম বৃহৎ মানববন্ধন সমাবেশের পাশাপাশি চলমান আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সন্দ্বীপবাসী তাদের হিস্যা বুঝে নিতে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বাংলাদেশের মূলভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রাচীন জনপদ সন্দ্বীপের মোট মৌজা ছিল ৬০টি। কিন্তু মেঘনার ভাঙ্গনে বর্তমানে ৩৮টি মৌজা অবশিষ্ট রয়েছে। সন্দ্বীপের ১৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ন্যায়ামস্তি, ইজ্জতপুর, কাটগড়, বাটাজোড়াসহ ৪টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া সারিকাইত, মাইটভাঙ্গা, মুছাপুর, আজিমপুর, রহমতপুর, হরিশপুর, কালাপানিয়া ইউনিয়নের আংশিক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একসময় সন্দ্বীপের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মৌজা ন্যায়ামস্তি ১৯৫৩ সাল থেকে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়তে থাকে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে মৌজাটি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের চারটি মৌজার মধ্যে সুলতানপুর, কমুলপুর, শরীফপুর ও পাঁচবাড়িয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ গত এক দশক ধরে সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে জেগে ওঠে। স্থানীয়রা এই চরকে ন্যায়ামস্তি চর, ঠেঙ্গার চর অথবা ভাষানচর নামে ডাকতে থাকে দীর্ঘদিন ধরে। ঠেঙ্গার চর বা ভাসান চরটি সন্দ্বীপের অতি নিকটতম হওয়ার পাশাপাশি ভূমি জরিপ, নদী জরিপ, নক্শা ও খতিয়ান অনুযায়ী সন্দ্বীপের বিলীন হওয়া ইউনিয়ন ন্যায়ামস্তি (চর ন্যায়ামস্তি) হিসেবে সন্দ্বীপের মানুষ দাবি করে আসছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপকূলীয় বন বিভাগের তথ্য-উপাত্ত উত্থাপন করে জানানো হয়, বর্তমান ভাসানচর সন্দ্বীপের সাবেক ন্যায়মস্তির অংশ হিসেবে সন্দ্বীপ রেঞ্জের আওতায় বনায়ন করা হয়। ২০১৪ সালের ৬ জুন ন্যায়ামস্তি সন্দ্বীপ মৌজায় জেগে ওঠা চর ভূমির সাত হাজার একর জমি বনায়নের জন্য উপকূলীয় বন বিভাগের পক্ষে ৪ ও ৬ ধারার গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই গেজেট প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে উক্ত জমির সীমানা বা স্বত্ব ঘোষণার ব্যাপারে কোনো পক্ষ হতে কোন দাবি দাখিল করেনি। রেঞ্জ কর্মকর্তারা সন্দ্বীপের বিগত ১০ বছর ধরে ন্যায়ামস্তি চরে (ভাসানচর) বৃক্ষরোপণ করে আসছে। সর্বশেষ ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় এক হাজার ৫০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম পনির বলেন, সন্দ্বীপের নিকটবর্তী একটি চর দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপের আওতাভুক্ত থাকার পরও হঠাৎ করেই নোয়াখালী বা হাতিয়া দ্বীপের অধীনে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত চলছে। সন্দ্বীপের মানুষ অন্যায্য একটি দাবি মেনে নেবে না। প্রয়োজনে ভাসানচরের মালিকানার দাবিতে সন্দ্বীপবাসী বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান।

সমাবেশ ও সমাবেশ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- মগধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আনোয়ার, আজিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি কাজী ফসিউল আলম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম বাবুল, যুবলীগের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আনোয়ার হিরণ, খেলাঘর সভাপতি অনিক কর পাপ্পু, আবাহনী ক্রীড়াচক্রের সফিকুল আজম, ইউপি সদস্য কাজী ফোরকান উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা কৃষি লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের। অধ্যক্ষ মাওলানা নাছির আহমেদ, প্রফেসর সফিকুল মাওলা, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা সামসুদ্দিন, মাস্টার দুলাল মজুমদার, মাস্টার রতন মিত্র, মাস্টার বিকাশ সাহা।

এছাড়া সমাবেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন কাজী আফাজ উদ্দিন হাই স্কুল, খেলাঘর, আবেদা ফয়েজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাইটভাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, লায়ন ফজলুল কাদের ফাউন্ডেশন, চৌকাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্দ্বীপ আবাহনী ক্রীড়াচক্র, সরকারি ওমেদা প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্দ্বীপ কারামতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, সারিকাইত উলুম মাদ্রাসা, সাউথ সন্দ্বীপ হাই স্কুল, দক্ষিণ সন্দ্বীপ নারী প্রগতি সংঘ, মাইটভাঙ্গা ইলেভেন স্টার ক্লাব, সারিকাইত মমতাজ উলুম মাদ্রাসা, সাউথ সন্দ্বীপ ডিগ্রি কলেজ, সোনালী সন্দ্বীপ একতা সংঘ, ইচ্ছেশক্তি ক্লাব, ফয়েজুলুম মাদ্রাসা, সন্দ্বীপ ইসলাহুল মুসলেমিন ফাউন্ডেশন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত