শিরোনাম

ইতির খামারে এবার ‘রাজাবাবু’

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)  |  ১৪:৩১, আগস্ট ১৮, ২০১৭

নাম তার ইতি আক্তার। সে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলর দেলুয়া গ্রামের মো. খান্নুর মেয়ে। ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি গরু মোটাতাজাকরণ করে সাবলম্বী হওয়ার শখ তার। ১২ বছর বয়সে মানিকগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বড় গরু মোটাতাজাকরণ করে তাক লাগিয়ে দেয় সে। ওই গরুর নামকরণ করা হয়েছিল লক্ষীসোনা। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে লক্ষীসোনাকে লালন-পালন করে। একটি কোম্পানি ১০ লাখ মূল্য দিয়ে কিনে নেয় ওই লক্ষীসোনাকে।

এবার ইতির খামারে গিয়ে দেখা যায়, ৪০ মন ২৬ কেজি ওজনের ফিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড় মোটাতাজাকরণ করেছে ইতি। ষাঁড়ের নাম দেয়া হয়েছে রাজাবাবু। যার উচ্চতা ৯ ফুট ও লম্বায় ৮ ফুট। ইতি এখন মানিকগঞ্জ জেলার জাগির উচ্চ বিদ্যালয়ের দশক শ্রেণিতে পড়ছে।

গত কোরবানির ঈদে সে লক্ষীসোনা লালন পালন করে। তার ষাঁড়টির দাম চেয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত সেটি বিক্রি হয়েছিল ১০ লাখ টাকায়। এবারও সে আরেকটি গরু মোটাতাজাকরণ করে এলাকার মানুষকে তাক লাগিয়ে দেয়। তার এ উৎসাহ দেখে ওই গ্রামে আরো গরু মোটাতাজাকরণ করতে অনেকেই উৎসাহ পেয়েছে বলে জানায়।

ইতি আক্তার জানায়, ছোট বেলা থেকেই গরু মোটাতাজাকরণ করে সাবলম্বী হওয়ার শখ তারা। তাই এবারও আধুনিক পদ্ধতিতে একটি গরু ঈদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। গরুটির নাম দেয়া হয়েছে রাজাবাবু।

কিভাবে রাজাবাবুকে প্রস্তুত করা হয়েছে জানতে চাইলে সে জানায়, ভূষি, মাল্টা, কলা, লেবু, চিড়া, নালী, কমলা, গুড়, ডালিম, ঘাস ও শুকনো খড় খাবার দেয়া হয়েছে। তিন বছর বয়সে রাজাবাবুকে এসব খাবার দিয়ে তাকে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২০টি সেম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়েছে।
রাজাবাবুর দাম ধরা হয়েছে ২০ লাথ টাকা। ইতোমধ্যে একজন চিত্র তারকা ও একটি কোম্পানি গরুটি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানায় সে।

ইতির বাবা খান্নু মিয়া জানান, তার সংসারে কোন ছেলে সন্তান নেই, তার ছয় মেয়ে। পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ের বাকী এখন ইতি। ইতি আমার লক্ষী মেয়ে। মেয়ের সাথে তার মা পরিস্কার বেগম মেয়েকে সাহস যোগায়। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে একটি খামার করে গরু মোটাতাজাকরণ করে।

খান্নু মিয়া বলেন, আমি গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে সুদ করে টাকা এনে এ ষাঁড়টিকে বড় করেছি। প্রতিদিন ২৫ কেজি পরিমাণ খাবার খাওয়াচ্ছি। এতে আমার প্রতিদিনই এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। গত সাত-আট মাস ধরেই এভাবে পালন করে আসছি।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. খুরশেদ আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সাটুরিয়া উপজেলায় ৭ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ইতি ও পরিষ্কার বেগমের পালিত এই ষাঁড়টির ওজন মেপেছি। এখন পর্যন্ত রাজা বাবু নামের এই ষাঁড়টির ওজন ১৫৬৬ কেজি, যা ৩৯ মণ বা দেড় টনেরও বেশি। আমাদের জানা মতে এটিই জেলার সর্বোচ্চ ওজনের ষাঁড় গরু।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত