শিরোনাম
সিদ্দিকুরের চোখে অস্ত্রোপচার

১৫ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি পুলিশ

তবিবুর রহমান  |  ২০:১২, আগস্ট ০৪, ২০১৭

তারিখসহ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের টিয়ারশেলে আহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের (২৩) চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে তার অস্ত্রোপচার চলে। হাসপাতালের রেটিনা ও ইনজুরি বিশেষজ্ঞ ডা. লিঙ্গম গোপালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারে অংশ নেয়। চেন্নাইয়ে সিদ্দিকুরের সঙ্গে থাকা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিদ্দিকুরের চোখের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহিদুল আহসান বলেন, চোখের আলো ফেরার সম্ভবনা নেই জেনেও চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেছেন। এক অথবা দুই শতাংশের মতো যতটুকু সম্ভবনা আছে তা এখনই বলা যাবে না। এজন্য দুই থেকে চার দিনের মতো সময় লাগতে পারে।

এদিকে চোখ নষ্ট হওয়ার কারণে গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও এখনও জমা দেয়নি। গত ২০ জুলাই শাহবাগে আন্দোলনের সময় পুলিশের টিয়ার শেলে সিদ্দিকুর রহমান চোখে আঘাত পান। এরপর মীর রেজাউল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে প্রথমে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও আট কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফা সময় শেষ হয়েছে শুক্রবার। তবে এখনও কোন প্রতিবেদন জমা দেয়নি পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান আমার সংবাদকে জানান, ডিএমপি কমিশনার শুক্রবার না থাকার কারণে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। এছাড়া কবে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে তাও নিদির্ষ্ট করে বলেননি তিনি।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাই ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিদ্দিকুর রহমান যাতে একটি চোখেও দেখতে পান সেজন্য চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গত সোমবার তিনি বলেন, সিদ্দিকুর দেশে ফিরলেই তার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করছিলেন। আন্দোলনের সময় পুলিশের টিয়ার শেলে সিদ্দিকুর রহমান চোখে আঘাত পান। প্রথমে সিদ্দিকুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২৭ জুলাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ে পাঠানো হয়। এখন তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

সিদ্দিকুর আহত হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলেন, পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতেই সিদ্দিকুরের দুই চোখে জখম হয়। তখন পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের ছোড়া ফুলের টবের আঘাতে সিদ্দিকুর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পাশাপাশি পুলিশ ১২০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে। এ নিয়ে চার দিকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ঘটনা তদন্তে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান হলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল আলম। অপর দুই সদস্য হলেন ডিবির ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ ও পুলিশের ধানমণ্ডি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আশরাফুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, শুক্রবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরেশীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার না থাকার কারণে জমা দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে একাধিক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।

তাছাড়া যে পুলিশ সদস্যের ছোড়া টিয়ার শেলে সিদ্দিকুরের চোখ নষ্ট হয়েছে, ওই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে ওই পুলিশ সদস্যের নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পুলিশের অসতর্কতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য তুলনামূলক নবীন। সিনিয়র সদস্যরা তাকে আন্দোলন মোকাবেলার বিষয়ে ঠিকমতো ব্রিফ করেননি।

কমিটি গঠনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, ‘কমিটির প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হলে প্রয়োজনে আরও একটি কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশ কি কারণে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি করছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। তাদের দাবি টিয়ার শেল নিক্ষেপকারী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এছাড়া তারা বলছে যার দাবিতে তারা মাঠে নেমেছিলো সেই দাবির বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যে কারণে দুই একদিনের মধ্যে বড় ধরনের আন্দোলন যাবে শিক্ষার্থীরা।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত