শিরোনাম

বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর ঢল

রফিকুল ইসলাম বিপ্লব, গাজীপুর  |  ২৩:১৯, আগস্ট ১৪, ২০১৯

ঈদের দিন গাজীপুরের আকাশ অনেকটাই পরিষ্কার ছিল। কিন্তু পরদিন গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। আর এ বৃষ্টি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক দর্শণার্থীদের আটকে রাখতে পারেনি।

অন্যদিকে, দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন মঙ্গলবারও পার্কটি খোলা রাখেন। আর এদিনেই দর্শনাথীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল পার্কে। গতকালও ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম।

৫টি ভাগের সবটিতেই ছিলো দর্শনার্থীদের সমাগম। কোর সাফারি, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক এবং বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। এ ৫টি ভাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি বিভক্ত।

ঈদের পরদিন থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে পার্কে। পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মো. আনিসুর রহমান জানান, ছুটির বিশেষ দিনগুলো ছাড়া এ স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

ছুটির বিশেষ দিনগুলোতে লোক সমাগম বেড়ে যায়। ঈদের ছুটিতে এ সংখ্যা কয়েকগুণ হয়। তবে লোক সমাগম বেশি হলেও কোনোরকমের সমস্যা হয় না।

প্রাণী বৈচিত্র্য ও সাফারি কিংডম- এবারের ঈদেও বন্যপ্রাণীর প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি।

প্রাণী জগতের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে দর্শনার্থীরা সুবিশাল সবুজ প্রকৃতি দেখতেও ভিড় জমায়। ময়ূর, ধনেশ, ক্রাউন্ট ফিজেন্টসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের পাখির পাখিশালা, প্রজাপতি কর্নার, বিভিন্ন প্রাণীর প্রজনন কেন্দ্র, মেরিন একুরিয়াম, লেকজোন ও কুমির পার্ক সাফারি কিংডমের বৈচিত্র্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাড়তি মাত্রায় কোর সাফারি- বাঘ, সিংহ, সাদা সিংহ, ভল্লুক, চিত্রা/মায়া/সাম্বার হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির বক, আফ্রিকার ওয়াইল্ডবিষ্ট, অরিক্স, কমন এলান্ড, থমসন গ্যাজেল, জেব্রা, জিরাফ কোর সাফারিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

এগুলো আলাদা আলাদা সীমানা প্রাচীরের ভেতর উন্মুক্তভাবে বিচরণ করছে। এসব প্রাণী দেখতে হয় পার্কের নির্ধারিত মিনিবাস/গাড়িতে চড়ে। এ পার্ক দেখার জন্য রয়েছে ২৮-৩০ আসনের ছয়টি মিনিবাস। গাড়ির আসন অনুযায়ী দর্শনার্থী সুযোগ পান।

সকাল ৯টা বিকাল ৫টা- পার্কের ইজারাদার শেখ মো. সফিকুর রহমান সফিক জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনাথীদের জন্য পার্ক খোলা থাকে।

পার্কে প্রবেশ ফি- প্রাপ্তবয়স্ক জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং ১৮ বয়সীদের নিচে ২০ টাকা। শিক্ষা সফরে আসা বা সাধারণ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা।

গাড়িতে করে কোর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিজনের টিকিট ফি ১০০ টাকা। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা।

দর্শনার্থী ফি নজরদারির দাবি- শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মো. খোকন মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সাফারি পার্কে।

তিনি বলেন, কোর সাফারি পার্কে ১৮ বছরের নিচে সকলের জন্য ১০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এটা অতিরিক্ত। এ অনিয়মটি কর্তৃৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

চুয়াডাঙ্গার শাহরিয়াত হোসেন ফয়সাল মেয়েকে নিয়ে এসেছেন বাঘ দেখানোর জন্য। তিনি অভিযোগ করেন বাচ্চাদের জন্য কোর সাফারি দেখার জন্য ১০০ টাকা করে টিকিট নেয়া হচ্ছে।

কিন্তু পরিদর্শনের সময় পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনো লোক সাথে না থাকায় আমার ছেলে ও সাথের কেউ বাঘ বা কোনো প্রাণীর দেখা পয়িনি।

এসব বিষয়ে পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বলেন, প্রত্যেক সাফারির প্রবেশদ্বার ও কোর সাফারির ভেতরের উল্লেখযোগ্য স্থানে প্রাণী বৈচিত্র্যের নানা বৈশিষ্ট্য সংবলিত ফেস্টুন রয়েছে।

এগুলো দর্শনার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রাণীগুলোর ব্যাপারে প্রাথমিক জ্ঞান লাভে সহযোগিতা করে। একদিনে এবং অল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে প্রাণী বৈচিত্র্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত