শিরোনাম

রাত হলে পানির শব্দে বুক কেঁপে ওঠে

সাইফুল ইসলাম বাবুল, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)  |  ১৫:৪২, জুলাই ১৭, ২০১৯

সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ময়মনসিংহের ফুলপুরের প্রায় ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কৃষকের বীজতলা, ঘরবাড়ি, ফিশারী, ইটভাটা, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, হাটবাজার ও মসজিদ-মন্দির প্লাবিত হওয়াসহ শত শত একর রোপা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ভারতীয় পাহাড় থেকে ধেয়ে আসা ঢলের পানি উপরের দিকে ফিঁকে উঠছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম ও এলাকা।

সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে চোখে পড়ে বানভাসী মানুষের করুণ দৃশ্য। চতুর্পাশে পানি থই থই করছে। কারো ঘরে কারো বা উঠানে পানি। বের হয়ে দাঁড়াবার যেন ঠাঁই নেই। কারো বা থাকার ও রান্নাঘরেও পানি। কেউ বা পারছে না চুলোয় আগুন ধরাতে।

আবার কংশ পাড়ের কারো কারো ঘরের ভিতর বড় ফাটল ধরে ভেঙে যাচ্ছে স্বপ্নের ঠিকানাটুকু। রাত হলে পানির শব্দে বুক কেঁপে ওঠে বলে জানায় ঠাকুরবাখাই গ্রামের কংশপাড়ের সালেমা।

এ সময় সুমন, পলাশ, সুলতান, রফিকুল, হোসেন, বাবুল, মকবুল, জলিল, আজহারুল ও সবুজও এগিয়ে আসে তাদের কষ্টগাঁথা কাহিনী শোনাতে। তারা জানায়, তাদের বাড়ি আরো অনেকটা পশ্চিমে ছিল। প্রতি বছর বন্যায় নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন ঘরের ভিতরেও ফাটল ধরেছে। যে কোন সময় তলিয়ে যেতে পারে তাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল টুকুও।

নাকানন্দী গ্রামের হাফেজ মজিবুর রহমান, সিরাজ, আব্দুল হান্নান, সিদ্দিক, হাবিবুর ও এনামুল তালুকদার জানান, তাদের ফিশারীর সব মাছ চলে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সবাই। ঘর থেকে বের হওয়ার এখন একমাত্র মাধ্যম কলা গাছের ভেলা। উপজেলার নিশুনিয়াকান্দা, কুঠুরাকান্দা, সঞ্চুর, ডোবারপাড়, ধনারভিটা, বাইনচাপাড়া, সিংহেশ্বর, ছনধরা, পুটিয়া, পুড়াপুটিয়া, ভাইটকান্দি, বালিচান্দা, মোকামিয়া, বওলাকান্দা, ঝিগারকান্দা, কুলিরকান্দা, খাটাইশ্যাকান্দা, বনপাড়া, ভাটপাড়া, মালিঝিকান্দা, হনবিল, উল্লাবিল, মেরিগাই, লাওয়ারী, পূর্ব লাওয়ারী, রামসোনা, কুমারপাড়া, বাইনজান, চিকনা, বাঘেরকান্দা, খরাইপাড়, চুরের ভিটা, আলোকদি, ফতেপুর, মধ্যনগর, ডেফুলিয়া বাঁশতলা, বাতিকুড়া ও শিলপুর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায় এসব এলাকার মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

তাদের সব ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে। হোসেনপুর কলেজ, ভাইটকান্দি টেকনিকেল কলেজ ও দিউ আইডিয়াল স্কুলসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। রামভদ্রপুর, দেওখালী, বাঁশতলা, বাখাই, কাইচাপুর, নলচাপড়া, রূপসী, বিহারাঙা ও কাতুলির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ৪০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৪ হেক্টর জমির শাক-সবজি ও ১২ হেক্টর জমির বীজতলা নিমজ্জিত রয়েছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করা যাচ্ছে না।

বিভিন্ন স্থানে বানভাসীদের মধ্যে করুণ অবস্থা বিরাজ করলেও অদ্যাবধি কোন ত্রাণ সামগ্রী বন্যাদুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে দেখা যায়নি। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি কেবলই অবনতি হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করবেন।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত