লালমনিরহাটে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

প্রিন্ট সংস্করণ॥ শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট  |  ০১:৫৪, জুলাই ১২, ২০১৯

লালমনিরহাটে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চর অঞ্চলগুলোতে বন্যা ও জলাবন্ধতা দেখা দিয়েছে।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ৬ ইউনিয়নসহ তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়লেও এ খবর জানেন না জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, উজান থেকে তেমন পানি আসছে না। ভারী বর্ষণের কারণে চর অঞ্চলগুলোর বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ২০ সে. মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চর অঞ্চলের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর চর এলাকাগুলোতে লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চর এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

উজান থেকে তেমন পানি না আসলেও ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও জলবন্ধতা দেখা দিয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন জানান, ভারী বর্ষণের কারণে তার ইউনিয়নে ২ হাজার পরিবার, পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিউল আলম রোকন জানান, বৃষ্টির পানিতে তার ইউনিয়নে তিস্তার নদীর চর এলাকায় ১ হাজার ২ শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে ৬ শত এবং গড্ডিমারী ইউনিয়ন ৪শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলেন জানান ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ ও গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ডা. আতিয়ার রহমান।

এদিকে জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের জলাবন্ধতার কারণে বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসোড’র বন্যা সহায়ন প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার মমতাজ বেগম জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর ডাউয়াবাড়ী, দক্ষিণ ডাউয়াবাড়ী, চর সির্ন্দুনা, পুব হলদিবাড়ী ও পশ্চিম হলদিবাড়ী এলাকার জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি জানতে পেয়েছেন ওই চর এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণের কারণে অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র দোয়ানী ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজান থেকে তেমন পানি আসছে না। তবে বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর এলাকার লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর জানান, বৃষ্টির কারণে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা ইউনিয়নে কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় ৬ ইউনিয়নের চর এলাকায় লোকজন পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে এমন খবর তার কাছে নেই।