শিরোনাম

কুড়িগ্রামের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে দুর্ভোগে ২ লক্ষ মানুষ

ইমতে আহসান শিলু, কুড়িগ্রাম  |  ১১:৪৩, জুন ২৭, ২০১৯

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণাধীন ব্রীজের পাশে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এবং উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির চাপ বেড়ে সংযোগ সড়কের কাঠের বীজের দুইপাশের মাটি ধ্বসে যায়। এতে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বীজের পূর্বপাড়ের ৬টি ইউনিয়নে বসবাসকারী প্রায় ২ লক্ষ মানুষের।

যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় যাত্রাপুর হাটের যোগাযোগ ব্যবস্থাও। মানুষজন কোন রকমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় পাড়াপাড় হলেও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালামাল পাড়াপাড় নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ব্যবসায়ীরা।

যাতায়াতের দুর্ভোগে পড়া মানুষ ও এলাকাসী অভিযোগ করে জানান, সংযোগ সড়কটির নির্মাণের ব্যায় ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও নামমাত্র কাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংযোগ সড়কটি উঁচু না করে এবং পানি প্রবাহের জন্য বেইলি বীজ না দিয়ে কাঠের ছোট বীজ দেয়া হয়েছে। এজন্য একদিনের বৃষ্টির পানিতে ব্রীজটি দুইপাশ ধ্বসে গেছে। পরিকল্পিতভাবে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হলে লাখ লাখ মানুষকে আর দুর্ভোগে পড়তে হতো না।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এরশাদুল হক জানান, ব্রীজের পুর্বপড়ের সদর উপজেলার পাঁচগাছী, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ও সাহেবের আলগা এবং নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ের লোকজন প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করে। একদিনের বৃষ্টিতে ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এই ৬ ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

শুলকার বাজার এলাকার জয়নাল জানান, সংযোগ সড়কটি এভাবে নির্মাণের সময় এলাকাবাসী বাঁধা দিলেও তারা কোন কথা শোনেননি। বলেছেন যেভাবে বরাদ্দ আছে সেভাবে নির্মাণ করতে হবে। এই ছড়াটির সাথে ধরলা নদীর পানির সংযোগ থাকায় এটি আরো উঁচু করে রাস্ত নির্মাণসহ বেইলি ব্রীজ দেয়ার দাবী জানিয়েছিলাম আমরা এলাকাবাসী। কিন্তু তারা পাত্তা না দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বেগমগন্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, ব্রীজের পুর্বপাড়ের ৬টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরে আসা যাওয়া করে। এমন কি এই সব এলাকার জরুরী রোগীদের এই সড়ক দিয়ে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু এ অবস্থায় মানুষজনই জীবনের ঝুকি ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে কোন রকমে পাড়াপাড় করছে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্রীজটি বিকল্প উপায়ে মেরামত করে যোগযোগের ব্যবস্থা করে দেয়া না হলে চরম দুর্ভোগে দিন পার করতে হবে এসব এলাকার মানুষসহ অসুস্থ রোগীদেরকে।

এব্যাপারে যাত্রাপর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রীজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে যাত্রাপুর হাটের ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে পড়েছে। মালপত্র পরিবহন করতে না পাড়ায় যাত্রাপর হাটের ব্যবস্যা বাণিজ্যও ব্যহত হয়ে পড়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট জোড় দাবী জানাচ্ছি যে কোন উপায়ে হোক খুব দ্রুততার সহিত ব্রীজটি যাতায়াতের উপযোগী করা হোক।

এব্যাপারে কুড়িগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ কোন কথা বলতে না চাইলেও সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক জানান, আপাতত সংযোগ সড়কটিতে স্থলে জরুরী ভিত্তিতে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হবে। এতে ভারী যানবাহন যাতায়াত করতে না পারলেও মানুষজন যাতায়াত করতে পারবে।

তিনি আরো জানায় গত বছরের ২৯ জুলাই ৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থ ব্রীজটির ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে। ব্রীজটির নির্মাণ কাজ চলছে যা আগামী ০৪/০২/২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা।

এ বিষয়ে ব্রীজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার গোলাম রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত