শিরোনাম

গুদামে ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকের দরজায় ব্যবসায়ীরা

আবু হাসান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)  |  ১৭:১৬, জুন ২৬, ২০১৯

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল খাদ্য গুদামে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার গাফিলতিসহ কৃষি কাডধারী কৃষকদের বাদ রেখে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে লটারী করে দেরিতে ধান সংগ্রহ করায় তাদের ঘরে ধান না থাকায় কার্ড সংগ্রহের জন্য কৃষকের দরজায় ব্যবসায়ীরা। ফলে কাংঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ মোট ২৬ হাজার ৫৩৯ জন কৃষি কাডধারী কৃষক রয়েছে। ওই সব কৃষকের নিকট থেকে ক্ষেতলাল খাদ্য গুদামে ৩২৭ মেট্রিক টন লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে গত ২৬ মে থেকে বোরো ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়।

কৃষি কার্ডধারী কৃষকরা ওই খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহ থাকলেও কর্তৃপক্ষ সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ না করে অবশেষে ৫০ শতক জমির নিচে ২ হাজার ৩৩৩ জন প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে লটারী করে ৬৩২ জন কৃষককে নির্বাচিত করে তাদের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, নির্বাচিত অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকের ঘরে বর্তমান ধান নেই। ধান নেই বলে তারা খাদ্য গুদামে ধান দেয়ার ব্যপারে কোনো খোঁজ খবর রাখেনি। লটারীতে নির্বাচিত কৃষকদের নিকট থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে ব্যাংক এ্যকাউন্টি খুলে দিয়ে তাদের কার্ডে ধান দেয়ার জন্য কৃষক প্রতি ১ হাজার টাকা দিতে চেয়ে পিছুপিছু ঘুরছে ব্যবসায়ীরা। ফলে সঠিক কৃষকের ধানদিয়ে ক্ষেতলাল খাদ্য গুদামে কাংখিত লক্ষ্য অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উপজেলার আনারুল সরদার, আঃ রশিদ, আলিম সরদার ও আব্দুস ছাত্তারসহ একাধিক নির্বাচিত প্রান্তিক কৃষক বলেন, মৌসুমের শুরুতে ধান কিনলে আমরা গুদামে ধান দিতে পারতাম। এখন আমাদের ঘরে আর ধান নেই, যত দামই দেকনা কেন ধান কোথায় পাবো। যারা পারে আমাদের বদলে গুদামে ধান দেক।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান বলেন, ক্ষেতলাল খাদ্য গুদামে ৩২৭ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করা হলেও শুরু থেকে এ পযর্ন্ত ১১ জন কৃষি কাডধারী কৃষক এবং ২ জন প্রান্তিক কৃষকের নিকট থেকে মাত্র ১২ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত