শিরোনাম

টুঙ্গিপাড়ায় নদী ভাঙ্গন রোধে অনিয়ম ও ধীরগতি

মোঃ সেলিম রেজা, গোপালগঞ্জ  |  ০০:২৩, জুন ২৫, ২০১৯

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঘিয়ারকুল নদী ভাঙ্গনরোধ প্যাকেজের জরুরী কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড গোপালগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া শহর সংলগ্ন বাঘিয়ারকুল নদীর ভাঙ্গনে মুন্সিপাড়ার রাস্তা ভেঙ্গে বাড়ী ঘর হুমকির মধ্যে পড়ে।

ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্যাকেজে ৩৫০ মিটারের কাজ শুরু করে। ৮টি প্যাকেজের কাজ ২৪ মার্চ থেকে জরুরি ভিত্তিতে শুরুর কার্যাদেশ দেওয়া হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইমদাদুল হক আল মামুন কনস্ট্রাকসন, মধুমতি কনস্ট্রাকসন, মেসার্স হাসান ট্রেডার্স, ওয়ারিদ এন্টারপ্রাইজ ও এমডি সাইদ শেখ কনস্ট্রাকসনকে। এসব প্রতিষ্ঠান জরুরী ভিত্তিতে ৪৭ হাজার ২৬৪ টি বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক এলাকাবাসী জানায়, ২৪ মার্চ কাজ শুরু করে জরুরী ভিত্তিতে এক মাসের মধ্যে ৮টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তিন মাসেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো। এছাড়াও যে পরিমান জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার কথা তা ফেলা হচ্ছে না। ফলে এ কাজে কতটা ভাঙ্গন রোধ হবে তা বলা মুশকিল।

বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনরোধে দ্রুত জিও ব্যাগে বালু ফেলার কাজ শেষ করতে না পারলে মুন্সীপাড়াবাসী বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেজের কাজেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। প্রতি জিওব্যাগে ২ শত কেজী বালু দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১ শত ৫০ কেজীর কম। মোটাবালির পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় নদী থেকে উত্তোলিত বালু।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) টুঙ্গিপাড়ার উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘জরুরী কাজে’ লাভের পরিমান কম ও কাজের টাকা পেতে দেরি হওয়ায় ঠিকাদাররা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় সময়মত কাজ শেষ করতে পারিনি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে ৮টি প্যাকেজের কাজ শেষ হবে। এছাড়া জিও ব্যাগে বালু ভরার ক্ষেত্রে কোনটায় ২শ কেজি, কোনটায় ২শ কেজির বেশি আবার কোন কোনটায় একটু কম হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা প্রতিটি জিও ব্যাগে বালুর গুণগত মান ও ওজন পরিমাপ করে জিওব্যাগে রং লাগিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই রং মারা জিও ব্যাগগুলি নদীতে ফেলা হয়। ফলে কাজের গুণগত মানের কোন হেরফের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কাজ শুরু করতে একটু দেরি হলেও ৩০ জুন কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত