শিরোনাম

৭ বছর যাবৎ বিনা বেতনে পাঠদান

গোপালপুরের আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এমপিও ভূক্তির দাবী শিক্ষকদের
হাফিজুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল)  |  ১৭:৩৮, জুন ১৯, ২০১৯

টাঙ্গাইলের গোপালপুর আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষরা প্রায় ৭ বছর যাবৎ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান দিয়ে আসছে। প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের মাঝে।

জানা যায়, সারাদেশে রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ৩০৮ টি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। তারা বিনা বেতনে সমাজের অবহেলিত পিছিয়ে পড়া অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদেরকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তার মধ্যে টাঙ্গাইলের গোপালপুর আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রায় ৭ বছর যাবৎ প্রায় সাড়ে ৩শ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে আসছে।

গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের দড়িসয়া গ্রামে বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়টির রয়েছে প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের আনা নেয়ার জন্য গাড়ীর ব্যবস্থ্যা। দুপুরের খাবারের ব্যবস্থ্যাও করেছেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠান পরিচালক সুরুজ্জামান।

২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে টাঙ্গাইল জেলা সমাজ সেবা অফিসার আ: হামিদ তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক দিক দেখে সন্তুষ্টি হয়ে প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের আনা নেয়ার জন্য একটি গাড়ী উপহার দেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানায়, আমাদের এলাকায় অনেক প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়ে রয়েছে। এরা আগে বাড়ীতেই থাকত শিক্ষা কী জিনিস তা তারা জানাত না।

আমাদের এলাকার সুরুজ্জামান তিনি এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি করার কারণে আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো দেখতে পাচ্ছে। তবে বিনা বেতনে সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা পাঠদান করাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী চাই যাতে সরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত এই বিদ্যালয়টি সুযোগ সুবিধা পায় এটাই আমাদের দাবী।

গোপালপুর আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষিক খোকন, বারেক, জান্নাতুল আফরিন আরাফ,জান্নাতুল আফরোজ মালা, লিপি খাতুন সহ সকলেই জানান, আমরা বিনা বেতনে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘ ৭ বছর যাবত শিক্ষাদান করে আসছি।

আমরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই আমাদের দাবী সরকার যাতে এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গুলো এমপিও ভূক্ত করেন তাহলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কে আরো উন্নত মানের পাঠদান করিয়ে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করা যাবে।

গোপালপুর আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপি খাতুন জানান, আমরা চাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ কে এগিয়ে নেয়ার লক্ষে সকল ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকা রাখছে তেমনি প্রতিবন্ধী স্কুল গুলোর প্রতি যেন সরকার যেন ভূমিকা পালন করে। এমপিও ভূক্তি করে দেয়। তাহলে শিক্ষার মান আরো উন্নত হতে দেশ ও জাতি কে এগিয়ে নেয়া যাবে।

গোপালপুর আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সুরুজ্জামান জানান, আমি যতটুকু পারি সমাজের পিছিয়ে থাকা প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আমার এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের সভাপতি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার মো: রফিকুল ইসলাম, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু , ঝাওয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ঝাওয়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম চাঁন।

আমি চাই যাতে সমাজের এই অবহেলিত প্রতিবন্ধীরা যাতে সমাজের বোঝা হয়ে না থেকে নিজেরা শিক্ষিত হয়ে কিছু করতে পারে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি যাতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলো এমপিও ভূক্ত করা হয়।

রান ডেভোলপমেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম নিক্রন তিনি জানান, আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টির লেখা পড়ার মান ভালো আমরা সর্বক্ষণিক নজরদারী করছি। এই বিদ্যালয়সহ সকল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গুলো এমপিওর জন্য সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।

রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ইলিয়াস রাজ জানান, রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সারাদেশে ৩০৮ টি অস্টিটিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। গোপালপুর আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে।

বিদ্যালয়টির পরিদর্শন প্রতিবেদন সহ চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। শিক্ষক শিক্ষিকাদের শতভাগ বেতন-ভাতার জন্য । তবে প্রতিবন্ধীরা ও তো মানুষ এদের শিক্ষা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকার আরো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলো এমপিও ভূক্ত করবে এটাই দাবী করছি।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত