শিরোনাম

শর্ত ভেঙ্গে উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া   |  ০৫:৫৮, জুন ১৬, ২০১৯

দেশের শীর্ষস্থানীয় বৃহৎ সরকারী মহাবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে জেষ্ঠ্যতা লংঘন ও শর্ত জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত উপাধ্যক্ষের কর্মস্থলে যোগদান বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষক অসন্তোষে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছেন, কলেজে উপাধ্যক্ষের বিদ্যমান শুন্যপদে নিয়োগের নিমিত্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত পত্রেও অসঙ্গতি ও শর্তজালিয়াতির বিষয় দৃষ্টি গোচর হওয়ায় তা অবহিত করে এই নিয়োগ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক বলছেন যা কিছু হয়েছে সরকারী বিধিমতে নিয়ম মেনেই হয়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, মো: মসলেম উদ্দিন ১৯৯৫ সালের ২২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্নাতকোত্তর হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন এবং উত্তীর্ন হন। পরে ১৯৯৬ সালের ২৪জানুয়ারী তিনি কুষ্টিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করে এমপিও ভুক্তির অনুমোদন পান ১মার্চ ১৯৯৭ সালে। অত:পর ১৫জুন, ২০০৬ সালে বেসরকারী কলেজ থেকে বিসিএস আত্তীকরণ সুবিধা নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

সর্বশেষ ৩০ মে, ২০১৯ তারিখে উপসচিব শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক সরকারী আদেশপত্রে তাকে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ৪জুন ২০১৮ থেকে নিয়োগ দানের কথা বলা হয়েছে যা বিধিসম্মত নয়; কারণ সরকারী একই প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পদে একসাথে দুইজনকে নিয়োগদান বিধি বহির্ভুত।

উল্লেখ্য পূর্ববর্তী উপাধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে দাপ্তরিক ভাবে বদলি হন ৯ জুন ২০১৮ তারিখে যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নথি সংরক্ষিত আছে।

আত্তীকরণ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্তির শর্তানুযায়ী শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মকালীন ১০বছর পূর্ণকরণসহ কর্মজীবনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বাক্ষর রেখেছেন এমন বিশেষ বিবেচনার কোটা সুবিধা নিয়ে বে-সরকারী কলেজ থেকে সরকারী কলেজে নিয়োগ পর্যন্ত সকল স্তরে অসত্য তথ্য সরবরাহ সহ অবৈধ প্রভাব কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন মো: মসলেম উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২৩ জুন ২০০৫ সালে বেসরকারী মহাবিদ্যালয় কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত সময়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শতকরা ১০% আত্মীকরণ নিয়োগদানের বিজ্ঞাপন দেয় (দৈনিক ইত্তেফাক) পত্রিকায় প্রকাশিত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব শহিদুল ইসলামের সহায়তায় এবং তার ভাইঝি’কে বিয়ে করার শর্তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ যোগ্যতা ছাড়াই এই সুবিধাপ্রাপ্ত হন।

যদিও নিয়োগ প্রাপ্তির পর তিনি সচিবের ভাইঝিকে বিয়ে করেন নি এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুনীর সাথে মেলামেশা করে প্রতারণা করার দায়ে ওই তরুনীর দেয়া অভিযোগে ২০০৭ সালে শিক্ষক মসলেম উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হররা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। পরে পক্ষগনের মধ্যে আপস মিমাংশায় সে যাত্রায় রেহায় পান তিনি। এরপর ২০১৭ সালে আরও একটি নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় তিনি জনরোষের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।

একই ভাবে অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদানের আপত্তি জানিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দরখাস্তে অভিযোগ- অনৈতিক ও অবৈধ প্রভাব দেখিয়ে কর্মস্থলে সমকর্মীদের সাথে অসদাচরণ, ছাত্রীদের সাথেও অশালীন আচরণে অভিযুক্ত শিক্ষক উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলে কলেজের শিক্ষক/শিক্ষর্থীরাও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। সেকারণে অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি তাদের।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মুঠোফোনে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্নরূপে অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য আপনাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মী হিসেবে অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে এমন বিশেষ কোন যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে দেখিনি যে, তিনি এঅঞ্চলের বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে পারবেন।

তাছাড়া কলেজের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ বিদ্যমান যা শিক্ষা পরিবেশ বিঘ্নের সামিল। বিষয়টির সুরাহা চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই চূড়ান্ত বলে মানতে হবে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত