শিরোনাম

পঙ্গু আব্দুল হাকিমের সংসার চলে ভিক্ষার টাকায়!

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  |  ১১:৫৩, জুন ১২, ২০১৯

কেউ পাঁচ টাকা কেউ বা আবার দুই টাকা। এভাবে সংসার চলে না বৃদ্ধ পঙ্গু আব্দুল হাকিমের। আব্দুল হাকিমের বয়স ৬৫ বছর। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের দড়িকাছিকাটা এলাকার মৃত-গোপাল প্রাং এর ছেলে। পাঁচ বছর আগেও স্ত্রী-মেয়ে নিয়ে ভালই চলছিলো তার সংসার। হঠাৎ করেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি।

তারপর থেকেই দুই পা অচল থাকায় হাঁটতে পারেনা। হুইল চেয়ারেই চলছে তার জীবন। তবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করার জন্য নেমেছেন ভিক্ষুকের পেশায়। গুরুদাসপুর উপজেলায় অবস্থিত কাছিকাটা টোল প্লাজার রাস্তার পাশে বসে থাকেন তিনি। সেখানেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিক্ষা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একটি সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে দেখা হয়ে যায় সেই ভিক্ষুক পঙ্গু আব্দুল হাকিমের সাথে। মহাসড়কের পাশেই বসে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের গাড়ি যাতায়াত করছে মহাসড়ক দিয়ে। হাত পেতে সহযোগিতা চাইছেন আব্দুল হাকিম।

অনেকইে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তাকে। কেউ পাঁচ টাকা কেউ বা আবার দুই টাকা। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সেখানে বসে থাকেন তিনি। দিন শেষে ১০০-১৫০ টাকা জমলে, সেটা দিয়েই বাড়ির জন্য চাল-ডাল কিনেন তিনি। মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে দুই টাকা পাঁচ টাকার কয়েন তার হাতে দিয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

কথা হয় পঙ্গু আব্দুল হাকিমের সাথে তিনি বলেন, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে আমি চলাফেরা করতে পারতাম। মাঠে গিয়ে কাজও করতাম। স্ত্রী-মেয়ে নিয়ে সংসার ভালই চলতো। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি দুর্ঘটনায় আমার দুই পা অকেজো হয়ে যায়। তারপর থেকেই আর হাটা-চলা করতে পারিনা। বাধ্য হয়েই ভিক্ষা-বৃত্তি করি। সকালে আমার স্ত্রী হুইল চেয়ারে করে নিয়ে এসে মহাসড়কের পাশে এই রাস্তায় রেখে যায়।

মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করা যাত্রীদের সহযোগিতায় চলছে সংসার। তবে কোন কোন দিন এক বেলা খেয়ে এক বেলা না খেয়েও থাকতে হয়। দিন শেষে ১০০-১৫০ টাকা জমে। কোন কোন দিনও তাও জমে না। সরকারের পক্ষ থেকে যদি একটা পঙ্গু ভাতা কার্ড করে দিতো তাহলে আমার আর ভিক্ষা করতে হতো না।

পঙ্গু হওয়ার পর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে কেউ এসে বলেনি এক খান ভাতা কার্ড করে দেই আপনাকে। পাঁচ বছর পরে আপনিই প্রথম এসে বললেন এক খান পঙ্গু ভাতা কার্ড করে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

কথা হয় মশিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মো.মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আমার কাছে কোন সময় আসেন নি। এবং তার বিষয়টি আমার জানাও ছিলো না। তবে জানলাম দ্রুত তার জন্য একটি ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত